তাইজুলের ঘূর্ণিতেই জয়ের সৌরভ

পাকিস্তানের সঙ্গে দেশের মাটিতে প্রথম টেস্ট সিরিজ জয়ের অপেক্ষা টেস্টের চতুর্থ দিন থেকেই। বাবর আজম, শান মাসুদ বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, তাদের ফেরানোর পরও অপেক্ষা দীর্ঘতর হচ্ছিল। সেটা একসময় শঙ্কায় রূপ নেয়। ম্যাচ হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে না তো! সালমান আলি আগা ও মোহাম্মদ রিজওয়ান ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে তিন ঘণ্টায় যোগ করেন ১৩৪ রান। জুটি ভাঙা যাচ্ছে না কোনোভাবেই!
অবশেষে বাংলাদেশ নেয় দ্বিতীয় নতুন বল। সবাই তাকিয়ে নাহিদ রানা বা তাসকিনের দিকে। কিন্তু নাজমুল হোসেন শান্ত বিশ্বাস রেখেছেন তাইজুলে। বিশ্বাস বাস্তবে রূপ দিয়েছেন এই বাঁহাতি স্পিনার। নতুন বল হাতে নিয়ে ভাঙলেন জুটি। স্বস্তির নিশ্বাস ছড়িয়ে গেল বাংলাদেশ শিবিরে। সঙ্গে সঙ্গে শঙ্কা উড়িয়ে ফিরে আসে জয়ের সৌরভও।
বাংলাদেশ ৪৩৭ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল পাকিস্তানকে। টেস্টে কখনো এত রান তাড়া করেনি কোনো দল। তাই বলে কি হতে পারে না! নাজমুল শান্তদের সেই পরিণতির শঙ্কায় ফেলছিল সালমান-রিজওয়ান জুটি। জয়ের লক্ষ্যমাত্রা দুইশর নিচে নিয়ে আসেন দুজনে। কিন্তু ১৪ মিনিটের ব্যবধানে টেস্টের রঙ বদলে দিলেন তাইজুল।
নতুন বল হাতে ইনিংসের ৮২তম ওভারে তার চতুর্থ বলটি অর্থডক্স বাঁহাতি স্পিনারদের মতোই। সালমান আগা বুঝে নিলেন পরের বলটিও ঘুরবে। কিন্তু এবার হলো উল্টো। ফলাফল ব্যাট-প্যাডের ফাঁক গলে বোল্ড। ১০২ বলে ৭১ রানে ফিরলেন, থামল ১৩৪ রানের জুটি।
এক ওভার পর আবারও তাইজুলের আঘাত। এবার আর্ম বল নয়, বাঁহাতি স্পিনে খোঁচা মেরে উইকেট দিয়েছেন হাসান আলি। আলো স্বল্পতায় কয়েক ওভার আগেই শেষ হয় দিনের খেলা, নয়তো তাইজুলের ঘূর্ণিতে চতুর্থ দিনেই ইতিহাস গড়ত বাংলাদেশ।
প্রতিপক্ষের দ্বিতীয় ইনিংসে তাইজুলের ভালো করার অভ্যাসটা পুরনো। ২০১৪ সালে অভিষেকেই ৫ উইকেট নিয়েছিলেন। এরপর এমন সাফল্য আছে আরও চারবার। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে আসা বোলিং কোচ শন টেইট তাই তাইজুলের দলের ভরসার কথা বলেছেন, ‘অবশ্যই দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ বোলার হিসেবে তার ওপর আমাদের বিশ্বাস ছিল। বিশেষ করে অধিনায়কের বিশ্বাস ছিল। নতুন বলেও তাকে আক্রমণে আনতে দ্বিধা করেনি শান্ত।’
টেইটের কাছে মজা লেগেছে সালমানের বোল্ডটি। ওই আউটেই তো ম্যাচের মোড় ঘুরে গেছে, ‘আমরা অপেক্ষায় ছিলাম নতুন বলে যেকোনো একটি ডিলেভারি স্কিড করবে। সেটা যে এত জলদি হবে, তা ভাবিনি।’ তাইজুল নিয়েছেন ৪ উইকেট, আজ আরও একবার ইনিংসে ৫ শিকারের অপেক্ষায় তিনি।






