বয়োজ্যেষ্ঠ ও জ্ঞানীদের সম্মানে ইসলামের শিক্ষা

প্রতীকী ছবি
একটি সমাজের সৌন্দর্য শুধু তার উন্নত ভবন, প্রযুক্তি কিংবা অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে নয়; বরং সেই সমাজ তার বয়োজ্যেষ্ঠ, জ্ঞানী ও দায়িত্বশীল মানুষদের কতটা সম্মান করে, তার মধ্যেও প্রকাশ পায়। বয়স মানুষকে অভিজ্ঞতা দেয়, জ্ঞান মানুষকে আলোকিত করে আর ন্যায়পরায়ণতা একজন দায়িত্বশীল মানুষকে সমাজের আস্থার প্রতীকে পরিণত করে। ইসলাম তাই সম্মানের একটি সুন্দর সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চেয়েছে। কে কত ধনী বা ক্ষমতাবান, তা নয়; বরং বয়স, জ্ঞান ও ন্যায়পরায়ণতার মতো মর্যাদার কারণগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) মুসলিম সমাজকে শিখিয়েছেন কাকে কীভাবে সম্মান করতে হবে। এ প্রসঙ্গে আবূ মূসা আল-আশ‘আরী (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
إِنَّ مِنْ إِجْلَالِ اللَّهِ إِكْرَامَ ذِي الشَّيْبَةِ الْمُسْلِمِ، وَحَامِلِ الْقُرْآنِ غَيْرِ الْغَالِي فِيهِ وَالْجَافِي عَنْهُ، وَإِكْرَامَ ذِي السُّلْطَانِ الْمُقْسِطِ
আবু মুসা আল-আশ’আরী (রা.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, নিশ্চয়ই বৃদ্ধ মুসলিমকে সম্মান করা, কোরআনের ধারক-বাহক ও ন্যায়পরায়ণ শাসকের প্রতি সম্মান দেখানো মহান আল্লাহর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অন্তর্ভুক্ত। (আবু দাউদ, ৪৮৪৩)
এই হাদিস আমাদের শেখায়, সম্মান প্রদর্শন কেবল সামাজিক ভদ্রতা নয়, এটি আল্লাহর প্রতি সম্মানেরও বহিঃপ্রকাশ। একজন বৃদ্ধ মুসলিমের প্রতি সম্মান তার দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতার প্রতি শ্রদ্ধা; কোরআনের ধারক-বাহকের প্রতি সম্মান আল্লাহর বাণীর প্রতি শ্রদ্ধা; আর ন্যায়পরায়ণ শাসকের প্রতি সম্মান ন্যায় ও দায়িত্ববোধের প্রতি শ্রদ্ধা। তাই আমাদের পরিবারে বয়োজ্যেষ্ঠদের অবহেলা নয়, ভালোবাসা ও মর্যাদা দিতে হবে; আলেম ও কোরআনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানুষদের সম্মান করতে হবে এবং সমাজে ন্যায়পরায়ণ নেতৃত্বকে মূল্য দিতে হবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম যেন প্রবীণদের অপ্রয়োজনীয় মনে না করে, বরং তাদের অভিজ্ঞতাকে জীবনের সম্পদ হিসেবে গ্রহণ করে। এমন সম্মানবোধই একটি মানবিক, নৈতিক ও ইসলামী সমাজ নির্মাণের ভিত্তি হতে পারে।



