শিক্ষিকার ভিডিও ভাইরালের নেপথ্যে ছিলেন সাংবাদিক পরিচয়ধারী তরুণ

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে স্কুলশিক্ষিকা বিউটি পালের ভিডিও ভাইরাল করার নেপথ্যে ছিলেন সাংবাদিক পরিচয়ধারী তরুণ। এমনটাই জানালেন ওই শিক্ষিকা। এক সাক্ষাৎকারে বিউটি পাল জানালেন, তিনি ওই সাংবাদিক, তাকে ফলো করতেন সামাজিকমাধ্যমে। তো স্কুলের ওই রিল দেখেই ফোন করেন, তারপর নিজের ‘ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিদিন’ ফেসবুক পেজে ভিডিওটি ছড়িয়ে দেন।
তবে এই ঘটনার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সমর্থন পেয়েছেন বিউটি। তিনি বলেছেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আমাকে সাপোর্ট করেছেন। তারা বলেছেন, আপনি এমন কিছু করেননি। আমরা তো আপনার কো-কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিজ (সহ-শিক্ষা কার্যক্রম) সম্পর্কে জানি। আমরা জানি আপনি কী বা আপনি কেমন। তাই এ বিষয়ে কোনো চিন্তা করার প্রয়োজন নেই।’
এই ঘটনায় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর সমর্থনও পেয়েছেন জানিয়ে বিউটি বলছেন, ‘আর শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ আমার বিষয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, এটা আমি মনে করি আমার জন্য সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হয়ে গেছে। আমার আর কিছু বলার নেই। শিক্ষকরা শান্তিতে থাকুক। সমাজেও শান্তি বিরাজ করুক।’
রিল প্রসঙ্গে তিনি বলছেন, ‘রিলস কিভাবে বানায় এ বিষয়ে আমি আমার এক সহকর্মীকে জিজ্ঞেস করছিলাম। উনি বললেন, আপনাকে স্কুল ছুটির পর রিলস কিভাবে বানাতে হয় দেখাব। আপনি হেঁটে যান, ভিডিও করি, দেখবেন কীভাবে হয়। আমি হেঁটেছি। সেটা ছিল স্বাভাবিক হাঁটা। আর প্রচুর বাতাস ছিল। আপনারা এখন আমাদের স্কুলে আছেন, দেখছেন প্রচুর বাতাস। আমার সহকর্মী তখন দেখিয়ে দিলেন কীভাবে ফেসবুকে গিয়ে রিলস বানিয়ে একটা গান দিয়ে আপলোড করতে হয়।’
প্রাইভেসি মেন্টেন করেন জানিয়ে বিউটি বললেন, ‘তখন আমার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে এটি আপলোড দেই। আমার (ফেসবুকে) খুবই সীমিত ফ্রেন্ড। আমি শিক্ষকসমাজের ব্যক্তিত্ব বজায় রেখে চলি, প্রাইভেসি বজায় রেখে চলি। আমি তাই এত বেশি ফ্রেন্ড রাখিনি ফেসবুকে। রাখতেও চাই না।’
সাংবাদিক পরিচয়ধারী তরুণ ভিডিওটি ছড়িয়ে জানিয়ে শিক্ষিকা বলছেন, ‘‘ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিদিন’-এর একটি ফেসবুক পেজ থেকে নেতিবাচক ক্যাপশন দিয়ে আসিফ ইকবাল ইরন নামে এক প্রবাসী তরুণ ভিডিওটি ছড়িয়ে দেন। তিনি ‘ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিদিন’ পত্রিকার প্রতিনিধি। আমি কিছুদিন আগে সিলেট জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হয়েছি। কয়েকটি পত্রিকা আমাকে নিয়ে নিউজ করেছিল। নিউজ করার পর সাংবাদিকদের ফলো দিতে গিয়ে এড ফ্রেন্ড অপশনটা আসে। তখন ওই লোক যে ফেসবুকে আমাকে দেখছে, বা আমার বিষযে কী কী তথ্য সংগ্রহ করে রেখেছে, তা আমি জানি না। ঘটনার পরে তিনি (ইরন) আমাকে কল করেন।’’
বিউটির ভাষ্য, ‘আমি উনাকে বলি যে এ বিষয়টা তো এমন কিছু না। এটা নিয়ে এত বেশি মাথা না ঘামালেই মনে হয় ভালো হতো। সমাজ ও দেশের জন্য মঙ্গল হতো। কিন্তু তিনি বললেন, আপনার অপরাধ হইছে। এটা স্কুলের আঙিনা। অথচ আমাদের কারিকুলামে নাচ, গান, শিল্প-সংস্কৃতি সব আছে। আমরা স্কুলে নতুন বর্ষ উদযাপন করি।’





