দোয়া কবুল না হওয়ার কারণ ও করণীয়

প্রতীকী ছবি
দোয়া মুমিনের সবচেয়ে শক্তিশালী আশ্রয়। কারণ মানুষ জানে যখন সব দরজা তার জন্য বন্ধ হয়ে যায়, তখনও আল্লাহর দরজা তার জন্য খোলা থাকে। কিন্তু অনেক সময় দোয়া করার পরও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না। এতে কেউ কেউ হতাশ হয়ে দোয়া ছেড়ে দেন। অথচ ইসলামের শিক্ষা হলো, দোয়া কখনোই বৃথা যায় না। আল্লাহ কখনো বান্দার প্রার্থনা সঙ্গে সঙ্গে কবুল করেন, কখনো তার বিনিময়ে কোনো বিপদ দূর করেন, আবার কখনো তা আখিরাতের জন্য সঞ্চিত রাখেন।
দোয়া কবুলের অন্যতম বড় বাধা হলো হারাম উপার্জন ও হারাম ভক্ষণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) এমন এক ব্যক্তির কথা বলেছেন, যে দীর্ঘ সফরে ধূলিমলিন অবস্থায় হাত তুলে ‘হে আমার রব, হে আমার রব’ বলে দোয়া করে, অথচ তার খাদ্য, পানীয় ও পোশাক হারাম এবং সে হারাম দ্বারা লালিত। এরপর নবীজি (সা.) প্রশ্ন করেছেন, ‘তাহলে তার দোয়া কীভাবে কবুল হবে?’ (মুসলিম, হাদিস: ১০১৫)। তাই দোয়া কবুলের জন্য হালাল উপার্জন ও পবিত্র জীবন অত্যন্ত জরুরি।
গুনাহের ওপর অবিচল থাকা, অন্যের হক নষ্ট করা এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করাও দোয়া কবুলের পথে বাধা হতে পারে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে দোয়া করলে, তাতে গুনাহ বা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার বিষয় না থাকলে আল্লাহ তাকে তিনটির একটি দান করেন: হয় তার দোয়া কবুল করেন, অথবা অনুরূপ কোনো অনিষ্ট দূর করেন, অথবা আখিরাতের জন্য তা সঞ্চিত রাখেন। (মুসনাদ আহমদ, হাদিস : ১১১৩৩)
দোয়া কবুলের জন্য তাড়াহুড়ো করাও পরিহার করতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কারও দোয়া ততক্ষণ কবুল হতে থাকে, যতক্ষণ না সে তাড়াহুড়ো করে বলে, আমি দোয়া করেছি, কিন্তু আমার দোয়া কবুল হয়নি।’ (বুখারি, হাদিস : ৬৩৪০) তাই দোয়া করা পর তা কবুল হতে দেরি হলেও আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া যাবে না।
দোয়ার আগে তওবা ও ইস্তিগফার করা, হালাল রিজিকের প্রতি যত্নবান হওয়া এবং নিজের ভুল-ত্রুটি সংশোধন করা জরুরি। দোয়ার সময় আল্লাহর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রাখতে হবে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘আমি প্রার্থনাকারীর প্রার্থনা কবুল করি, যখন সে আমার কাছে প্রার্থনা করে।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৮৬)
দোয়া কবুলের জন্য উত্তম সময়গুলোও কাজে লাগানো উচিত, যেমন সিজদার সময়, রাতের শেষ তৃতীয়াংশ এবং আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়। সর্বোপরি দোয়ার পাশাপাশি বৈধ উপায় অবলম্বন করে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। কারণ মুমিনের দায়িত্ব প্রার্থনা করা, চেষ্টা করা এবং ফলাফলের ভার আল্লাহর ওপর ছেড়ে দেওয়া।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক





