Agamir Somoy E-Paper
সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
আগামীর সময়
পাখিপ্রেমী বুদ্ধ প্রামানিক
সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় ইসলাম

ইসলামের সূচনালগ্নে তরুণ নেতৃত্ব

মুফতি সাইফুল ইসলাম
মুফতি সাইফুল ইসলাম
agamir somoy
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭:৫৪
ইসলামের সূচনালগ্নে তরুণ নেতৃত্ব

প্রতীকী ছবি

ইতিহাসে তরুণদের অনেক সময় অভিজ্ঞতার ঘাটতির কারণে সিদ্ধান্ত গ্রহণের অযোগ্য বলে মনে করা হয়। বয়সকে নেতৃত্বের প্রধান মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু ইসলামের সূচনালগ্নের ইতিহাস এ ধারণার সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরে। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতিষ্ঠিত সমাজে নেতৃত্ব, জ্ঞানচর্চা, দাওয়াত, প্রশাসন ও সামরিক দায়িত্ব পালনে বহু তরুণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তাদের যোগ্যতা নির্ধারিত হয়েছিল শুধু বয়স দিয়ে নয়; বরং ঈমান, জ্ঞান, চরিত্র, দায়িত্ববোধ, দক্ষতা ও কাজের সামর্থ্য দিয়ে।

ইসলামের সূচনালগ্নে তরুণদের এই ব্যাপক অংশগ্রহণ শুধু ঐতিহাসিক ঘটনা নয়; এর মধ্যে রয়েছে নেতৃত্ব বিকাশ সম্পর্কে ইসলামের একটি মৌলিক শিক্ষা। ইসলাম বয়সকে নেতৃত্বের একমাত্র মানদণ্ড বানায়নি। বরং ঈমান, জ্ঞান, যোগ্যতা, আমানতদারি, প্রজ্ঞা ও দায়িত্ব পালনের সক্ষমতাকে গুরুত্ব দিয়েছে। বক্ষমান প্রবন্ধে আমরা সেই সুনালী দিনের কয়েকজন তরুণ নেতৃত্বে নিয়েই কথা বলবো ইনশাআল্লাহ।

মুসআব ইবনে উমাইর: তরুণ বয়সে দাওয়াতের অগ্রদূত

মুসআব ইবনে উমাইর (রা.) অত্যন্ত ধনী ও সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান ছিলেন। মক্কার যুবকদের মধ্যে তিনি সবচেয়ে সুদর্শন, মার্জিত ও ফ্যাশনেবল ছিলেন। তার মা খুনাস বিনতে মালেক তাকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন। তিনি মক্কার সবচেয়ে দামি পোশাক ও সুগন্ধি ব্যবহার করতেন। (রিজালুন হাওলার রাসুল, পৃষ্ঠা : ২৪)

মক্কার অভিজাত ও স্বচ্ছল পরিবারের এই যুবক ইসলাম গ্রহণের পর নিজের পারিবারিক স্বাচ্ছন্দ্য ত্যাগ করেছিলেনন। তিনি ছিলেন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাহাবিদের মধ্যে অন্যতম অগ্রগণ্য তরুণ। (আল-মুনতাযাম ফী তারীখিল মুলূক ওয়াল উমাম, ৩/১৯৩)

আকাবার প্রথম বায়াতের পর মদিনাবাসী রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে ইসলামের শিক্ষা প্রচারের জন্য একজন শিক্ষক ও প্রতিনিধি পাঠানোর অনুরোধ করেন। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) মুসআব ইবনে উমাইর (রা.)-কে মদিনায় ইসলামের প্রথম দূত হিসেবে পাঠান।

সেখানে গিয়ে যাতে কোরআন শিক্ষাদানের কাজে নিয়োজিত থাকেন। আর মানুষকে ইসলামের দিকে আহ্বান করতে থাকেন। সীরাতের বর্ণনাগুলোতে দেখা যায়, মুসআব (রা.) মদিনার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের কাছে ইসলাম উপস্থাপন করেন এবং তার দাওয়াতের মাধ্যমে মদিনার উসাইদ বিন হুজাইর ও সাদ ইবনে মুয়াজের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিসহ বহু মানুষ ইসলাম গ্রহণ করে; তার সঙ্গে ছিলেন আসআদ ইবনে জুরারাহ (রা.)। তাদের প্রচারের ফলে মদিনার প্রায় প্রতিটি ঘরে ইসলামের আলো পৌঁছে যায়। (ইবনে হিশাম, আস-সিরাতুন নববিয়্যাহ, ‘মুসআব ইবনে উমাইরের মদিনায় প্রেরণ’ অধ্যায়; ইবনে সা‘দ, আত-তাবাকাতুল কুবরা, খণ্ড ৩)

