Agamir Somoy E-Paper
বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬
আগামীর সময়
দেশে-বিদেশে মানুষের পাশে জিয়াউল হক
বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় ইসলাম

শিঙ্গায় ফুঁ দেওয়ার দিনের ভয়াবহতা

মুফতি সাইফুল ইসলাম
মুফতি সাইফুল ইসলাম
agamir somoy
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:১১
শিঙ্গায় ফুঁ দেওয়ার দিনের ভয়াবহতা

প্রতীকী ছবি

মানুষের পরিচিত পৃথিবী একদিন হঠাৎ তার চেনা রূপ হারাবে। যে আকাশের নিচে মানুষ স্বপ্ন দেখে, যে মাটির ওপর দাঁড়িয়ে সভ্যতা নির্মাণ করে, যে পাহাড়কে সে পৃথিবীর দৃঢ়তার প্রতীক মনে করে, যে সমুদ্রকে দেখে তার অসীমতার কথা ভাবে, সেদিন সবকিছুর পরিচিত বিন্যাস ভেঙে পড়বে। সূর্য, চন্দ্র, নক্ষত্র, পাহাড়, সাগর; কোনো কিছুই নিজ অবস্থায় থাকবে না। শুরু হবে এমন এক মহাদিবস, যার সামনে মানুষের সব শক্তি, সম্পদ, প্রযুক্তি ও সভ্যতার অহংকার মুহূর্তেই অর্থহীন হয়ে যাবে।

এই মহাবিপর্যয়ের সূচনার সঙ্গে কোরআন যে শব্দটিকে যুক্ত করেছে, তা হলো ‘সুর’ বা শিঙ্গা। মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন,

وَ نُفِخَ فِی الصُّوۡرِ فَصَعِقَ مَنۡ فِی السَّمٰوٰتِ وَ مَنۡ فِی الۡاَرۡضِ اِلَّا مَنۡ شَآءَ اللّٰهُ ؕ ثُمَّ نُفِخَ فِیۡهِ اُخۡرٰی فَاِذَا هُمۡ قِیَامٌ یَّنۡظُرُوۡنَ

‘আর শিঙ্গায় ফুঁ দেওয়া হবে; ফলে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যারা আছে তারা সবাই বেহুঁশ হয়ে পড়বে, তবে আল্লাহ যাদের ইচ্ছা করেন তারা ছাড়া। অতঃপর আবার তাতে ফুঁ দেওয়া হবে; তখন তারা দাঁড়িয়ে তাকাতে থাকবে।’ (সুরা যুমার, আয়াত : ৬৮)

এই আয়াত কিয়ামতের মহাবিপর্যয়ের দুটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ের দিকে ইঙ্গিত করে। প্রথম পর্যায়ে বর্তমান জগতের অবসান আর দ্বিতীয় পর্যায়ে পুনরুত্থান। তবে কোরআনের বিভিন্ন আয়াত ও সহিহ হাদিস একত্রে পড়লে বোঝা যায়, কিয়ামতের ঘটনাপ্রবাহ অত্যন্ত ব্যাপক ও বহুস্তরীয়।

‘সুর’ বা শিঙ্গা আসলে কী?

পবিত্র কোরআন কিয়ামতের সঙ্গে ‘সুর’-এর সম্পর্ক একাধিকবার উল্লেখ করেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি হাদিসে ‘সুর’-এর প্রকৃতি সম্পর্কে এসেছে-

 الصُّورُ قَرْنٌ يُنْفَخُ فِيهِ

‘সুর একটি শিং এর ন্যায়, তাতে ফুঁ দেয়া হবে।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৭৪২)

অতএব এটি নিছক কোনো প্রতীকী শব্দ নয়; ইসলামী আকিদায় সুর হলো সেই শিঙ্গা, যাতে আল্লাহর নির্দেশে ফুঁ দেওয়া হবে এবং সঙ্গেই কিয়ামতের মহাপরিবর্তন ও পুনরুত্থানের ঘটনা সম্পৃক্ত।

শিঙ্গায় ফুঁ দেওয়ার আগেই শুরু হবে মহাভয়

কিয়ামত হঠাৎ এসে পড়বে। মানুষ তখন পার্থিব জীবন নিয়ে ব্যস্ত থাকবে। কেউ ব্যবসা করবে, কেউ সম্পদ নিয়ে ব্যস্ত থাকবে, কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায়। কিন্তু আল্লাহর নির্ধারিত মুহূর্ত উপস্থিত হলে পৃথিবীর সব হিসাব থেমে যাবে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,

تَقُومُ السَّاعَةُ وَالرَّجُلُ يَحْلُبُ اللِّقْحَةَ فَمَا يَصِلُ الإِنَاءُ إِلَى فِيهِ حَتَّى تَقُومَ وَالرَّجُلاَنِ يَتَبَايَعَانِ الثَّوْبَ فَمَا يَتَبَايَعَانِهِ حَتَّى تَقُومَ وَالرَّجُلُ يَلِطُ فِي حَوْضِهِ فَمَا يَصْدُرُ حَتَّى تَقُومَ

 ‘এক লোক তার উষ্ট্রী দোহন করবে; কিন্তু পাত্র তার মুখের নিকটে পৌছার আগেই কিয়ামত সংঘটিত হয়ে যাবে। অনুরূপভাবে দু’ লোক কাপড় ক্রয়-বিক্রয়ে ব্যতিব্যস্ত থাকবে। তারা ক্রয়-বিক্রয় শেষ না করতেই কিয়ামত সংঘটিত হয়ে যাবে। এমনিভাবে এক লোক তার হাওয মেরামত করতে থাকবে। কিন্তু মেরামত শেষ করে মুখ ফিরাবার আগেই কিয়ামত এসে উপস্থিত হবে। (মুসলিম, হাদিস ২৯৫৪)

অর্থাৎ কিয়ামত মানুষের প্রস্তুতির সুযোগ রেখে আসবে না। তাই তওবা, সংশোধন ও নেক আমলের সময় হলো এখনই।

প্রথম ফুঁ : পৃথিবীর বর্তমান অধ্যায়ের সমাপ্তি

পবিত্র কোরআনের আয়াতে এই দিনের ভয়াবহতা স্পষ্ট করে বলা হয়েছে-

فَإِذَا نُفِخَ فِي الصُّورِ نَفْخَةٌ وَاحِدَةٌ

 وَحُمِلَتِ الْأَرْضُ وَالْجِبَالُ فَدُكَّتَا دَكَّةً وَاحِدَةً

 فَيَوْمَئِذٍ وَقَعَتِ الْوَاقِعَةُ

‘অতঃপর যখন শিঙ্গায় একবার ফুঁ দেওয়া হবে, আর পৃথিবী ও পাহাড়সমূহকে তুলে নেওয়া হবে এবং একবারের আঘাতে চূর্ণ করে দেওয়া হবে, সেদিনই সংঘটিত হবে মহাঘটনা।’ (সুরা হাক্কাহ, আয়াত : ১৩–১৫)

যে পাহাড়কে মানুষ অটল মনে করে, সেদিন সেই পাহাড়েরও অস্তিত্ব বর্তমান রূপে থাকবে না।

ইরশাদ হয়েছে-

وَيَوْمَ نُسَيِّرُ الْجِبَالَ وَتَرَى الْأَرْضَ بَارِزَةً

‘সেদিন আমি পাহাড়গুলোকে পরিচালিত করব এবং তুমি পৃথিবীকে উন্মুক্ত দেখতে পাবে।’ (সুরা কাহফ, আয়াত : ৪৭)

আর সুরা আল-কারিয়াহতে বলা হয়েছে,

وَتَكُونُ الْجِبَالُ كَالْعِهْنِ الْمَنفُوشِ

‘আর পাহাড়গুলো হবে ধুনিত পশমের মতো।’ (সুরা কারিয়াহ, আয়াত : ৫)

অন্যদিকে সূরা আত-তাকভীরে পৃথিবীর মহাবিপর্যয়ের আরও কিছু দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে:

إِذَا الشَّمْسُ كُوِّرَتْ

وَإِذَا النُّجُومُ انكَدَرَتْ

 وَإِذَا الْجِبَالُ سُيِّرَتْ

‘যখন সূর্যকে গুটিয়ে নেওয়া হবে, যখন নক্ষত্রগুলো ঝরে পড়বে এবং যখন পাহাড়গুলোকে চলমান করা হবে।’ (সুরা তাকভীর, আয়াত : ১–৩)

অর্থাৎ কিয়ামত কেবল মানুষের মৃত্যুর ঘটনা নয়; এটি সমগ্র দৃশ্যমান মহাবিশ্বের বর্তমান ব্যবস্থার অবসান।

