গোলাম পরওয়ার
লংমার্চে বাধা দিলে সরকারের প্রতি অনাস্থা আরও বাড়বে

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন গোলাম পরওয়ার
সরকার জনদুর্ভোগ দূর করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেছেন, ‘নিজেদের দেওয়া ওয়াদা অনুযায়ী গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে সরকার দ্বিচারিতা করছে। আস্থাহীনতার সংকট নিয়ে তারা ছয় মাস পার করেছে। এখন বিরোধী দলের লংমার্চে বাধা না দিয়ে সরকারকে প্রমাণ করতে হবে, তারা পরমতসহিষ্ণু এবং গণতন্ত্রের প্রতি আন্তরিক। লংমার্চে বাধা দিলে সরকারের প্রতি অনাস্থা আরও বাড়বে।’
আজ সোমবার বিকালে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। ৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম অভিমুখে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ কর্মসূচি সামনে রেখে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
এতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলছিলেন, ‘সরকার যেন লংমার্চে বাধা না দিয়ে সহযোগিতা করে। লংমার্চ বাধাগ্রস্ত করে জনগণের অনাস্থা যেন সরকার আর না বাড়ায়।’
সংসদে সংসদীয় ভাষা বাদ দিয়ে তীর্যক ভাষা প্রয়োগ করে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের অপদস্থ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্য, ‘বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের ওপর আক্রমণ করা হচ্ছে। সংবিধানের কিছু সংশোধনের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করে জুলাইয়ের রক্তের প্রতিদান দেওয়ার কথা বলা হলেও সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে জনগণের সংশয় কাটছে না।’
যেভাবে হবে লংমার্চ
মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, ৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত রাজধানীর শাপলা চত্বরে এক ঘণ্টার সমাবেশ হবে। এরপর লংমার্চের প্রথম পথসভা হবে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে। পরে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার, ফেনীর মহিপাল, চট্টগ্রামের মিরসরাই এবং সর্বশেষ চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে পথসভা হবে।
কোন পথসভায় ১১ দলীয় ঐক্যের কোন নেতারা বক্তব্য দেবেন, তা আগে থেকেই নির্ধারণ করা হবে বলে জানান তিনি।
লংমার্চের গাড়িবহর প্রসঙ্গে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘ঢাকা থেকে প্রায় এক হাজার গাড়ি থাকবে। পথে পথে আরও গাড়ি বহরে যুক্ত হবে। তবে গাড়িবহরে থাকা ১১ দলের নেতা-কর্মীরা গাড়ি থেকে নামতে পারবেন না। যেসব স্থানে পথসভা হবে, সেখানকার স্থানীয় নেতা-কর্মীরা এর ব্যবস্থাপনা করবেন। কেবল যেসব শীর্ষ নেতা বক্তব্য দেবেন, তারা গাড়ি থেকে নেমে পথসভায় অংশ নেবেন।
‘লংমার্চে এক লাখ লিটার তেল লাগবে—এটা হাস্যকর’
লংমার্চে এক লাখ লিটার তেল খরচ হবে—সরকারের কোনো কোনো মন্ত্রীর এমন বক্তব্যের সমালোচনা করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।
তিনি বললেন, ‘বিরোধী দলের লংমার্চে কত লিটার তেল লাগবে, সেটির হিসাব করছেন সরকারের কোনো কোনো মন্ত্রী। তারা বলছেন, এই লংমার্চে এক লাখ লিটার তেল খরচ হবে। এটা হাস্যকর। গাড়ি চলবে। আগে যেগুলো রাস্তায় চলত, সেগুলো এখন লংমার্চের গাড়িবহরে চলবে। গাড়ি বন্ধ করে তেল সমস্যার সমাধান করা যাবে না। গাড়ি চলবে, সংকটের সমাধানও করতে হবে।’
লংমার্চে তেল খরচ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী লাল বাসে সারা দেশ ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এসব সফরে অনেক সফরসঙ্গী নিয়ে যাচ্ছেন এবং বিমানে যাতায়াত করছেন। সেখানে তেল সংকট না হলে বিরোধী দলের লংমার্চেও তেলের সংকট হবে না।’
‘এক লেন খোলা রাখার চেষ্টা’
লংমার্চে যানজটের আশঙ্কা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘সড়কের দুই লেনের একটিতে লংমার্চের গাড়িবহর চলবে এবং অন্য লেনটি সাধারণ যানবাহনের জন্য উন্মুক্ত রাখার চেষ্টা করা হবে।’
তবে বড় পরিসরের লংমার্চে স্বাভাবিকভাবেই মানুষের জীবনযাত্রায় কিছুটা ব্যাঘাত ঘটতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এ কারণে লংমার্চের রুটের মানুষদের কাছে আগাম দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চাওয়া হয়েছে।’
লংমার্চের পথে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কা করছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো আশঙ্কা করছি না। পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ছাড়াও স্থানীয় পর্যায়ে পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। বিএনপিসহ অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও রাজনৈতিক সুসম্পর্ক বজায় রেখে সহযোগিতা করার অনুরোধ করা হয়েছে।’
মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন—জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমিন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল মিয়াজী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির আব্দুল মাজেদ আতহারী, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব ফখরুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইনসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা।