মুসআব (রা.)-এর ঘটনা দেখায়, ইসলামের প্রথম যুগে তরুণদের শুধু অনুসারী হিসেবে দেখা হয়নি; তাদেরকে নতুন সমাজ নির্মাণের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছিল। মদিনায় ইসলামের সামাজিক ভিত্তি সুদৃঢ় হওয়ার পেছনে তার দাওয়াতি ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। পরবর্তী সময়ে তিনি উহুদের যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করেন এবং তাকে এমন অবস্থায় দাফন করা হয় যে তার কাফনের কাপড়ও পূর্ণাঙ্গ ছিল না—যা তার দুনিয়াবিমুখতা ও আত্মত্যাগের এক হৃদয়স্পর্শী স্মারক হয়ে আছে (বুখারি, হাদিস: ১২৭৬; মুসলিম, হাদিস: ৯৪০)।

উসামা ইবনে যায়েদ: অল্প বয়সে সামরিক নেতৃত্ব

তরুণ নেতৃত্বের সবচেয়ে শক্তিশালী উদাহরণগুলোর একটি উসামা ইবনে যায়েদ (রা.)। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর জীবনের শেষ পর্যায়ে রোমান ভূখণ্ডের দিকে পাঠানোর জন্য একটি বাহিনী প্রস্তুত করেন এবং উসামা (রা.)-কে সেই বাহিনীর নেতৃত্ব দেন। তার বয়স তখন খুব বেশি ছিল না। তবে কত বছর বয়সে তিনি এই দায়িত্ব পেয়েছিলেন—এ বিষয়ে প্রাচীন জীবনীগ্রন্থে বিভিন্ন বর্ণনা রয়েছে। তাই প্রচলিত একটি নির্দিষ্ট বয়সকে অকাট্য সত্য হিসেবে উল্লেখ না করে বলা অধিক নিরাপদ যে, তিনি তখন অত্যন্ত তরুণ ছিলেন।

উসামা (রা.)-কে সেনাপতি করা নিয়ে কিছু সাহাবির আপত্তির কথাও হাদিসে এসেছে। তবে রাসুলুল্লাহ (সা.) তার পিতা যায়েদ ইবনে হারিসা (রা.)-এর মতো তাকেও নেতৃত্বের উপযুক্ত মনে করেছিলেন এবং তার নিয়োগের পক্ষে অবস্থান নেন। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ইন্তেকালের পর আবু বকর (রা.) তার নেতৃত্বাধীন বাহিনীকে রওনা করান। এ প্রসঙ্গে সহিহ বুখারির বর্ণনায় এসেছে-

‘রাসুলুল্লাহ (সা.) একটি সেনাদল প্রেরণ করেন এবং উসামাহ ইবনু যায়দ (রা.)-কে তাদের আমীর নিয়োগ করেন। তখন সাহাবীগণ তার নেতৃত্বের সমালোচনা করতে থাকেন। এতে রাসুলুল্লাহ (সা.) দাঁড়ালেন এবং বললেন, তোমরা আজ তার নেতৃত্বের সমালোচনা করছ, এভাবে তোমরা তার পিতা (যায়দ)-এর নেতৃত্বেরও সমালোচনা করতে। আল্লাহর কসম! সে (যায়দ) ছিল নেতৃত্বের জন্য যোগ্য ব্যক্তি এবং আর সে আমার কাছে লোকেদের মধ্যে প্রিয়তম ব্যক্তি। তার এ (উসামাহ) লোকেদের মধ্যে আমার কাছে প্রিয়তম ব্যক্তি। (বুখারি, হাদিস: ৪৪৬৯)।

এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষণীয়—উসামা (রা.)-এর বয়স নিয়ে আলোচনা যতটা হয়েছে, তার যোগ্যতা নিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সিদ্ধান্ত ছিল তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নেতৃত্বের ক্ষেত্রে ইসলামের শিক্ষা ছিল—যোগ্যতা থাকলে বয়সের কারণে তরুণকে অযোগ্য ঘোষণা করা যাবে না।