দ্বিতীয় ফুঁ: কবর থেকে বেরিয়ে আসবে মানুষ

প্রথম পর্যায়ের পর আল্লাহর নির্দেশে আবার শিঙ্গায় ফুঁ দেওয়া হবে। তখন শুরু হবে পুনরুত্থান।

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে-

ثُمَّ نُفِخَ فِيهِ أُخْرَىٰ فَإِذَا هُمْ قِيَامٌ يَنظُرُونَ

‘অতঃপর আবার তাতে ফুঁ দেওয়া হবে; তখন তারা দাঁড়িয়ে তাকাতে থাকবে।’ (সুরা যুমার, আয়াত : ৬৮)

আর সুরা ইয়াসিনে এসেছে,

وَنُفِخَ فِي الصُّورِ فَإِذَا هُم مِّنَ الْأَجْدَاثِ إِلَىٰ رَبِّهِمْ يَنسِلُونَ

 قَالُوا يَا وَيْلَنَا مَن بَعَثَنَا مِن مَّرْقَدِنَا ۗ هَٰذَا مَا وَعَدَ الرَّحْمَٰنُ وَصَدَقَ الْمُرْسَلُونَ

‘আর শিঙ্গায় ফুঁ দেওয়া হবে; তখন তারা কবর থেকে তাদের প্রতিপালকের দিকে দ্রুত ছুটে যাবে। তারা বলবে, হায় আমাদের দুর্ভাগ্য! কে আমাদের নিদ্রাস্থল থেকে উঠিয়ে দিল?—এটাই তো দয়াময় আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং রাসুলগণ সত্য বলেছিলেন।’ (সুরা ইয়াসিন, আয়াত : ৫১–৫২)

দুনিয়ার মানুষ মৃত্যুকে জীবনের সমাপ্তি মনে করলেও ইসলামের দৃষ্টিতে মৃত্যু সমাপ্তি নয়, বরং আখিরাতের পথে প্রবেশদ্বার। কবরের নীরবতা একদিন ভেঙে যাবে। প্রত্যেক মানুষকে তার রবের সামনে দাঁড়াতে হবে।

সেদিন মানুষ ছুটবে, কিন্তু জানবে না কোথায়

পুনরুত্থানের পর মানুষ হাশরের ময়দানে সমবেত হবে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে-

یَوۡمَ یَخۡرُجُوۡنَ مِنَ الۡاَجۡدَاثِ سِرَاعًا كَاَنَّهُمۡ اِلٰی نُصُبٍ یُّوۡفِضُوۡنَ

‘সেদিন তারা কবর থেকে দ্রুত বের হয়ে আসবে, যেন তারা কোনো স্থাপিত লক্ষ্যের দিকে ছুটছে।’ (সুরা মাআরিজ, আয়াত : ৪৩)

এটি এমন এক সমাবেশ, যেখানে কেউ নিজের ইচ্ছায় আসবে না। রাজা ও প্রজা, ধনী ও দরিদ্র, শিক্ষিত ও অশিক্ষিত, ক্ষমতাবান ও ক্ষমতাহীন—সবাই একই ময়দানে দাঁড়াবে।

মানুষ নিজের সবচেয়ে আপনজনকেও ভুলে যাবে

দুনিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী সম্পর্কগুলোর একটি হলো রক্তের সম্পর্ক। কিন্তু কিয়ামতের ভয়াবহতায় মানুষ নিজের ভাই, মা-বাবা, স্ত্রী ও সন্তান থেকেও পালাবে।

মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন,

يَوْمَ يَفِرُّ الْمَرْءُ مِنْ أَخِيهِ

 وَأُمِّهِ وَأَبِيهِ

 وَصَاحِبَتِهِ وَبَنِيهِ

 لِكُلِّ امْرِئٍ مِّنْهُمْ يَوْمَئِذٍ شَأْنٌ يُغْنِيهِ

‘সেদিন মানুষ পালাবে তার ভাই থেকে, তার মা ও তার বাবা থেকে, তার স্ত্রী ও সন্তানদের থেকে। সেদিন প্রত্যেক মানুষের এমন অবস্থা হবে যা তাকে অন্যের চিন্তা থেকে সম্পূর্ণ ব্যস্ত রাখবে।’ (সুরা আবাসা, আয়াত : ৩৪–৩৭)

