শেখ হাসিনাকে সমাজকল্যাণমন্ত্রী
দুধ-কলা দিয়ে যাদের পুষলেন, কী কাজে এলো?

ছবি: আগামীর সময়
‘দুধ-কলা দিয়ে যাদের পুষলেন, তারা শেষ বিচারে কী কাজে এলো?’ ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকে ইঙ্গিত করে প্রশ্ন তুললেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। আজ রবিবার রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে (আইডিইবি) ‘জুলাই শহীদ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের স্মরণে’ আয়োজিত স্মরণসভায় বক্তব্য রাখছিলেন তিনি।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলছিলেন, ‘শেখ হাসিনা সরকারের পতন থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত। আপনি যদি জনগণের পাশে না থাকেন, কোনো বাহিনীই রক্ষা করতে পারবে না। অনেক বাহিনীর কথা শুনেছি, অনেক পদোন্নতির কথা শুনেছি; কিন্তু শেষ পর্যন্ত জীবন বাঁচানোর তাগিদে তাদের পালিয়ে যেতে হয়েছে।’
তার ভাষ্য, ‘মানুষের ভালোবাসা অর্জন করতে না পারলে মারা গেলে জানাজা পাওয়া বা না পাওয়ার অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। আবার ক্ষমতা ছেড়ে দিলে জীবন রক্ষা হবে কি না, সেই শঙ্কাও তৈরি হয়। আমাদের আয়নায় যেমন নিজেদের চেহারা দেখা উচিত, তেমনি অতীত থেকেও শিক্ষা নেওয়া উচিত।’
জাতীয়তাবাদী টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (জেটেব) এই আলোচনা সভার আয়োজন করে। এ জেড এম জাহিদ হোসেন বক্তব্য দিতে গিয়ে উল্লেখ করেন, এক-এগারো থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন-সংগ্রাম পূর্ণাঙ্গ রূপ পেয়েছে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে। তিনি দাবি করেন, ‘বিগত ১৯ বছর দেশে গণতন্ত্র ছিল না। গণঅভ্যুত্থানের পর গত ফেব্রুয়ারিতে মানুষ নিশ্চিন্তে ও নির্ভয়ে ভোট দিতে পেরেছে।’
স্বৈরাচারের পুনরুত্থানের সুযোগ দেওয়া হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, ‘যারা পালিয়ে গেছে তারা কিন্তু বসে নেই। তাদের সাঙ্গোপাঙ্গরা আশপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে। মনে রাখতে হবে, জাতীয় ঐক্যে ফাটল ধরাতে কেউ কেউ চেষ্টা চালাতে পারে। যারা মনে করেছিলেন চক্রান্ত করে আবারও ২০১৩ সালের মতো ক্ষমতায় চলে যাবেন, তাদের খুব কষ্ট হচ্ছে। জনগণ তাদের চক্রান্ত নষ্ট করে দিয়েছে।’
স্মরণসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। তিনি জানালেন, গত ১৭ বছর শুধু বিএনপি নয়, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যারাই কণ্ঠ তুলেছে, তারাই নির্যাতিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন জেটেব সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. ফখরুল আলম। তিনি বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক কারণে চাকরিচ্যুত হওয়া টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের দ্রুত পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।





