নক্ষত্রও একদিন ঝরে যায়

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
কদিন আগে ক্লদিও ক্যানিজিয়া ঢাকা সফরে এসে বলেছিলেন, ‘মেসি চাইলেই আরেকটি বিশ্বকাপ খেলতে পারে।’ মেসি ভক্তরাও ছিলেন এই প্রত্যাশায়। কিন্তু বিশ্ব জুড়ে কোটি হৃদয়কে মুহূর্তের জন্য থমকে দিয়ে, অগণিত ভক্তের মনে প্রশ্ন রেখে লিওনেল মেসি বিদায় জানিয়ে দিলেন তার চিরচেনা সেই রাজ্যকে। সুদূর আর্জেন্টিনা থেকে শুরু করে এ দেশেও ভক্তদের এখন একটাই চর্চা— মেসি কি ঠিক সিদ্ধান্ত নিলেন নাকি আরেকটু থেকে যেতে পারতেন!
যে মানুষটি মাস দেড়েক আগেও বিশ্বকাপের মঞ্চ মাতিয়েছেন ৮ গোল আর ৪ অ্যাসিস্ট দিয়ে, কয়েক দিন আগে ইন্টার মায়ামির হয়ে ৪ গোল করে প্রমাণ করলেন বয়সের খাতা শুধুই কিছু সংখ্যার হিসাব— তার জন্য ৩৯ বছর বয়সটা তো কোনো বাধাই ছিল না। সবুজ ক্যানভাসে এখনো ফুটবলের মোহ ছড়ানো মানুষটি আকাশি-সাদা জার্সিটি তুলে রাখলেন পূর্ণ প্রদীপের আলোতেই। যশের চূড়ায় দাঁড়িয়েই তিনি আকাশি রূপকথার ইতি টেনে দিলেন, ‘আপনাদের কল্পনাতীত কিছু সুন্দর মুহূর্ত উপহার দিতে পারার গর্ব ও মানসিক শান্তি নিয়ে আমি বিদায় নিচ্ছি।’
একসময় প্রবল সমালোচনায় বিদ্ধ হয়েছিলেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনার ট্রফি খরা আর কোপার ফাইনালে হার বিশ্বকাপে বারবার হৃদয়ভাঙার ইতিহাস তাকে ফেলে দিয়েছিল চাপের মুখে। প্রশ্ন উঠেছিল তার সামর্থ্য নিয়েও। তখন অনেকেই ভাবতে পারেনি ফুটবল দেবতা তার জন্য কী তুলে রেখেছিলেন।
২০২১ ও ২৪ সালে টানা দুটি কোপা আমেরিকা জিতিয়ে জাদুকর প্রথম দূর করেন আর্জেন্টাইনদের মনের সংশয়। এরপর ২০২২ সালে কাতারে ৩৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আর্জেন্টিনাকে উপহার দিয়েছেন পরম আরাধ্য বিশ্বকাপ শিরোপা। যে সংশয় দিয়ে গল্পের শুরু হয়েছিল, তার শেষটা হলো পূর্ণতার চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছে। যে দেশ একসময় স্পন্দিত হতো শুধু ডিয়েগো ম্যারাডোনার নামে, সেই দেশের প্রতিটি প্রান্তর আজ অবলীলায় মেসিময়।
বার্সেলোনার হয়ে চারটি চ্যাম্পিয়নস লিগ, ১০টি লা লিগাসহ মোট ৩৫টি ট্রফি জিতেছেন মেসি। এ ছাড়া আটটি ব্যালন ডি’অর ও ছয়টি ইউরোপিয়ান গোল্ডেন বুট জিতেছেন। কাতালুনিয়া থেকে বুয়েনস আইরেস— সবখানেই তিনি এক সর্বজয়ী রাজা। যার ঝুলিতে ফুটবলের প্রতিটি স্বপ্নই সত্যি হয়ে ধরা দিয়েছে।
এই বিদায়ও আর্জেন্টাইন জাদুকরকে রেখে গেল সবার চেয়ে আলাদা করে, সবার চেয়ে শ্রেষ্ঠ করে। যখন আর কিছু পাওয়ার বাকি থাকে না, তখনই হয়তো রাজারা পথ ছেড়ে দেন। শেষ বাঁশি বেজে গেছে, কিন্তু সবুজ ঘাসে ফেলে যাওয়া তার প্রতিটি পদচিহ্ন ফুটবলের ইতিহাসে খোদাই হয়ে থাকবে চিরকাল।







