ডারউইনের পুনর্জন্মে কতটা লড়বে বাংলাদেশ

টেস্ট ক্রিকেট ফিরছে ডারউইনে, পুরনো হ্যান্ডবিলের আদলে পোস্টারটার নকশা করেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। ২২ বছর পর যে মাঠে ফের টেস্ট ক্রিকেট হতে যাচ্ছে আগামীকাল থেকে, তার শুরুর সুরে তাই নস্টালজিয়াই প্রবল! ২০০৪ সালে বাবার সঙ্গে এই মাঠে খেলা দেখতে যাওয়া জেক ওয়েদারল্ড ডারউইনের পরের টেস্টে অস্ট্রেলিয়া দলে, মাঝে ২২টা বছর; এ যেন সিনেমার গল্প। এই গল্পে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের উপস্থিতি সামান্য।
২০১৯ সালে কলকাতা টেস্টের আবহটাও ছিল এরকম। ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম গোলাপি বলে টেস্ট, ইডেনে মুখোমুখি ভারত ও বাংলাদেশ। সৌরভ গাঙ্গুলি বিসিসিআই সভাপতি হওয়ার পর নিজের শহরে প্রথম টেস্ট, পদ্মার এপারের প্রধানমন্ত্রী আর ওপারের মুখ্যমন্ত্রী প্রথম দিনের অতিথি। এত আড়ম্বরে হারিয়েই গিয়েছিল বাংলাদেশ। ডারউইন টেস্ট শুরুর আগে অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যমেও বাংলাদেশ নেই। অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটাররাই স্পটলাইটে। টেস্ট র্যাংকিংয়ের এক নম্বর ব্যাটসম্যান ট্রাভিস হেডকে অনুশীলনে বোল্ড করেছেন চোট থেকে ফেরা নাথান লায়ন। ক্যামেরন গ্রিন আর কত সুযোগ পাবেন, এই প্রশ্ন তুলেছেন জেসন গিলেস্পি আর জশ হ্যাজেলউডের ৩০০ উইকেট কি প্রথম ইনিংসেই হয়ে যাবে নাকি পরের ইনিংসে? ২৯৫ উইকেটে দাঁড়িয়ে অস্ট্রেলিয়ার এ পেসার আর ৫ উইকেট নিলেই হবে ৩০০ টেস্ট উইকেট নেওয়া সপ্তম পেসার।
বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা প্রস্তুতি ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৪ রানে অলআউট হয়েছে, নাহিদ রানাও চোটের কারণে ডারউইনে নেই। তাই আপাতত বাংলাদেশ ঘিরে অস্ট্রেলিয়ার আগ্রহটা শূন্যের কাছাকাছি। যদিও তাসকিন আহমেদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের কাছে হারের অনুভূতিটা কেমন? এই পেসার উত্তরে বলেছেন, ‘ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে হেরে যাওয়ার অনুভূতিটা একদমই ভালো ছিল না। তবে ক্রিকেটে এমনটা হতেই পারে। এখানকার কন্ডিশন ও উইকেটের সঙ্গে আমরা দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। ম্যাচটা হারলেও আমাদের প্রস্তুতি ভালো হয়েছে এবং আশা করছি মূল খেলায় আমরা দারুণ পারফর্ম করতে পারব।’
অ্যাশেজ জিততে ১১ দিন লেগেছিল অস্ট্রেলিয়ার, ইংল্যান্ডই আড়াই থেকে তিন দিনের ভেতর ম্যাচ হেরেছে অস্ট্রেলিয়ায় এসে। সেখানে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কতটুকু সেটা সহজেই অনুমেয়। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও দেশ ছাড়ার আগে সংবাদ সম্মেলনে জানতে চেয়েছিলেন তাদের কাছে বাস্তবসম্মত প্রত্যাশা কী? উত্তরে ‘ভালো খেলা’ ছাড়া আর কোনো কিছুই বলার ছিল না সাংবাদিকদেরও।
লম্বা একটা মৌসুম শুরু হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার, টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেললে আগামী ১২-১৩ মাসে অস্ট্রেলিয়াকে খেলতে হবে ২০টি টেস্ট। নিয়মিত ক্রিকেটারদের চ্যালেঞ্জ ফর্মটা ধরে রাখা আর অনিয়মিতদের লক্ষ্য বাংলাদেশের বিপক্ষে ভালো করে নিয়মিতদের চাপের মুখে ফেলা। জেক ওয়েদারল্ড, বিউ ওয়েবস্টার কিংবা স্কট বোল্যান্ডদের মতো ক্রিকেটার নিয়েই তাই ভয়টা বেশি। কারণ ইতিহাস বলে, বাংলাদেশ সিলেবাসের বাইরের প্রশ্নেই ফেল করেছে বেশি!