এই আয়াত মানুষের আত্মপরিচয় ও জবাবদিহির এক গভীর বাস্তবতা প্রকাশ করে। পৃথিবীতে মানুষ অনেক সময় অন্যের পরিচয়ে নিজেকে নিরাপদ মনে করে। কিন্তু কিয়ামতের ময়দানে প্রত্যেককে নিজের আমলের হিসাব দিতে হবে।

কিয়ামতের কম্পনে মানুষ নেশাগ্রস্তের মতো হয়ে যাবে

কিয়ামতের ভয়াবহতা বোঝাতে মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন,

يٰۤـاَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوۡا رَبَّكُمۡ​ۚ اِنَّ زَلۡزَلَةَ السَّاعَةِ شَىۡءٌ عَظِيۡمٌ‏

يَوۡمَ تَرَوۡنَهَا تَذۡهَلُ كُلُّ مُرۡضِعَةٍ عَمَّاۤ اَرۡضَعَتۡ وَتَضَعُ كُلُّ ذَاتِ حَمۡلٍ حَمۡلَهَا وَتَرَى النَّاسَ سُكٰرٰى وَمَا هُمۡ بِسُكٰرٰى وَلٰـكِنَّ عَذَابَ اللّٰهِ شَدِيۡدٌ‏

‘হে মানুষ! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো। নিশ্চয়ই কিয়ামতের কম্পন এক ভয়ংকর বিষয়। যেদিন তোমরা তা প্রত্যক্ষ করবে, সেদিন প্রত্যেক স্তন্যদানকারী তার দুধপানরত শিশুকে ভুলে যাবে, প্রত্যেক গর্ভবতী তার গর্ভপাত করে ফেলবে এবং তুমি মানুষকে নেশাগ্রস্তের মতো দেখতে পাবে, অথচ তারা নেশাগ্রস্ত নয়; বরং আল্লাহর শাস্তি অত্যন্ত কঠিন।’ (সুরা হজ, আয়াত : ১–২)

একজন মা তার সন্তানকে ভুলে যাচ্ছে, গর্ভবতী নারীর গর্ভপাত হয়ে যাচ্ছে, মানুষ নেশাগ্রস্তের মতো টলছে অথচ তারা নেশা করেনি—এই দৃশ্যই কিয়ামতের আতঙ্কের গভীরতা বোঝাতে যথেষ্ট।

হাশরের ময়দানে খালি পায়ে মানুষ

আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,

 يُحْشَرُ النَّاسُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ حُفَاةً عُرَاةً غُرْلًا

‘কিয়ামতের দিন মানুষকে খালি পায়ে, নগ্ন ও খতনাবিহীন অবস্থায় সমবেত করা হবে।’
আয়িশা (রা.) জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, নারী-পুরুষ কি পরস্পরের দিকে তাকাবে?’ তিনি বললেন,

 يَا عَائِشَةُ، الْأَمْرُ أَشَدُّ مِنْ أَنْ يَنْظُرَ بَعْضُهُمْ إِلَى بَعْضٍ

‘হে আয়িশা, সেদিনের বিষয়টি এতই ভয়াবহ হবে যে, তখন একে অপরের দিকে তাকানোর অবকাশ থাকবে না।’
(
মুসলিম, হাদিস : ২৮৫৯)

এখানে একটি গভীর শিক্ষা রয়েছে। দুনিয়ায় মানুষ পোশাক, পদবি, সম্পদ, সৌন্দর্য ও সামাজিক মর্যাদার মাধ্যমে নিজের পরিচয় নির্মাণ করে। কিন্তু হাশরের ময়দানে এসব বাহ্যিক পরিচয়ের কোনো মূল্য থাকবে না। মানুষ থাকবে তার রবের সামনে, সম্পূর্ণ অসহায় অবস্থায়।

সূর্য নিকটবর্তী হবে, মানুষ ঘামে ডুবে যাবে

কিয়ামতের দিনের আরেকটি ভয়াবহ দৃশ্য সহিহ হাদিসে এসেছে। মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,

 تُدْنَى الشَّمْسُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِنَ الْخَلْقِ حَتَّى تَكُونَ مِنْهُمْ كَمِقْدَارِ مِيلٍ

‘কিয়ামতের দিন সূর্যকে সৃষ্টির এত কাছে নিয়ে আসা হবে যে, তা তাদের থেকে এক মাইল দূরে থাকবে।’ এরপর তিনি বলেন, মানুষ তাদের আমল অনুযায়ী ঘামে নিমজ্জিত হবে। কারও ঘাম তার গোড়ালি পর্যন্ত, কারও হাঁটু পর্যন্ত, কারও কোমর পর্যন্ত এবং কারও মুখ পর্যন্ত পৌঁছাবে।
(
মুসলিম, হাদিস : ২৮৬৪)

হাদিসটি কিয়ামতের ময়দানের অসহনীয় পরিস্থিতির একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরে। একই ময়দানে দাঁড়িয়েও মানুষের অবস্থা এক হবে না; বরং তাদের আমলের ভিত্তিতে তাদের দুর্ভোগের মাত্রা ভিন্ন হবে।

সেদিন কারও সম্পদ কাজে আসবে না

দুনিয়ার মানুষ মনে করে অর্থনৈতিক নিরাপত্তাই সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা। কিন্তু কোরআন ঘোষণা করেছে,

يَوْمَ لَا يَنفَعُ مَالٌ وَلَا بَنُونَ

إِلَّا مَنْ أَتَى اللَّهَ بِقَلْبٍ سَلِيمٍ

‘সেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো কাজে আসবে না; তবে যে আল্লাহর কাছে সুস্থ অন্তর নিয়ে আসবে সে ছাড়া।’ (সুরা শুআরা, আয়াত : ৮৮–৮৯)

অর্থাৎ কিয়ামতের দিন ব্যাংক হিসাব, বাড়ি, গাড়ি, জমি, পদ-পদবি কিংবা সামাজিক প্রভাবের কোনো মূল্য থাকবে না। মূল্য থাকবে ঈমান, নেক আমল এবং আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য অন্তরের।

সুপারিশও হবে আল্লাহর অনুমতিনির্ভর

মানুষ মনে করতে পারে, কোনো ক্ষমতাবান ব্যক্তি হয়তো তাকে উদ্ধার করবে। কিন্তু কোরআন স্পষ্ট করে দিয়েছে, আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কেউ সুপারিশ করতে পারবে না।

مَن ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِندَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ

‘কে আছে যে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর কাছে সুপারিশ করতে পারে?’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ২৫৫)

অন্য আয়াতে মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন,

وَلَا يَشْفَعُونَ إِلَّا لِمَنِ ارْتَضَىٰ

‘তারা শুধু তার জন্যই সুপারিশ করে, যার প্রতি তিনি সন্তুষ্ট।’ (সুরা আম্বিয়া, আয়াত : ২৮)

অতএব রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শাফাআত সত্য এবং ইসলামী আকিদার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়; কিন্তু সেটিকে নিজের আমলহীনতার অজুহাত বানানো যাবে না। শাফাআতও আল্লাহর অনুমতি ও সন্তুষ্টির অধীন।

কিয়ামত সবার জন্য একই রকম ভয়াবহ হবে না

কিয়ামতের আলোচনা শুধু ভয় সৃষ্টি করার জন্য নয়; এটি সতর্কতার পাশাপাশি আশারও শিক্ষা দেয়। আল্লাহ বলেন,

لَا يَحْزُنُهُمُ الْفَزَعُ الْأَكْبَرُ وَتَتَلَقَّاهُمُ الْمَلَائِكَةُ هَٰذَا يَوْمُكُمُ الَّذِي كُنتُمْ تُوعَدُونَ

‘মহাভীতি তাদের উদ্বিগ্ন করবে না এবং ফেরেশতারা তাদের অভ্যর্থনা করবে। তারা বলবে, এটাই তোমাদের সেই দিন, যার প্রতিশ্রুতি তোমাদের দেওয়া হয়েছিল।’ (সুরা আল-আম্বিয়া, আয়াত : ১০৩)