মুআয ইবনে জাবাল: তরুণ আলেমের ওপর গুরুদায়িত্ব

মুআয ইবনে জাবাল (রা.) ছিলেন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বিশিষ্ট সাহাবি ও জ্ঞানী ব্যক্তিদের একজন। তিনি অল্প বয়সেই ইসলামী জ্ঞান অর্জন করেন এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট বিশেষ মর্যাদা লাভ করেন। তাকে ইয়েমেনে পাঠানো হয়েছিল মানুষকে ইসলাম শিক্ষা দেওয়া এবং ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের জন্য। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে ইয়েমেনে পাঠানোর সময় সেখানকার মানুষের কাছ থেকে যাকাত আদায়ের দায়িত্ব সম্পর্কেও নির্দেশনা দিয়েছিলেন। (বুখারি, হাদিস: ১৪৯৬; ৪৩৪১; ৭৩৭২)

মুআয (রা.)-এর বয়স কত ছিল—এ নিয়ে পরবর্তী ঐতিহাসিক সূত্রে বিভিন্ন সংখ্যা পাওয়া যায়। কিন্তু নির্ভরযোগ্যভাবে যে বিষয়টি বলা যায় তা হলো, তিনি তখন তরুণ ছিলেন এবং তার জ্ঞান ও বিচারবুদ্ধির ওপর রাসুলুল্লাহ (সা.) আস্থা রেখেছিলেন। তার জ্ঞান ও তার ওপর রাসুল (সা.)-এর আস্থা ছিল অনন্য উচ্চতায়।

সুনানে আবু দাউদে এসেছে- মুআয ইবনে জাবাল (রা.) কতিপয় সঙ্গীর সুত্রে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন তাকে ইয়ামেনে পাঠানোর ইচ্ছা করলেন তখন বললেন, তোমার নিকট যখন কোনো মোকদ্দমা আনা হবে, তখন তুমি কিসের ভিত্তিতে এর ফায়সালা করবে? তিনি বললেন, আল্লাহর কিতাব মোতাবেক। নবী (সা.) বললেন, তুমি যদি আল্লাহর কিতাবে এর কোনো ফায়সালা না পাও? মুআয (রা.) বললেন, তাহলে রাসুলুল্লাহ (মা.)-এর সুন্নাত অনুযায়ী। নবী (সা.) বললেন, তুমি যদি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাত এবং আল্লাহর কিতাবে এর ফায়সালা না পাও? মুআয বললেন, তাহলে আমি ইজতিহাদ করবো এবং অলসতা করবো না। তখন নবী (সা.) মুআযের বুকে হাত মেরে বললেন, সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর রাসুলের প্রতিনিধিকে আল্লাহর রাসুলের মনঃপুত কাজ করার তৌফিক দিয়েছেন। (আবু দাউদ, হাদিস: ৩৫৯২);

আলী ইবনে আবি তালিব: তরুণ বয়সে সাহস ও দায়িত্ব

আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) ছিলেন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চাচাতো ভাই ও জামাতা এবং ইসলামের প্রথম যুগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। তিনি অল্প বয়সেই ইসলাম গ্রহণ করেন এবং মক্কার কঠিন সময় থেকে শুরু করে মদিনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পাশে ছিলেন। বদরের যুদ্ধে তার সক্রিয় অংশগ্রহণের বর্ণনা প্রামাণ্য সীরাত ও হাদিসের গ্রন্থে পাওয়া যায় (ইবনে হিশাম, আস-সিরাতুন নববিয়্যাহ; ইবনে সা‘দ, আত-তাবাকাতুল কুবরা, খণ্ড ৩)।

তার বয়স বদরের সময় আনুমানিক চব্বিশ বছর ছিল বলে জীবনীগ্রন্থের কালানুক্রম থেকে ধারণা করা হয়। তার সাহস, জ্ঞান ও দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা তাকে ইসলামের প্রথম সারির ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছিল।

