নাহিদ ইসলাম
সরকারের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করছে মধ্যবর্তী নির্বাচন

ছবি: আগামীর সময়
সরকারকে ‘ঠিকভাবে’ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, ‘সরকারের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করবে মধ্যবর্তী নির্বাচন প্রয়োজন হবে কিনা।’ আজ শনিবার রাজধানীর তোপখানা রোডের বিএমএ ভবন মিলনায়তনে জাতীয় যুবশক্তির আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেছেন তিনি।
অনুষ্ঠানে নাহিদ ইসলাম বলছিলেন, ‘নির্বাচন হলে নাকি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়। কিন্তু আমরা দেখছি, এখন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে কয়েকগুণ বেশি। বাংলাদেশের জনগণের এই ভোগান্তি দেখতে চাই না আমরা।’
হামে শিশুমৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘হামের প্রকোপ চলছে সারা দেশে। মারা গেছে চার শর বেশি শিশু। ব্যর্থতার দায় নিতে হবে সরকারকেই। কিন্তু অতিসত্বর মেডিকেল ইমার্জেন্সি ঘোষণা করে কয়েকটি হাসপাতালকে হামের জন্য বিশেষায়িত করতে হবে। কিন্তু এসব না করে এর-ওর ওপর দায় চাপিয়ে বাঁচতে চাচ্ছে সরকার। আমরা বলছি, কারও দায় থাকলে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে তাদের বিরুদ্ধে।’
জনগণের সঙ্গে সরকার বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপি আহ্বায়ক। তার দাবি, ‘গণভোটের রায় প্রত্যাখ্যান করেছে সরকার। সব গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিল করেছে। যুবকদের জন্য দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারেনি। এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির কোনো উদ্যোগ নেয়নি সরকার।’
‘আমরা সহযোগিতা করতে চেয়েছি, কিন্তু সে পথ বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। সংসদের প্রথম অধিবেশনকে ব্যর্থ করা হয়েছে। তামাশা করা হচ্ছে মানুষের সঙ্গে। দলের ক্যাশিয়ারদের বানানো হয়েছে মন্ত্রী। তাদের বাদ দিয়ে ভালো মানুষদের হাতে দায়িত্ব দিন,’ যোগ করেন তিনি।
বিভিন্ন স্থানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিলের প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন নাহিদ ইসলাম। ‘বিভিন্ন জায়গায় মিছিল করছে ফ্যাসিবাদীরা। কাদের ছত্রছায়ায় আওয়ামী লীগ মিছিল করছে জানতে চাই। এজন্য সরকার এবং প্রশাসনকে জবাবদিহি করব।’
অনুষ্ঠানে ফারাক্কা দিবসে মওলানা ভাসানীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এনসিপি আহ্বায়ক বলছিলেন, ‘অভিন্ন প্রায় সবগুলো নদীতে বাঁধ নির্মাণ করে পানি প্রত্যাহার করছে ভারত। স্বাধীনতার পর থেকেই পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত করছে আমাদের। গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি শেষ হচ্ছে এবছর। আমরা নতুন চুক্তিতে পানির ন্যায্য হিস্যা চাই। আমরা দেখতে চাই, নতুন সরকার ভারতীয় আধিপত্যের বাইরে গিয়ে পানির অধিকার নিশ্চিত করতে পারে কিনা।’
সীমান্ত হত্যা নিয়েও কথা বলেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ। ‘বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত পৃথিবীর সবচেয়ে রক্তাক্ত সীমান্ত। আমাদের হাজারের বেশি নাগরিককে হত্যা করেছে ভারতীয় বাহিনী। মওলানা ভাসানী ফারাক্কা লংমার্চ করেছিলেন, যদি প্রয়োজন হয়- আমরা সীমান্ত লংমার্চের ঘোষণা দিবো। আমাদের সার্বভৌমত্ব আমরা নিরাপদ রাখব।'
বাংলাদেশ কোনো পরাশক্তির প্লেগ্রাউন্ড হবে না উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘সরকার কোথায় মাথা বন্ধক রেখে ক্ষমতায় এসেছে, আমরা এখনো স্পষ্ট নই। আমাদের পররাষ্ট্রনীতি জনগণের পক্ষে তৈরি হবে। এক দল আগে ভারতের মুখাপেক্ষী ছিল। এখন সরকার অন্য কোনো পরাশক্তির মুখাপেক্ষী হয়ে দেশ পরিচালনা করবে এটা এদেশের জনগণ মেনে নেবে না। কিছুদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জ্বালানি চুক্তি করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে হয়েছে বাণিজ্য চুক্তি। এসব জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে হবে সংসদে। এই চুক্তিগুলো অসম চুক্তি কিনা, জনগণের স্বার্থ সুরক্ষিত হয়েছে কিনা তা উন্মুক্ত করতে হবে জনগণের সামনে।’
জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি অ্যাডভোকেট তরিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার ফরহাদ সোহেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দিয়েছেন- এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, যুগ্ম সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল আমিন প্রমুখ।





