পাইপলাইনে প্রতিভার খোঁজ মিলেছে

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে প্রতিযোগিতা থাকে, থাকে নিজের বয়সীদের সঙ্গে পারফর্ম করার তাড়না। কিন্তু বড়দের সঙ্গে একই মাঠে নেমে তাদের সামলানোর অভিজ্ঞতা তরুণদের খুব কমই হয়। সেই সুযোগ করে দিতেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আয়োজন করেছিল গেম ডেভেলপমেন্ট কাপ (জিডি কাপ)।
অনূর্ধ্ব-১৭, ১৯ ও ২৩ ক্রিকেটারদের নিয়ে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টের লক্ষ্য ছিল বয়সের সীমা পেরিয়ে প্রতিযোগিতার অভিজ্ঞতা দেওয়া, যেন ছোটরা বড় পর্যায়ের ক্রিকেটের চ্যালেঞ্জের সঙ্গে আগেভাগেই পরিচিত হতে পারে।
বুধবার বৃষ্টিবিঘ্নিত ফাইনালে অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে পেছনে ফেলে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের শিরোপা জয় বিসিবির এ আয়োজনের সার্থকতা প্রমাণ করে। তবে ট্রফি জয়ের হিসাব পাশে রাখলে জিডি কাপের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ছিল, তিন বয়সের ক্রিকেটারদের একই প্রতিযোগিতায় মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ।
বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ শাফাক আল জাবেরের মতে, উদ্যোগটি ক্রিকেটারদের জন্য ভালো একটি প্রতিযোগিতার মঞ্চ তৈরি করেছে।
বয়সভিত্তিক ক্রিকেটারদের নিয়ে লম্বা সময় কাজ করা সাবেক ক্রিকেটার শাফাক বলেছেন, ‘এটা ভালো উদ্যোগ। ক্রিকেটারদের জন্য ভালো প্রতিযোগিতা হয়েছে। নির্বাচকরাও প্রতিটি ম্যাচ দেখেছেন। ভালো কিছু ক্রিকেটারকে আমরা ফাইন্ড আউট করতে পেরেছি।’
টুর্নামেন্ট থেকে ক্রিকেটারদের নিজেদের পজিশনে পারফর্ম করার সুযোগ মিলেছে বলেও জানিয়েছেন শাফাক। তার মতে, ‘যে উদ্দেশ্য নিয়ে জিডি কাপ শুরু করা হয়েছিল, তার বড় একটি অংশই পূরণ হয়েছে। এখন অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটারদের ক্যাম্প, অনূর্ধ্ব-১৭ ক্রিকেটারদের ক্যাম্প এবং অনূর্ধ্ব-২৩ ক্রিকেটারদের জাতীয় লিগে খেলার সুযোগ আসবে। অর্থাৎ জিডি কাপ শেষ হলেও তাদের সামনে নতুন প্রতিযোগিতা অপেক্ষা করছে।’
এমন অভিজ্ঞতাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন তরুণ পেসার আবদুর রাহিমও। অবশ্য আগেই ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ ও জাতীয় লিগে খেলার অভিজ্ঞতা হয়েছে মাত্র ১৫ বছর বয়সী এই পেসারের। রাজশাহীর হয়ে নওগাঁর এই কিশোর নিয়েছিল ৬ উইকেট। এ ছাড়া গত ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে গুলশান ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে ৯ ম্যাচে ১৫ উইকেট নিয়েছিল। বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলা এই কিশোরের জন্য প্রতিযোগিতার চ্যালেঞ্জ নতুন নয়, কিন্তু জিডি কাপ নতুন হয়ে দেখা দিয়েছে।
এ আসরকে আরেকটি শেখার সুযোগ হিসেবে দেখা রাহিম বলেছে, ‘যেকোনো পর্যায়ে, যেকোনো প্রতিযোগিতায় খেলতে পারলে ভালো লাগে। সিনিয়ররা ছিলেন, তাদের কাছ থেকে অনেক কিছু শেখা যায়। অভিজ্ঞতাও বাড়ছে। এ ছাড়া তামিম-মুশফিক ভাইয়ের মতো লিজেন্ড ক্রিকেটাররা এসেছিলেন। তাদের সামনে থেকে দেখা, পরামর্শ নেওয়াও অনেক আনন্দের ও শিক্ষণীয় ছিল। তাদের কাছ থেকে বড় পর্যায়ে খেলতে হলে কেমন শৃঙ্খলা, মানসিকতা ও পেশাদারিত্বের প্রয়োজন— সেই জায়গাগুলো জানতে পেরেছি।’
তবে জিডি কাপের সবচেয়ে বড় মূল্যায়ন সম্ভবত নির্বাচকদের চোখে। বয়সভিত্তিক পর্যায়ের নির্বাচক শামসুর রহমান শুভ মনে করেন, ‘তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় দলের ক্রিকেটার খুঁজে বের করা এই টুর্নামেন্টের উদ্দেশ্য ছিল না। ভবিষ্যতের ক্রিকেটারদের বড় পর্যায়ের জন্য প্রস্তুত করতে চেয়েছি আমরা। যেখানে বড়দের সঙ্গে খেলতে কী ধরনের স্ট্রেন্থ, টেকনিক ও মানসিকতা দরকার— সেগুলো ১৭ বছরের ছেলে নিজে থেকেই শিখবে। ছোট বয়স থেকে নিয়মিত এমন কিছু শিখলে ওরাই সব বুঝতে পারবে।’
শামসুরের মতে, জিডি কাপ নিয়মিত আয়োজন করা গেলে ভবিষ্যতের পাইপলাইন তৈরির কাজ আরও সহজ হবে। কোন ক্রিকেটারকে কোন পর্যায়ের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে, সেটি নিয়ে বিসিবি ও নির্বাচকদের পরিকল্পনাও হবে আরও পরিষ্কার।