ইবনে আব্বাস: বয়স নয়, জ্ঞানই হয়ে উঠল পরিচয়

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর জীবন তরুণ নেতৃত্বের আরেকটি ভিন্ন মাত্রা তুলে ধরে। তিনি বয়সে তরুণ ছিলেন, কিন্তু জ্ঞানার্জনের ক্ষেত্রে তার উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল অসাধারণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) তার জন্য দোয়া করেছিলেন, বুখারির বর্ণনায় এসেছে- ইবনু আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) একবার আমাকে জাপটে ধরে বললেন, ‘হে আল্লাহ্! আপনি তাকে কিতাবের (কুরআন) জ্ঞান দান করুন।’ (বুখারি, হাদিস: ৭৫)।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ইন্তেকালের সময়েও ইবনে আব্বাস (রা.) তরুণ ছিলেন। পরবর্তী সময়ে সাহাবিদের কাছ থেকে জ্ঞান সংগ্রহ করে তিনি তাফসির, হাদিস ও ফিকহের অন্যতম প্রধান আলেমে পরিণত হন। তার এই বিকাশ দেখায়, তরুণ বয়স কোনো ব্যক্তির জ্ঞানগত সম্ভাবনার সীমা নির্ধারণ করে না। বরং সঠিক পরিবেশ, শিক্ষক, অধ্যবসায় ও জ্ঞানপিপাসা একজন তরুণকে একটি প্রজন্মের জ্ঞানভাণ্ডারের গুরুত্বপূর্ণ ধারকে পরিণত করতে পারে (ইবনে হজর, আল-ইসাবাহ ফি তামইয়িজিস সাহাবাহ, ইবনে আব্বাসের জীবনী; আজ-জাহাবি, সিয়ারু আ‘লামিন নুবালা)।

আবদুল্লাহ ইবনে উমর: তরুণ বয়সে জ্ঞানচর্চার ভিত্তি

আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.)-ও ছিলেন এমন একজন তরুণ সাহাবি, যিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ সংরক্ষণে অসাধারণ ভূমিকা রাখেন। উহুদের যুদ্ধের সময় সেখানে অংশ নিতে চাইলেও তার বয়স কম হওয়ায় রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে অনুমতি দেননি; পরে খন্দকের যুদ্ধে তার অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়। (বুখারি, হাদিস: ৪০৯৭; মুসলিম, হাদিস: ১৮৬৮)। এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, সাহাবিদের মধ্যে বয়সের বিষয়টি অগ্রাহ্য করা হয়নি; বরং দায়িত্বের উপযোগী বয়স ও সক্ষমতাও বিবেচনা করা হতো।

পরবর্তী সময়ে ইবনে উমর (রা.) হাদিস, ফিকহ ও আমলের ক্ষেত্রে অন্যতম নির্ভরযোগ্য সাহাবি হিসেবে পরিচিত হন। তার বিপুল হাদিস বর্ণনা এবং ফতোয়া প্রদানের কথা হাদিস ও জীবনীগ্রন্থগুলোতে সংরক্ষিত হয়েছে (ইবনে সা‘দ, আত-তাবাকাতুল কুবরা; আজ-জাহাবি, সিয়ারু আ‘লামিন নুবালা)।

যায়েদ ইবনে সাবিত: তরুণ বয়সে জ্ঞান ও প্রশাসনিক দায়িত্ব

যায়েদ ইবনে সাবিত (রা.)-এর জীবন তরুণ নেতৃত্বের বুদ্ধিবৃত্তিক দিকটি তুলে ধরে। তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সময়ে ওহি লেখার দায়িত্ব পালন করেন এবং কোরআন লিপিবদ্ধ করার কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পরবর্তী সময়ে ইয়ামামার যুদ্ধে বহু কোরআন-হাফিজ শহীদ হওয়ার পর আবু বকর (রা.) কোরআনের লিখিত অংশগুলো একত্র করার উদ্যোগ নেন এবং এই গুরুত্বপূর্ণ কাজের দায়িত্ব যায়েদ ইবনে সাবিত (রা.)-কে দেন।

আবু বকর (রা.) তাকে বলেন, ‘তুমি একজন তরুণ ও বুদ্ধিমান ব্যক্তি; তোমাকে আমরা সন্দেহ করি না’—এরপর তাকে কোরআন সংকলনের দায়িত্ব দেওয়া হয় (বুখারি, হাদিস: ৪৯৮৬)। এই বর্ণনাটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এখানে একজন তরুণের দায়িত্ব পাওয়ার কারণ হিসেবে তার বয়স নয়, বরং বুদ্ধিমত্তা, বিশ্বস্ততা ও যোগ্যতা সামনে এসেছে।

