শতভাগ ব্যর্থ তারপরও হতাশা গ্রাস করেনি আরচারিকে

সংগৃহীত ছবি
নাগোয়া স্টেশনের ঠিক সামনে এক বিশাল বিপনীর প্রবেশ মুখে দেখা হয়ে যায় তিন আরচারের সঙ্গে। আজই শেষ হয়েছে খেলা, সম্ভাবনাময় ইভেন্ট থেকে পদকের সম্ভাবনাও শেষ। শূন্য হাতে দেশে ফেরার আগে আপনজনের জন্য টুকিটাকি উপহার কেনার জন্য ছুটছিলেন তারা। কোনো কোনো সফলতা মিলল না, জানতে চাইলে একজন জোর গলায় বললেন, “এবার পাইনি। সামনে দেখবেন ঠিকই পেয়ে যাবো।”
আরচারি থেকে পদকের আশা ছিল মঙ্গলবার পর্যন্ত। ওকাজাকি চুসোগো পার্কে সকালে লড়াইয়ে নেমেছিলেন রিকার্ভের একক ইভেন্টে বাংলাদেশের চার আরচার। এর মধ্যে একজন মাত্র প্রি-কোয়ার্টার পর্যন্ত যেতে পেরেছিলেন। আরচারি ইভেন্টের সর্বকনিষ্ঠ প্রতিযোগী সায়মা সালাউদ্দিন রাউন্ড অব ১৬-এর ম্যাচে ফিলিপাইনের তাগলে নাইনাকে হারালেও ভারতের আনিলের কাছে সরাসরি ৬-০ সেটে হেরে বিদায় নেন। রিকার্ভ নারী এককে আরেক প্রতিযোগী শিমু আক্তার প্যালেস্টাইনের রাশাকে সরাসরি ৬-০ সেট পয়েন্টে হারিয়ে ১/১৬ পর্বে আসেন। তবে চীনের জুয়ের কাছে ৬-০ সেটে হারেন। রিকার্ভ পুরুষ ইভেন্টে আব্দুর রহমান আলিফ ৬-০ সেট পয়েন্টে থাইল্যান্ডের তানাকর্নকে হারালেও দক্ষিণ কোরিয়ার লি’র কাছে ৬-২ সেটে হেরে বিদায় নেন। রামকৃষ্ণ সাহা কাজাখস্তানের ডাউলেটকেডির কাছে হেরে বিদায় নেন।
জার্মান কোচ মার্টিন ফ্রেডরিক পুরো আসরে শিষ্যদের পারফরম্যান্সের ব্যবচ্ছেদ করতে গিয়ে হতাশা প্রকাশ করলেন, ‘এটা অবশ্যই আমাদের জন্য তিক্ত অভিজ্ঞতার। সামগ্রিকভাবে পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্ট নই। এশিয়ান গেমসে অন্যরা আমাদের চেয়ে ভালো করেছে। অথচ গত কয়েক মাস আমাদের বেশ ভালো প্রস্তুতি ছিল। দেশে আমাদের স্কোরও বেশ ভালো ছিল। অনেক দিন ধরে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা ছিল না, ঠিক আছে, তবে আমরা যে প্রস্তুতি নিয়েছিলাম তা আন্তর্জাতিক মানের দিক থেকে বেশ ভালোই। তবে সেটা আমরা এখানে ফুটিয়ে তুলতে পারিনি। সবকিছুই আমাদের অনুকূলে ছিল, আবহাওয়াও ভালো ছিল। আমি আরও বেশি কিছু আশা করছিলাম, এ কারণেই কিছুটা হতাশ হয়েছি।’
আরচারি ফেডারেশনের সভাপতি কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল বলেছেন, কোথায় ঘাটতি, সেটা এই নাগোয়া শহর থেকে জেনে নিয়েছেন। দেশে ফিরে পরিকল্পনা সেভাবেই করবেন, যাতে পদক নিয়ে আর আক্ষেপ করতে না হয়। খুব অল্প সময়ে বাংলাদেশের আরচাররা আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করেছে বলেই তাদের ঘিরে তৈরি হয়েছে প্রত্যাশা। নিয়মিতই তারা এশিয়া পর্যায়ে পদকও জিতছে। এশিয়ান গেমসে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না আসায় একটু তো হতাশ হতেই হয়। ‘
এবার ১০ ইভেন্টের কোনোটিতেই সেমিফাইনাল পৌঁছাতে পারেনি বাংলাদেশ। চপল ব্যর্থতার মাঝেই দেখছেন আশার আলো, ‘সবার পদকের প্রত্যাশা করে। আমরাও করেছি। পাইনি বলে মোটেই হতাশ না। কোথায় আমাদের কমতি, সেটা আমরা জানি। সেভাবেই আমরা পরিকল্পনা সাজাবো। সাত বছরের একটা লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি।’
এই গেমসের আগে ক্রীড়া সরঞ্জামাদির একটি ফর্ম বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের কাছে দিয়েছিল আরচারি ফেডারেশন। অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন অবশ্য কিছুই দেয়নি। চপল তাই বলে কাউকে দায় দিতে চাইছেন না, ‘বাস্তবতা ও সীমাবদ্ধতা আমাদের জানা, তাই কাউকে দায় দিবো না। এটা ঠিক, এই পর্যায়ে লড়াই করতে যে সরঞ্জাম প্রয়োজন তার সব আমরা আরচাদের হাতে তুলে দিতে পারিনি। তারপরও বলবো, আগে অন্য দেশের আরচারদের সঙ্গে আমাদের ব্যবধান ছিল ১৬-২০। এখন সেটা ১৯-২০ হয়েছে।’
দীর্ঘ ৯ বছর বাংলাদেশের আরচারি নিয়ে কাজ করছেন জার্মান কোচ মার্টিন ফ্রেডরিক। শত সীমাবদ্ধতার মাঝেই ফ্রেডরিক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ফেডারেশন ভাবছে ফ্রেডরিকের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা অন্যভাবে কাজে লাগানোর কথা, ‘ফ্রেডরিক অনেক বড় মাপের কোচ। তবে তাকে এক সঙ্গে সব দিক সামলাতে হয়। যেটা তার জন্য কঠিন। আমরা অচিরেই একজন কম্পাউন্ড কোচ নিয়োগ দেবো। যিনি হবেন মার্টিনের কাছাকাছি মানের। এছাড়া নারীদের জন্যও আমরা একজন নারী কোচ বিদেশ থেকে নিতে চাই।’
আগামী বছর মার্চে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হবে এসএ গেমস। ২০১৯ সালে দশ ইভেন্টেই সোনা জিতে চমকে দেওয়া বাংলাদেশের আরচারদের এবার প্রস্তুতি নিতে হবে শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার জন্য। এশিয়ান গেমসের শিক্ষা কাজে লাগাতে ফেডারেশনও নিতে যাচ্ছে বেশ কিছু উদ্যোগ। হয়তো অচিরেই মার্টিন ফ্রেডরিকের কোচিং টিমে দেখা যাবে একাধিক বিদেশি কোচ।



