মুশফিক-লিটনদের তীব্র প্রতিবাদ
‘দেশের কোনো নাগরিকের সঙ্গে এমনটা হতে পারে না ’

সংগৃহীত ছবি
জাতীয় দলের অফস্পিনার নাঈম হাসানকে চট্টগ্রামে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে মারধর ও হেনস্তার ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছে দেশের ক্রিকেট মহল। গতকাল শুক্রবার রাতে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ শেষে চট্টগ্রাম ফেরার পথে লালখানবাজার এলাকায় এই অপ্রীতিকর ঘটনার শিকার হন তিনি। একজন জাতীয় ক্রিকেটারকে এভাবে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করার প্রতিবাদে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তার সতীর্থ ও জাতীয় দলের সিনিয়র ক্রিকেটার লিটন দাস এবং মুশফিকুর রহিম।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন দাস লিখেছেন, ‘মাথা উঁচু রাখো নাঈম। তুমি একজন চমৎকার মানুষ। নাঈম হাসানের সঙ্গে যা ঘটেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। ওকে এমন একটা কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে দেখাটা সত্যিই হৃদয়বিদারক। একজন সহকর্মী ও সতীর্থ হিসেবে আমি এই ঘটনায় গভীরভাবে ব্যথিত।’
লিটন তাঁর পোস্টে দেশের সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়টিও তুলে ধরেন। তিনি আরও যোগ করেন, ‘এই দেশের কোনো নাগরিকের সঙ্গে এমন আচরণ কাম্য নয়, বিশেষ করে একজন জাতীয় ক্রিকেটার, যিনি অত্যন্ত গর্বের সাথে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। আমি এই ঘটনার একটি সুষ্ঠু ও সঠিক তদন্ত আশা করছি এবং যাতে খুব দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হয়, সেই প্রার্থনা করছি। নাঈম, আমরা তোমার পাশে আছি।’
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন জাতীয় দলের অভিজ্ঞ উইকেটকিপার-ব্যাটার মুশফিকুর রহিমও। নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে মুশফিক লিখেছেন, “নাঈমের সঙ্গে যা ঘটেছে, তা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
নিজের পরিচয় দেওয়ার পরও নাঈমকে যেভাবে ‘আসামি’ বলে কলার চেপে ধরা এবং লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়েছে, তা একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে মেনে নিতে পারছেন না মুশফিক। তিনি লিখেছেন, ‘যা ঘটেছে, তা আমাকে ব্যথিত ও lজ্জিত করেছে। একজন নাগরিক হিসেবে, একজন বাংলাদেশি হিসেবে আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। নাঈম, আমরা তোমার পাশে আছি।’
উল্লেখ্য, শুক্রবার রাত ১০টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে নেমে বাসায় ফেরার পথে একটি সিএনজি অটোরিকশায় চড়ে যাচ্ছিলেন নাঈম। লালখানবাজার টোল প্লাজার কাছে খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম ও এক সোর্স তার গতিরোধ করেন। নাঈম নিজের পরিচয়পত্র দেখানোর পরও তা কানে না তুলে তাঁকে জোরপূর্বক গাড়িতে তোলা হয় এবং ‘তুই আসামি’ বলে শারীরিক নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ করেন নাঈম। পরে থানায় নিয়ে যাওয়ার পর বিভিন্ন মহল থেকে ফোন আসার পর পুলিশ নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে তাকে ছেড়ে দেয়। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই তিন পুলিশকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।