আরকাম ও আবু যার: তরুণদের দাওয়াতি সাহস

মক্কার প্রথম যুগের দাওয়াতের ইতিহাসেও তরুণদের ভূমিকা স্পষ্ট। আরকাম ইবনে আবিল আরকাম (রা.)-এর বাড়ি মক্কায় প্রাথমিক দাওয়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। সেখানে রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের তালিম দিতেন এবং নতুন মুসলমানদের ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো শিক্ষা দেওয়া হতো। । আরকাম (রা.)-এর সুনির্দিষ্ট বয়স নিয়ে নিশ্চিত তথ্য না থাকলেও তিনি যে তরুণ ছিলেন সেটা নানানভাবেই প্রমাণিত। তার মতো তরুণ সাহাবিদের ঘর ও সামর্থ্য ইসলামের প্রাথমিক দাওয়াতের অবকাঠামো গড়ে তুলতে ব্যবহৃত হয়েছিল। (ইবনে হিশাম, আস-সিরাতুন নববিয়্যাহ, দারুল আরকামের প্রসঙ্গ; ইবনে সা‘দ, আত-তাবাকাতুল কুবরা)

আবু যার আল-গিফারি (রা.)-এর ইসলাম গ্রহণ ও প্রকাশ্য তাওহিদের ঘোষণা তরুণ মুসলমানদের সাহসের আরেকটি দৃষ্টান্ত। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি মক্কায় গিয়ে কুরাইশদের সামনে প্রকাশ্যে ইসলামের ঘোষণা দেন এবং নির্যাতনের শিকার হন। তার নিজের বর্ণনায় এই ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ সহিহ বুখারিতে সংরক্ষিত হয়েছে (বুখারি, হাদিস: ৩৮৬১)।

ইসলামের তরুণ নেতৃত্বের মূল শিক্ষা

ইসলামের সূচনালগ্নের এসব ঘটনা একত্রে বিশ্লেষণ করলে একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য স্পষ্ট হয়—রাসুলুল্লাহ (সা.) তরুণদের শুধু ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করেননি; তাদের বর্তমানের দায়িত্বেও যুক্ত করেছিলেন। কেউ ছিলেন দাওয়াতের শিক্ষক, কেউ সামরিক নেতা, কেউ বিচার ও প্রশাসনিক দায়িত্বে, কেউ জ্ঞানচর্চায়, কেউ ওহি লেখায়, আবার কেউ ছিলেন কঠিন সময়ে সত্য উচ্চারণের সাহসী কণ্ঠ।

তবে এর অর্থ এই নয় যে ইসলামে অভিজ্ঞতার মূল্য নেই। বরং ইসলামের পদ্ধতি ছিল যোগ্যতা, বয়স, অভিজ্ঞতা, দায়িত্বের প্রকৃতি ও ব্যক্তির সামর্থ্য—সবকিছুকে বিবেচনায় নিয়ে দায়িত্ব অর্পণ করা। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নেতৃত্বে তরুণদের যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো তাদের পরীক্ষাহীন আবেগের ফল ছিল না; বরং সেগুলো ছিল তাদের ঈমান, চরিত্র, জ্ঞান, দক্ষতা ও দায়িত্ববোধের ওপর আস্থার ফল।

এখানেই সমকালীন সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাটি মিলে। তরুণদের কেবল ‘আগামী দিনের নেতৃত্ব’ বলে দূরে সরিয়ে রাখলে একটি সমাজ তার বর্তমান শক্তির বড় অংশকে নিষ্ক্রিয় করে ফেলে। আবার কেবল বয়স কম বলেই কাউকে দায়িত্ব দেওয়া ইসলামের শিক্ষা নয়। প্রয়োজন হলো—তরুণদের শিক্ষা দিতে হবে, চরিত্র গঠন করতে হবে, দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিতে হবে এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে নেতৃত্বের জায়গায় নিয়ে আসতে হবে।

ইসলামের প্রথম প্রজন্মের তরুণরা আমাদের সামনে একটি জীবন্ত উদাহরণ রেখে গেছেন। মুসআব ইবনে উমাইর (রা.) দাওয়াতের ময়দানে, উসামা ইবনে যায়েদ (রা.) সামরিক নেতৃত্বে, মুআয ইবনে জাবাল (রা.) জ্ঞান ও ধর্মীয় দায়িত্বে, যায়েদ ইবনে সাবিত (রা.) জ্ঞান সংরক্ষণে এবং ইবনে আব্বাস (রা.) জ্ঞানচর্চায় নিজেদের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। তাদের প্রত্যেকের জীবন যেন একই কথাই বলে—নেতৃত্বের আসল পরিচয় বয়স নয়, আমানত বহনের যোগ্যতা।

