দলের লোকেরাই আপনাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চায় না: অলি আহমদ

অলি আহমদ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, ‘আপনার দলের লোকেরাই আপনাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চায় না। তারাই আপনাকে পদচ্যুত করার ষড়যন্ত্র করছে।’
আজ বুধবার রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত গণসমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
এলডিপি নেতা অলি আহমদ বলেছেন, ‘বিগত কয়েক মাস ধরে আমি বারবার প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছি বিভেদ সৃষ্টি না করতে। এমন পরিস্থিতি তৈরি করবেন না, যেখান থেকে আপনাদের পতন শুরু হবে। গতকাল দেশের তিনটি জায়গায় যে হামলার ঘটনা ঘটেছে, সেটিই প্রমাণ করে আপনার দলের ভেতরেই এমন লোক রয়েছে, যারা আপনাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায় না।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘আমি বারবার বলেছি, ষড়যন্ত্রকারীরা আপনার চারপাশেই অবস্থান করছে। আপনার দলের ভেতরে যারা দালাল আছে, তাদের চিহ্নিত করুন। আমাদের কাছ থেকে আপনার কোনো বিপদ নেই, বিপদ আপনার নিজের ঘরের দালালদের কাছ থেকেই আসবে।’
বিএনপির উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে এলডিপির প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ‘১৯৯১ সালে খালেদা জিয়া জামায়াতের সহযোগিতায় সরকার গঠন করেছিলেন। তাহলে কি বেগম জিয়া রাজাকার ছিলেন? বিএনপি কি রাজাকার ছিল?’
তিনি বলেন, ‘১৯৯৬ সালে জামায়াত আওয়ামী লীগের সঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন করেছে। আবার ২০০১ সালে বিএনপির মন্ত্রিসভায় জামায়াতের নেতারা ছিলেন। আমি কিন্তু সেই মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলাম না। তাহলে সেটিকে কি রাজাকারের মন্ত্রিসভা বলা হবে?’
কর্নেল অলি বলেন, ‘আমি জামায়াতে যোগদান করিনি। আমরা যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে চাই, বিদেশি প্রভাবমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই এবং ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাস করি, তারা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। এতে কারও অস্বস্তি হওয়ার কোনো কারণ দেখি না।’
তিনি দাবি করেন, ‘বাংলাদেশের মানুষকে বিভক্ত করে শাসনের রাজনীতি এ দেশের জন্য নয়। আমরা সুশাসন চাই, ন্যায়বিচার চাই এবং একটি মানবিক বাংলাদেশ চাই। আমরা চাই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ থাকুক এবং বিদেশি প্রভাব থেকে বাংলাদেশ মুক্ত থাকুক।’
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের মানুষ একসময় ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। কিন্তু পরে বিএনপি বলেছে, তারা এই সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত ছিল না। এরপরও আমরা মনে করি, জুলাইয়ের চেতনা ধরে রাখতে পুরো জাতির ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন।’




