রাজনীতি
ব্যর্থতার পাল্লা ভারী দেখছে বিরোধী দল

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
মসনদে বসার ছয় মাস পূর্ণ করেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার। ১৮০ দিনের কার্যক্রম মূল্যায়নে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা বলছেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে পারেনি শাসকরা। তাদের অভিযোগ, রাষ্ট্রসংস্কার, জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা, দ্রব্যমূল্য, গ্যাস-বিদ্যুৎ ও জ্বালানি-সংকট, কর্মসংস্থান এবং অর্থনীতি— প্রায় সব ক্ষেত্রেই ব্যর্থতার চিত্র স্পষ্ট।
বিরোধী দলের নেতাদের মতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর যে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত ও রাষ্ট্রসংস্কারের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, ছয় মাসেও দেখা যায়নি এর বাস্তব প্রতিফলন। বিশেষ করে জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কার্যকর অগ্রগতি না থাকা এই প্রশাসনের অন্যতম বড় ব্যর্থতা। জনগণ পরিবর্তনের যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে বিএনপিকে ক্ষমতায় এনেছে, সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের পরিবর্তে পুরনো রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যেই আটকে আছে সরকার।
‘সরকারের সাফল্যের চেয়ে ব্যর্থতার পাল্লাই ভারী। জনগণের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষার বড় কোনো জায়গাতেই সফল হতে পারেনি এই প্রশাসন। শুরু থেকেই জুলাই সনদের প্রশ্নে জনগণের সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা করেছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, জ্বালানি, বিদ্যুৎসংকট, ব্যাংক খাতে দলীয়করণসহ নানা ঘটনা জনমনে তৈরি করেছে উদ্বেগ। সব মিলিয়ে বর্তমান সরকারও পুরনো রাজনৈতিক ধারায় হাঁটছে’— আগামীর সময়কে বললেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।
সরকারের ১৮০ দিনের মূল্যায়নে একই ধরনের সমালোচনা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের ভাষ্য, প্রথমত, ১৮০ দিনেই দলীয়করণের সর্বোচ্চ উদাহরণ তৈরি করেছে এ সরকার। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোও পরিণত হচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে। গুম প্রতিরোধ, মানবাধিকার ও বিচারব্যবস্থার সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বাদ দিয়ে শুধু ক্ষমতায় থাকার জন্য যা যা করা দরকার, তাই করছে বিএনপি সরকার। দেখা যাচ্ছে না কোনো প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ।
‘সরকারের প্রথম ছয় মাসে মানুষ হতাশ, প্রতারিত ও ক্ষুব্ধ। জনগণের কাছে যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছিল, সেগুলোর প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্র থেকেই পিছিয়ে এসেছে তারা। বাস্তব পরিবর্তনের বদলে চলছে এক ধরনের প্রচারণানির্ভর রাজনীতি’— অভিযোগ করলেন এনসিপির পলিটিক্যাল কাউন্সিলের সদস্য ও মিডিয়া উপকমিটির প্রধান সারোয়ার তুষার।
গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি-সংকটকে সরকারের ছয় মাসের বড় ব্যর্থতা হিসেবে দেখছে বিরোধী দলগুলো। তাদের অভিযোগ, সমস্যা এখন শুধু লোডশেডিং বা গ্যাসের স্বল্প সরবরাহের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এর প্রভাব পড়ছে শিল্প উৎপাদন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও মানুষের জীবনযাত্রায়।
এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামের অভিযোগ, দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই ব্যাপক লোডশেডিং দেখা দিয়েছে দেশে। পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ না থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিল্পকারখানা ও ব্যবসা-বাণিজ্য। চাঁদাবাজির কারণে ব্যবসা করতে পারছে না কেউ। এসব পরিস্থিতির পরিবর্তন করতে না পারলে বিএনপি সরকারকে ক্ষমতায় থাকার অধিকার নিয়েও প্রশ্ন উঠবে।
একটু ভিন্ন আঙ্গিকে সমালোচনা করলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব শেখ ফজলে বারী মাসউদ। ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও মানুষের নিরাপত্তাহীনতাই বেশি চোখে পড়ছে। একের পর এক হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনায় বিচার না হওয়ায় মানুষের মধ্যে তৈরি হচ্ছে হতাশা। আগের পরিস্থিতির সঙ্গে খুব বেশি পার্থক্য মানুষ অনুভব করছে না,’— ক্ষোভ প্রকাশ করলেন তিনি।
সরকারের ১৮০ দিনের কার্যক্রম মূল্যায়নে হতাশা প্রকাশ করলেন জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধানও। তার ভাষ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে বিএনপি সরকারের কাছে মানুষের যে প্রত্যাশা ছিল, তা পূরণ হয়নি। অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির উন্নতির পরিবর্তে সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা ও হতাশা।