অর্থাৎ ঈমানদারদের জন্য সেই ভয়াবহ দিন নিরাপত্তার দিনেও পরিণত হতে পারে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) সাত এমন শ্রেণির মানুষের কথা বলেছেন, যাদের আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাঁর ছায়ায় আশ্রয় দেবেন, যেদিন তাঁর ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া থাকবে না। তাঁদের মধ্যে আছেন ন্যায়পরায়ণ শাসক, আল্লাহর ইবাদতে বেড়ে ওঠা যুবক, মসজিদের সঙ্গে হৃদয়ের সম্পর্কযুক্ত ব্যক্তি, নির্জনে আল্লাহকে স্মরণ করে যার চোখ অশ্রুসিক্ত হয় এবং এমন ব্যক্তি যাকে কোনো প্রলোভন পাপের দিকে আহ্বান করলেও সে আল্লাহর ভয় করে তা প্রত্যাখ্যান করে। (বুখারি, হাদিস : ৬৬০)

শিঙ্গার দিনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা

কিয়ামতের ভয়াবহতার এসব বর্ণনা মানুষের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করার জন্যই শুধু নয়। এর মূল উদ্দেশ্য মানুষকে বর্তমান জীবন সম্পর্কে সচেতন করা।

ইরশাদ হয়েছে,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَلْتَنظُرْ نَفْسٌ مَّا قَدَّمَتْ لِغَدٍ ۖ وَاتَّقُوا اللَّهَ ۚ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ

‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং প্রত্যেক ব্যক্তি যেন লক্ষ করে সে আগামী দিনের জন্য কী অগ্রিম পাঠিয়েছে। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয়ই তোমরা যা করো, আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক অবহিত।’ (সুরা হাশর, আয়াত : ১৮)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,

 الْكَيِّسُ مَنْ دَانَ نَفْسَهُ وَعَمِلَ لِمَا بَعْدَ الْمَوْتِ

‘বুদ্ধিমান সেই ব্যক্তি, যে নিজের হিসাব নেয় এবং মৃত্যুর পরের জীবনের জন্য আমল করে।’  (তিরমিজি, হাদিস : ২৪৫৯)

সুতরাং কিয়ামতের প্রস্তুতি মানে শুধু বেশি বেশি নফল ইবাদত করা নয়; বরং মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া, হারাম উপার্জন ছেড়ে দেওয়া, অন্যায় ও জুলুম থেকে ফিরে আসা, তওবা করা, আমানত রক্ষা করা, নামাজ প্রতিষ্ঠা করা, পরিবার ও সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়া এবং অন্তরকে শিরক, অহংকার, হিংসা ও বিদ্বেষ থেকে পরিশুদ্ধ করাও এর অন্তর্ভুক্ত।

শিঙ্গায় ফুঁ দেওয়ার দিন আসবেই

কিয়ামত কখন হবে, তার নির্দিষ্ট সময় কোনো মানুষ জানে না। রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে যখন কিয়ামতের সময় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, তিনি বলেছেন,

 مَا الْمَسْؤُولُ عَنْهَا بِأَعْلَمَ مِنَ السَّائِلِ

‘এ বিষয়ে যাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছে, সে প্রশ্নকারী অপেক্ষা বেশি জানে না।’ (বুখারি, হাদিস : ৫০)

অর্থাৎ কিয়ামতের সময় জানা মানুষের দায়িত্ব নয়; দায়িত্ব হলো তার জন্য প্রস্তুত থাকা।

একদিন শিঙ্গায় ফুঁ দেওয়া হবে। পৃথিবীর পরিচিত কোলাহল থেমে যাবে। পাহাড় তার দৃঢ়তা হারাবে, আকাশ তার বর্তমান রূপ হারাবে, মানুষ কবর থেকে উঠে দাঁড়াবে। কেউ নিজের ভাইকে খুঁজবে না, কেউ সন্তানকে বাঁচানোর ক্ষমতা রাখবে না, কেউ সম্পদ দিয়ে মুক্তি কিনতে পারবে না। প্রত্যেক মানুষ দাঁড়াবে তার রবের সামনে, নিজের আমল নিয়ে।

তখন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হবে না—কে কত ধনী ছিল, কার কত ক্ষমতা ছিল, কে কত বিখ্যাত ছিল। প্রশ্ন হবে—কে তার রবকে চিনেছিল, কে তাঁর আনুগত্য করেছিল এবং কে এই ক্ষণস্থায়ী জীবনকে অনন্ত জীবনের প্রস্তুতিতে ব্যবহার করেছিল।

