৭ সারথি
মতের মিল না হওয়ায় মন্ত্রিত্ব ছাড়েন সাইদুজ্জামান

এম সাইদুজ্জামান (জন্ম: ২৭ অক্টোবর ১৯৩৩)
তিন হরিণের ছবি যুক্ত ১ টাকার কাগজের নোট তৃতীয়বার যেবার বাজারে এলো তাতে এম সাইদুজ্জামানের স্বাক্ষর ছিল। সাল ১৯৮৩, তখন তিনি অর্থ সচিব। পরিকল্পনা সচিব থাকাকালেও প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়নে ভূমিকা রাখেন তিনি।
১৯৮৪ সালে এরশাদ সরকারের অর্থ উপদেষ্টা এম সাইদুজ্জামান ১৯৮৬ সালে একই সরকারের মন্ত্রিসভায় অর্থমন্ত্রী হিসেবে যোগ দেন। ১৯৮৪-৮৫ অর্থবছরে এম সাইদুজ্জামান ৬ হাজার ৬৯৯ কোটি, ১৯৮৫-৮৬ অর্থবছরে ৭ হাজার ১৩৮ কোটি, ১৯৮৬-৮৭ অর্থবছরে ৮ হাজার ৫০৪ কোটি ও ১৯৮৭-৮৮ অর্থবছরে ৮৫২৭ কোটি টাকার বাজেট দিয়েছিলেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয়ে একমত হতে না পেরে এরশাদের মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন তিনি।
জন্মেছিলেন ব্রিটিশ ভারতের কিশোরগঞ্জে। জন্মতারিখ ২৭ অক্টোবর ১৯৩৩। ১৩ ভাইবোনের মধ্যে দ্বিতীয় এম সাইদুজ্জামান ১৯৫১ সালে ঢাকা কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা দিয়ে আইএসসিতে প্রথম স্থান লাভ করেন। এরপর ১৯৫৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যায় স্নাতকোত্তর এবং ১৯৬৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের উইলিয়ামস কলেজ থেকে উন্নয়ন অর্থনীতিতে দ্বিতীয় স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।
আরেক প্রয়াত সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন এম সাইদুজ্জামান। সরকারি চাকরিতে তারা সহকর্মীও ছিলেন। এক স্মৃতিচারণায় তিনি বলেন, ‘এক সাথে আমরা বন্ধু ছিলাম, বহু বছরের পরিচয় আমাদের। ১৯৫১ থেকে ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত সলিমুল্লাহ হলে ছিলাম। মুহিত পড়তেন ইংরেজিতে আর আমি পদার্থবিদ্যা বিভাগে। তিনি আইএতে ফার্স্ট হলেন, আমি আইএসসিতে ফার্স্ট হলাম একই বছরে। বলতে পারেন সারাজীবনের বন্ধু ছিলাম আমরা।’
বহু দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক সংস্থায় দায়িত্ব পালন করেছিলেন এম সাইদুজ্জামান। ১৯৮৬ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত তিনি আন্তর্জাতিক খাদ্যনীতি গবেষণা ইনস্টিটিউটের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ছিলেন। ১৯৯৯ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত ছিলেন বাংলাদেশ রাইস ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের ট্রাস্টি বোর্ডেরও সদস্য ছিলেন তিনি। পেশাগত জীবনে তিনি একজন সৎ ও দক্ষ আমলা হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছিলেন।




