২১ বছরের ক্যারিয়ারে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলবেন মুশফিক

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বর্ষীয়ান ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম। ২১ বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার তার। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই দীর্ঘ সময়ে কখনই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলা হয়নি তার। হবে কী করে, বাংলাদেশই তো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়েছে ২৩ বছর পর! আগামী ১৩ আগস্ট ডারউইনের মারিয়ারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে মাঠে নামলেই ঘুচবে মুশফিকের আক্ষেপ।
৩৯ বছর বয়সী মুশফিক বাংলাদেশের ক্রিকেটের সোনালী প্রজন্মের ‘ফ্যাব ফাইভ’ বা সেরা পাঁচ ক্রিকেটারের অন্যতম। তার সমসাময়িক বাকি চার তারকা—মাশরাফি বিন মুর্তজা, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ এরই মধ্যে মাঠের ক্রিকেট থেকে দূরে সরে গেছেন। কিন্তু ফিটনেস আর পরিশ্রমের আদর্শ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা মুশফিক এখনো খেলে যাচ্ছেন টেস্ট ক্রিকেট। ডারউইনের ডিএক্সসি অ্যারেনায় টাইগারদের প্রথম অনুশীলনেই মাঠে ঘাম ঝরাতে দেখা গেছে মুশফিককে। বাংলাদেশের একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে শতাধিক টেস্ট খেলা মুশফিক এই ফরম্যাটে ৩৯.১১ গড়ে ৬ হাজার ৮০৬ রান করেছেন। ১৪টি সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন, যার মধ্যে তিনটি আবার ডাবল সেঞ্চুরি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাঠে ২০১৭ সালে দুই ম্যাচে এক ফিফটিতে করেছিলেন ১৫৮ রান।
মিরপুরের সেই ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মুশফিক। ওই ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের কাছে মুশফিক আশা প্রকাশ করেছিলেন যে, অজিদের বিপক্ষে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলার সুযোগ হয়তো খুব দ্রুতই আসবে। কিন্তু সেই সুযোগ আসতে সময় লাগল প্রায় এক দশক। ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে এসে অবশেষে সেই অপূর্ণতা দূর হতে চলেছে মুশফিকের। অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশন ও পেস আক্রমণ মোকাবিলায় নিজের প্রস্তুতিতে কোনো কমতি রাখছেন না এই অভিজ্ঞ উইকেটকিপার-ব্যাটার। প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজলউডের মতো বোলারদের ইনসুইং সামলানোর জন্য বিশেষ অনুশীলন করেছেন। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ায় উইকেটের বাউন্স ও কন্ডিশন মাথায় রেখে কিছুটা হালকা ব্যাট ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যাতে উইকেটের চারপাশ দিয়ে শট খেলতে সুবিধা হয়।
প্রধান নির্বাচক ও সাবেক বাংলাদেশ অধিনায়ক হাবিবুল বাশার মনে করেন, দীর্ঘ এই পরিশ্রমের দারুণ এক স্বীকৃতি পেতে চলেছেন মুশফিক। ‘ক্রিকবাজ’কে তিনি বলেন, ‘প্রতিটি টেস্ট ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ, সেটা জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হলেও। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে মুশফিকের হয়তো এটাই শেষ টেস্ট সিরিজ হতে যাচ্ছে। সে নিশ্চয়ই এই সিরিজে বিশেষ কিছু করার চেষ্টা করবে এবং সে এটা (অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলা) ডিজার্ভ করে।’