তাই শিঙ্গায় ফুঁ দেওয়ার দিনের ভয়াবহতা স্মরণ করার প্রকৃত অর্থ আতঙ্কিত হয়ে বসে থাকা নয়; বরং আজকের জীবনটাকে বদলে ফেলা। কারণ সেই দিন যখন এসে যাবে, তখন তওবার দরজা বন্ধ হয়ে যাবে, আমলের সুযোগ শেষ হয়ে যাবে। আজ যে হাত দিয়ে নামাজের জন্য ওজু করা যায়, আজ যে জিহ্বা দিয়ে তওবা করা যায়, আজ যে সম্পদ দিয়ে মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া যায়, আজ যে হৃদয় দিয়ে আল্লাহকে স্মরণ করা যায়। সে সুযোগগুলো সেদিন বন্ধ হয়ে যাবে।

মোট কথা শিঙ্গার শব্দ একদিন শোনা যাবে। প্রশ্ন হলো, সেই শব্দ শোনার আগেই আমরা কি নিজেদের প্রস্তুত করেছি?

মহান আল্লাহ আমাদের সকলকে আখিরাতের সফরের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করার তাওফিক দান করুন।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

[email protected]

কিয়ামতহাশরসিঙ্গায় ফুঁপূণরুত্থান
    আগামীর সময় ইপেপার
    শেয়ার করুন:
    ক্যাম্পাসে ঢুকতে না পারলেও ১০৮৭ শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন বন্ধ করলেন চুয়েট ভিসি

    ক্যাম্পাসে ঢুকতে না পারলেও ১০৮৭ শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন বন্ধ করলেন চুয়েট ভিসি

    শেয়ারবাজারের নজরদারিতে আর অনুমোদন লাগবে না

    শেয়ারবাজারের নজরদারিতে আর অনুমোদন লাগবে না

    গণমাধ্যমে ছবি-ভিডিও প্রকাশে লাগবে বন্দরের অনুমতি!

    গণমাধ্যমে ছবি-ভিডিও প্রকাশে লাগবে বন্দরের অনুমতি!

    মৃত ব্যক্তির সই দেখিয়ে হাসপাতালের ২ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ

    মৃত ব্যক্তির সই দেখিয়ে হাসপাতালের ২ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ

    আগামীর সময়ের সাংবাদিকের বাসায় চুরি

    আগামীর সময়ের সাংবাদিকের বাসায় চুরি

    কলেজীয় ব্যবস্থা ছিনতাই করে বিশ্ববিদ্যালয়

    কলেজীয় ব্যবস্থা ছিনতাই করে বিশ্ববিদ্যালয়

    সাড়ে ৫ টায় আমন্ত্রণ জানিয়ে নায়িকা এলেন রাত ৯ টায়

    সাড়ে ৫ টায় আমন্ত্রণ জানিয়ে নায়িকা এলেন রাত ৯ টায়

    সমঝোতা চাইলে আওয়ামী লীগকে ‘অপরাধ স্বীকার করতে হবে’

    সমঝোতা চাইলে আওয়ামী লীগকে ‘অপরাধ স্বীকার করতে হবে’

    ফেসবুকে কমেন্টের জেরে ছাত্রদল নেতার ওপর হামলা

    ফেসবুকে কমেন্টের জেরে ছাত্রদল নেতার ওপর হামলা

    আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলা, ২২ বছর পর কারামুক্ত যুবদল নেতা

    আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলা, ২২ বছর পর কারামুক্ত যুবদল নেতা

    বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুরের ভাঙা ভাস্কর্যে এবার জুতার মালা, আটক ১

    বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুরের ভাঙা ভাস্কর্যে এবার জুতার মালা, আটক ১

    আপনাকে রুমে ঢোকার সাহস কে দিয়েছে, সাংবাদিককে শিক্ষক

    আপনাকে রুমে ঢোকার সাহস কে দিয়েছে, সাংবাদিককে শিক্ষক

    ‘আমাকে বিক্রি করে দিয়েছে’ বলা সেই রেহেনা দূতাবাসের হেফাজতে

    ‘আমাকে বিক্রি করে দিয়েছে’ বলা সেই রেহেনা দূতাবাসের হেফাজতে

    সুলতানার উঠানের বীজ ছড়িয়েছে ১৩ গ্রামে

    সুলতানার উঠানের বীজ ছড়িয়েছে ১৩ গ্রামে

    আদর্শ আর নেতৃত্বের দ্বন্দ্বে খণ্ড-বিখণ্ড বাম

    আদর্শ আর নেতৃত্বের দ্বন্দ্বে খণ্ড-বিখণ্ড বাম