আনু মুহাম্মদ
গণঅভ্যুত্থান ব্যর্থ নয়, লড়াই এখনও বাকি

শহীদ মিনারে গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্য আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেন আনু মুহাম্মদ
চব্বিশের জুলাই অভ্যুথানের মধ্য দিয়ে যে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন এবং গুরুত্ব ও তাগিদ— সেটা এখন পর্যন্ত পূরণ হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। তবে ‘গণঅভ্যুথান ভুল হয়েছে’ বলেও মনে করেন না তিনি।
তার ভাষ্য, ‘গণঅভ্যুত্থান ব্যর্থ হয়েছে বা গণঅভ্যুত্থান ভুল হয়েছে— এটা যারা বলেন, এটা মোটেই ঠিক নয়। গণঅভ্যুত্থানের সাফল্য হচ্ছে একটা অত্যাচারী শাসকের পতন। তার অর্জন হচ্ছে জনগণের শক্তির উত্থান। জনগণের শক্তির সামনে যে কোনো অত্যাচারী শাসকই দাঁড়াতে পারে না, সেটাই প্রমাণ হয়েছে গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে।’
জুলাই গণঅভ্যুথানে কারফিউ ভঙ্গ করে গানের মিছিল আয়োজনের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আজ রবিবার সন্ধ্যায় ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্য আয়োজন করে সাংস্কৃতিক সমাবেশ।
আয়োজকদের ঘোষণাপত্রে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান ছিল শোষণ, বৈষম্য, দমন-পীড়ন ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। ২৬ জুলাই সংস্কৃতিকর্মীদের কারফিউ ভঙ্গ করে গানের মিছিল এবং ৩০ জুলাই রাজপথে সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ আন্দোলনে নতুন গতি এনে দেয়।
আয়োজকদের মতে, ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও বৈষম্য, লুটপাট, চাঁদাবাজি, বেকারত্ব ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত রয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত-আহতদের বিচার ও ক্ষতিপূরণ এখনও নিশ্চিত হয়নি। একই সঙ্গে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংস্কৃতিচর্চা ও ইতিহাস সংরক্ষণের ওপর হামলা এবং মব সন্ত্রাসের সমালোচনা করা হয় সমাবেশ থেকে। দেশ ও জনগণের স্বার্থবিরোধী সব চুক্তি বাতিল, জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার, নিহত-আহত পরিবারের ক্ষতিপূরণ, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শোষণ-বৈষম্যহীন রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দাবিতে বৃহত্তর গণআন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বানও জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে আনু মুহাম্মদ বললেন, ‘কারফিউ ভঙ্গ করে গানের মিছিল’-এর অনুষ্ঠান, এটা শুধুমাত্র উদযাপন নয়; এটা হচ্ছে এই সময়ের সংস্কৃতিকর্মী, লেখক, শিল্পীদের যে কণ্ঠ- তা সোচ্চার থাকা। আমাদের লড়াই, আমাদের চিন্তা এবং সক্রিয়তা— এটা অব্যাহত রাখাই হবে আমাদের কাজ।’
অধ্যাপক সামিনা লুৎফা বলেছেন, ‘জুলাইয়ে সংস্কৃতিকর্মীরা প্রমাণ করেছিলেন, সবাই ক্ষমতার কাছে বিক্রি হয়ে যায়নি। এখনও যে অন্যায়, অনাচার হচ্ছে- তার বিরুদ্ধেও সংস্কৃতিকর্মীদের প্রতিবাদ অব্যাহত রাখতে হবে।’
সমাবেশে দীপক সুমন আবৃত্তি করেন ‘সব কিছু মনে রাখা হবে’ এবং ‘এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না’ কবিতা। সংগীতশিল্পী সায়ান নিজের লেখা কবিতা পাঠ ও গান পরিবেশন করেন। দলীয় সংগীত পরিবেশন করেন সমগীত, চারণ ও উদীচীসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীরা।








