৭ সারথি
এরশাদ দল গঠন করলে মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেন মুহিত

আবুল মাল আবদুল মুহিত (২৫ জানুয়ারি ১৯৩৪ – ৩০ এপ্রিল ২০২২)
২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে শুরু করে ২০১৮-১৯ পর্যন্ত টানা ১০ বাজেট পেশ করা অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ছিলেন এক বৈচিত্র্যময় পরিচয়ের মানুষ। একাধারে একজন অর্থনীতিবিদ, রাজনীতিবিদ, কূটনীতিক, পরিবেশবিদ, আমলা, লেখক-গবেষক, ভাষাসৈনিক ও মুক্তিযোদ্ধা। জন্মেছিলেন সিলেট শহরের ধোপাদীঘির পাড়ে। ক্যালেন্ডারে পাতায় দিনটা ছিল ১৯৩৪ সালের ২৫ জানুয়ারি।
সিলেটের খ্যাতনামা রাজনৈতিক পরিবারের একজন হওয়ার সুবাদে কৈশোরেই মুহিতের রাজনীতিতে হাতেখড়ি। ১৯৪৮ সালে যোগ দেন প্রগতিশীল ছাত্ররাজনীতিতে। ভাষা আন্দোলনে ছিল সক্রিয় ভূমিকা। ১৯৪৯ সালে ম্যাট্রিক পাস করেন সিলেটের সরকারি পাইলট হাই স্কুল থেকে। আর আইএ পাস করেন ১৯৫১ সালে, সিলেটের মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজ থেকে। এরপর শুরু উচ্চশিক্ষার যাত্রা।
ছিলেন কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম নেতা। একই সময়ে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ হল ছাত্র সংসদের যুগ্ম সম্পাদকও (১৯৫২-৫৩) নির্বাচিত হন। ১৯৫৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম। ১৯৫৫ সালে একই বিষয়ে এমএ। এরপর অক্সফোর্ড ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাজনৈতিক অর্থনীতির ওপর উচ্চতর ডিগ্রি।
তার ‘দূরদর্শী’ ভূমিকার কারণে বিশ্বমন্দার ধাক্কা সামলে উঠেছিল বাংলাদেশ
মুহিত ১৯৫৬ সালে পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসে (সিএসপি) যোগ দেওয়ার পর তৎকালীন পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার, পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক সরকার এবং পরে বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে পরিকল্পনা সচিব এবং ১৯৭৭ সালে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বহিঃসম্পদ বিভাগে নিযুক্ত হন সচিব পদে।
স্বেচ্ছায় চাকরি থেকে অবসর নেন ১৯৮১ সালে। এরপর তৎকালীন এরশাদ সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবে ১৯৮২-এর মার্চ থেকে ১৯৮৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। পরে জেনারেল এরশাদ ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার লক্ষ্যে রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দিলে মুহিত স্বেচ্ছায় মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করেন। পাড়ি জমান বিদেশে।
১৯৯০ সালে সামরিক শাসনের অবসান হলে জড়িত হন দেশের বিভিন্ন প্রগতিশীল, রাজনৈতিক ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে। ২০০৮-০৯ সালে বিশ্বমন্দার ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা এসেছিল। সে সময় অর্থমন্ত্রী ছিলেন আবুল মাল আবদুল মুহিত। অনেকের মতে, তাঁর ‘বাস্তববাদী’ এবং ‘দূরদর্শী’ ভূমিকার কারণেই অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছিল বাংলাদেশ।
আবুল মাল আবদুল মুহিত বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ, আইডিবি এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশে পরিবেশ আন্দোলনেরও পুরোধা আবুল মুহিত। বাপার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন তিনি। ২০২২ সালের ৩০ এপ্রিল তিনি ঢাকায় মারা যান।




