দোয়া কবুলের সবচেয়ে উপযুক্ত সময়

প্রতীকী ছবি
দোয়া মুমিনের অন্যতম শক্তি। মানুষ যখন নিজের সামর্থ্যের সীমা অতিক্রম করে কোনো প্রয়োজনের মুখোমুখি হয়, তখন সে ফিরে যায় সেই সত্তার কাছে; যার কাছে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়। দোয়া শুধু প্রয়োজন পূরণের আবেদন নয়; বরং বান্দার সঙ্গে আল্লাহর সম্পর্কেরও গভীর প্রকাশ। তবে দোয়া সব সময় করা গেলেও কিছু সময় ও মুহূর্ত এমন রয়েছে, যেগুলোকে কোরআন-হাদিসে দোয়া কবুলের বিশেষ সময় হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ সময় হলো রাতের শেষ তৃতীয়াংশ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
يَنْزِلُ رَبُّنَا تَبَارَكَ وَتَعَالَى كُلَّ لَيْلَةٍ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا حِينَ يَبْقَى ثُلُثُ اللَّيْلِ الآخِرُ يَقُولُ مَنْ يَدْعُونِي فَأَسْتَجِيبَ لَهُ مَنْ يَسْأَلُنِي فَأُعْطِيَهُ مَنْ يَسْتَغْفِرُنِي فَأَغْفِرَ لَهُ
‘মহামহিম আল্লাহ তাআলা প্রতি রাতে রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকাকালে পৃথিবীর নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করে ঘোষণা করতে থাকেন, কে আছে এমন, যে আমাকে ডাকবে? আমি তার ডাকে সাড়া দিব। কে আছে এমন যে, আমার নিকট চাইবে? আমি তাকে তা দিব। কে আছে এমন আমার নিকট ক্ষমা চাইবে? আমি তাকে ক্ষমা করব।’ (বুখারি, হাদিস: ১১৪৫; মুসলিম, হাদিস: ৭৫৮)
পবিত্র কোরআনেও রাতের শেষভাগে ইবাদতকারীদের প্রশংসা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘তারা রাতের সামান্য অংশই নিদ্রায় অতিবাহিত করত এবং ভোরের আগে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করত।’ (সুরা যারিয়াত, আয়াত : ১৭-১৮)
সিজদার সময়ও দোয়ার বিশেষ মুহূর্ত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
أَقْرَبُ مَا يَكُونُ الْعَبْدُ مِنْ رَبِّهِ وَهُوَ سَاجِدٌ، فَأَكْثِرُوا الدُّعَاءَ
‘বান্দা তার রবের সবচেয়ে নিকটবর্তী হয় সিজদার অবস্থায়। সুতরাং তোমরা তখন বেশি বেশি দোয়া করো।’ (মুসলিম, হাদিস: ৪৮২)
আজানের পর থেকে ইকামত পর্যন্ত সময়টিও দোয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
لَا يُرَدُّ الدُّعَاءُ بَيْنَ الأَذَانِ وَالإِقَامَةِ
‘আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ে করা দোয়া প্রত্যাখ্যাত হয় না।’ (আবু দাউদ, হাদিস: ৫২১; তিরমিজি, হাদিস: ২১২)
জুমার দিনেও এমন একটি বিশেষ মুহূর্ত রয়েছে, যখন দোয়া কবুলের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) জুমার দিন সম্পর্কে আলোচনা করেন এবং বলেন,
فِيهِ سَاعَةٌ لاَ يُوَافِقُهَا عَبْدٌ مُسْلِمٌ وَهُوَ قَائِمٌ يُصَلِّي يَسْأَلُ اللهَ تَعَالَى شَيْئًا إِلاَّ أَعْطَاهُ إِيَّاهُ
‘জুমার দিনে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, কোনো মুসলিম বান্দা সেই মুহূর্তে নামাজরত অবস্থায় আল্লাহর কাছে কিছু চাইলে আল্লাহ তাকে তা অবশ্যই দান করেন।’ (বুখারি, হাদিস: ৯৩৫) তবে এই হাদিসে এ কথঅও বলে দেয়া আছে যে, সে সময়টি খুবই কম।
তবে আমাদের মনে রাখতে হবে যে. দোয়া কবুলের জন্য শুধু সময়ের সন্ধান যথেষ্ট নয়। দোয়ার সঙ্গে থাকতে হবে হালাল উপার্জন, আন্তরিকতা, তাওবা, আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা এবং ধৈর্য।
তাই দোয়ার জন্য কোনো একটি মুহূর্তের অপেক্ষায় না থেকে প্রতিটি সময়কে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করার সুযোগ হিসেবে নেওয়া উচিত। তবে রাতের শেষ প্রহর, সিজদা, আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়, জুমার বিশেষ মুহূর্তকে বিশেষভাবে কাজে লাগানো মুমিনের জন্য সৌভাগ্যের বিষয়। কারণ দোয়ার দরজা সব সময় খোলা থাকলেও; কিছু মুহূর্ত সেই দরজায় কড়া নাড়ার জন্য বিশেষভাবে উপযুক্ত।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক





