নাহিদ ইসলাম
নব্য স্বৈরাচার হওয়ার পথে হাঁটছে বিএনপি

সংগৃহীত ছবি
নির্বাচিত হয়ে বিএনপি সরকার অগণতন্ত্রের পথে হাঁটছে। নব্য স্বৈরাচার হওয়ার পথে হাঁটছে। মানুষ কষ্টে আছে, গ্যাসের দাম, সবজির দাম, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। গত দুই দিন আগে টিসিবির লাইনে দাঁড়িয়ে এক মহিলা মারা গেছে। কিন্তু বিরোধী দল হিসেবে আমরা এগুলোর সমালোচনা করতে পারব না। সমালোচনা করলে আমাদের চোখ উপড়ে ফেলা হচ্ছে। আমাদের রাস্তায় ট্রাক্টর, বালু ছাড়া ট্রাক ফেলা হচ্ছে। এটা হচ্ছে তারেক রহমানের আই হ্যাভ এ প্ল্যানের নমুনা— উল্লেখ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায় জুলাই পদযাত্রা ও পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ।
নাহিদ ইসলাম বললেন, ‘যারা হামলা করে, রাস্তায় ট্রাক বসিয়ে ভেবেছিল জুলাই পদযাত্রা বন্ধ করে দেবে, কানাইঘাটবাসী আজকে তাদের ব্যর্থ প্রমাণ করেছে। আমাদের জুলাইয়ের যে অঙ্গীকার- সংস্কার এবং বিচার, সেই দাবিতে কথা বলতে এসেছি।
অতীতে দেখেছি দমন-পীড়ন করে, বাধা দিয়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে থামানো যায় না। দুঃখের বিষয় পাটক্ষেতে-ধানক্ষেতে যেসব সৈনিকেরা এত বছর লুকিয়েছিল, যেসব সৈনিকেরা জেলের ভিতরে ছিল, লন্ডনে কিংবা শিলংয়ে ছিল। জনগণের রক্তের বিনিময়ে তারা ক্ষমতায় এসে জনগণের ওপরে আবার জুলুম শুরু করেছে। এটা দ্বারা প্রমাণ হয় বিএনপি গত ১৬ বছর গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করে নাই। তারা অপেক্ষায় ছিল। তারা লড়াই করেছিল ক্ষমতায় গিয়ে কীভাবে জনগণের ওপর আবার জুলুম করবে? কীভাবে চাঁদাবাজি করবে? কীভাবে সন্ত্রাস করবে? কীভাবে জমি দখল, ভূমি দখল করবে। কিন্তু আমাদের ওয়াদা-বিএনপি যদি সেই পথে হাঁটে স্বৈরাচার এবং সন্ত্রাসের পথে হাঁটে আমরা লক্ষ-কোটি জনতা ঐক্যবদ্ধ আছি আমরা আবু সাঈদের উত্তরসূরি, ওসমান হাদির উত্তরসূরি, ঐক্যবদ্ধ আছি নিজেদের জীবন ও রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশে নতুন কোনো স্বৈরাচার এবং জুলুমবাজকে ক্ষমতায় থাকতে দেব না’— বলছিলেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘প্রিয় তারেক রহমান, আপনি প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। আপনি বলেছিলেন দেশে এসে আপনার পরিকল্পনা রয়েছে। এটা আপনার কেমন পরিকল্পনা? একজন কলেজেপড়ুয়া শিক্ষার্থীর চোখ কেড়ে নেওয়া হয়েছে। হবিগঞ্জের জিকে গউছের অনুসারীরা হামলা করে রড দিয়ে একটা চোখ নষ্ট করে ফেলেছে একজন কিশোর জুলাইযোদ্ধার। এই চোখ তারেক রহমান আপনাকে ফেরত দিতে হবে। শেখ হাসিনা শত শত আমার ভাই-বোনের চোখ নষ্ট করে, গুলি করে আজকে দিল্লিতে নির্বাসিত। তারেক রহমান এই নতুন বাংলাদেশে আমার আরেক ভাইয়ের চোখ নষ্ট করে কী বার্তা দিতে চাচ্ছেন? বাংলাদেশের জনগণ এটা মেনে নেবে না। অবশ্যই সেই কিশোরের চোখ কীভাবে ফেরত দেবেন আমরা জানি না। কিন্তু সেই চোখ ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরব না।’
‘আমরা জিয়াউর রহমানকে শ্রদ্ধা করি, বেগম জিয়াকে শ্রদ্ধা করি। কিন্তু জিয়াউর রহমানের ছবি পোস্টার টানিয়ে, বেগম খালেদা জিয়ার ছবি পোস্টার টানিয়ে আপনারা সন্ত্রাস করবেন, জমি দখল করবেন, ভূমি দখল করবেন, এটা আমরা মেনে নেব না। বিগত ১৬ বছর এই দেশে মুজিবের নামে ব্যবসা হয়েছে। এখন আমরা জিয়াউর রহমানের নামে কোনো ব্যবসা হতে দেব না। অবিলম্বে জিয়া ব্যবসা বন্ধ করেন। সন্ত্রাসবাদ বন্ধ করেন। দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। কথা বলার অধিকার থাকতে হবে। জনগণের কর্মসংস্থানের অধিকার, জনগণের খাবারের অধিকার- সবকিছু নিশ্চিত করতে হবে। সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে, বিচার নিশ্চিত করতে হবে’— উল্লেখ করেন নাহিদ ইসলাম।
পথসভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন—উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ এনসিপির শীর্ষ নেতারা।