তাই আজকের তরুণদের জন্য ইসলামের সূচনালগ্নের ইতিহাস কেবল গৌরবের গল্প নয়; এটি দায়িত্বের আহ্বান। কোরআনের ভাষায়, ‘আর মানুষ তাই পায়, যার জন্য সে চেষ্টা করে’ (সুরা নাজম, আয়াত : ৩৯)। অতএব তরুণ বয়সকে শুধু স্বপ্ন দেখার সময় হিসেবে নয়, নিজেকে প্রস্তুত করার, জ্ঞান অর্জনের, চরিত্র নির্মাণের এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করার সময় হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।

মহান আল্লাহ আমাদের তারুণ্যকে কবুল করুন। আগামীর যোগ্য দায়িত্বশীল হিসেবে প্রস্তুত হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমীন।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

[email protected]

তরুণ নেতৃত্বইসলামে নেতৃত্বইসলামে নেতৃত্বে মানদন্ড
    আগামীর সময় ইপেপার
    শেয়ার করুন:
    দিল্লিতে ভবন ধসের ঘটনায় নিহত ৩

    দিল্লিতে ভবন ধসের ঘটনায় নিহত ৩

    ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২:৫৩

    আরও ১০ সংসদীয় কমিটি গঠন, নেই বিরোধী দল

    আরও ১০ সংসদীয় কমিটি গঠন, নেই বিরোধী দল

    ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২:৪৭

    দালাল বা এজেন্সির মিষ্টি কথায় ভুলবেন না

    দালাল বা এজেন্সির মিষ্টি কথায় ভুলবেন না

    ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০৮

    হাজী আহমাদ ব্রাদার্সের সব কার্যক্রম স্থগিত

    হাজী আহমাদ ব্রাদার্সের সব কার্যক্রম স্থগিত

    ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০৯

    চীনের ‘স্টেম’ জাদু, বদলাতে পারে বাংলাদেশও

    চীনের ‘স্টেম’ জাদু, বদলাতে পারে বাংলাদেশও

    ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৫

    প্রকল্প শেষেই দিতে হবে ভালো-নষ্ট গাড়ির হিসাব

    প্রকল্প শেষেই দিতে হবে ভালো-নষ্ট গাড়ির হিসাব

    ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২৬

    তিন চাপে ফের নাজুক গ্যাস-বিদ্যুৎ পরিস্থিতি

    তিন চাপে ফের নাজুক গ্যাস-বিদ্যুৎ পরিস্থিতি

    ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৯

    চার নেতার ছায়ায় সাজ্জাদ বাহিনী!

    চার নেতার ছায়ায় সাজ্জাদ বাহিনী!

    ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩:২৫

    নিখোঁজ সন্তানদের অপেক্ষায় স্বজনদের কান্না,  উদ্ধারে নতুন ইউনিট গঠনের দাবি

    নিখোঁজ সন্তানদের অপেক্ষায় স্বজনদের কান্না, উদ্ধারে নতুন ইউনিট গঠনের দাবি

    ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:৪০

    রমরমা ২৪ হিমায়িত কারখানায় তালা

    রমরমা ২৪ হিমায়িত কারখানায় তালা

    ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২২

    ইসরায়েলে বড় হামলার প্রস্তুতি ইরান ও মিত্রদের, দাবি তেল আবিবের

    ইসরায়েলে বড় হামলার প্রস্তুতি ইরান ও মিত্রদের, দাবি তেল আবিবের

    ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২:১৭

    সংসদে ৩ বিল পাস, বিরোধী দলের ওয়াকআউট

    সংসদে ৩ বিল পাস, বিরোধী দলের ওয়াকআউট

    ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:৪২

    বিদেশ ভ্রমণে খরচের সীমা বেড়ে ১৮ হাজার ডলার

    বিদেশ ভ্রমণে খরচের সীমা বেড়ে ১৮ হাজার ডলার

    ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:২৭

    আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বিক্রির সিন্ডিকেট, হোতা জামায়াত নেতা!

    আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বিক্রির সিন্ডিকেট, হোতা জামায়াত নেতা!

    ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:১২

    ক্ষুদ্র উৎপাদক বেশি চট্টগ্রামে, বৃহৎ সিলেটে

    ক্ষুদ্র উৎপাদক বেশি চট্টগ্রামে, বৃহৎ সিলেটে

    ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:০৪

    advertiseadvertise