ছাত্রশিবিরকে আম্মারের চ্যালেঞ্জ

সংগৃহীত ছবি
রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার যে ইসলামী ছাত্রশিবির করতেন, তা এতদিন ছিল অপ্রকাশ্য। সম্প্রতি ছাত্রশিবির জানায়, কিছু অভিযোগে দেড় বছর আগে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল তাকে। সেই অভিযোগ প্রমাণে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন ছাত্রশিবিরকে।
ছাত্রশিবিরকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে নিজের ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আম্মার।
‘গোটা বাংলাদেশের শিবির (সাথে পাকিস্তান শিবিরকেও নিয়েন) প্রতি চ্যালেঞ্জ-০১’ শিরোনামের এ পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আমি টাকার বিনিময়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পদ দিয়েছি প্রমাণ দেন।’
এ অভিযোগকে অপপ্রচার উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন, ‘যেহেতু মিথ্যা অপপ্রচার করেন আপনারা, আপনাদের প্যাডে মানুষকে নিয়ে এটা মুনাফেকির চরম পর্যায়। সাহস থাকলে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন। একটা পদ বাণিজ্যের প্রমাণ দেখান।’ ভবিষ্যতে ছাত্রশিবিরকে আরও চ্যালেঞ্জ দেওয়ার কথাও বলেছেন আম্মার।
সর্বশেষ রাকসু নির্বাচনে শিবিরের ‘ডামি প্যানেল’ হিসেবে আলোচিত ‘আধিপত্যবিরোধী ঐক্য’প্যানেল থেকে জিএস নির্বাচিত হন সালাউদ্দিন আম্মার। তবে নিজের শিবির সংশ্লিষ্টতার কথা বরাবরই অস্বীকার করে আসেন তিনি।
পরে ওই প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মেহেদী সজীব রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলে ফের আলোচনায় আসে আম্মারের শিবির সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি।
এরপর আম্মারের শিবির সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি প্রকাশ পায় সংগঠনটির রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মুজাহিদ ফয়সালের সই করা একটি চিঠিতে।
গত ৩১ আগস্ট সই করা ওই চিঠিতে বলা হয়, রাজশাহী নগর ভবন থেকে ল্যাপটপ চুরি, মহানগর ছাত্রশক্তির পদ বাণিজ্য, আর্থিক অনিয়ম, নারীদের সঙ্গে ‘অবাধ বিচরণ’সহ বিভিন্ন অভিযোগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মারকে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ‘সাথী’ পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরে অভিযোগের যথাযথ জবাব দিতে ব্যর্থ হওয়ায় একই বছরের সেপ্টেম্বরে তাকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
এতদিন পর তথ্য সামনে আনার বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেছেন, ‘আমাদের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কেউ বহিষ্কার হলে এসব তথ্য বাইরে প্রকাশ করার নিয়ম নেই। কারণ মানুষ মাত্রই ভুল হতে পারে।’
তিনি জানান, আম্মার তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসায় পড়ার সময় শিবিরের সাথী হয়েছিলেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পরও ছাত্রশিবিরের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা ছিল।



