স্বেচ্ছাসেবক দলে নতুন কমিটি, আলোচনায় যেসব নাম
- বাদ পড়ছেন সভাপতি-সম্পাদক

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে দলের সব পর্যায়ের সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। এর অংশ হিসেবে শিগগিরই ঘোষণা করা হবে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটি। জানা গেছে, বিএনপির অন্যতম এই অঙ্গসংগঠনটির শীর্ষ পদে নতুন নেতৃত্ব আনা হচ্ছে।
দলের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, স্বেচ্ছাসেবক দলের বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাউকেই নতুন কমিটিতে রাখা হচ্ছে না। তাদের একজন বর্তমান সংসদ সদস্য এবং অন্যজন সরকারের প্রতিমন্ত্রী। বিএনপির হাইকমান্ড এরই মধ্যে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায়ও জানিয়েছে। এ অবস্থায় নতুন কমিটির শীর্ষ পদে আসতে সম্ভাব্য পদপ্রত্যাশীরা শেষ মুহূর্তের দৌড়ঝাঁপে ব্যস্ত রয়েছেন।
২০২২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর এস এম জিলানীকে সভাপতি এবং রাজিব আহসানকে সাধারণ সম্পাদক করে স্বেচ্ছাসেবক দলের পাঁচ সদস্যের আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। পরে ২০২৩ সালের ২০ এপ্রিল ২৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটির ২১৫ জনের নাম ঘোষণা করা হয়, যেখানে দুটি যুগ্ম সম্পাদকের পদ খালি রাখা হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে ওই দুটি যুগ্ম সম্পাদকসহ পূর্ণাঙ্গ কমিটির বাকি পদগুলো আর পূরণ করা হয়নি।
তিন বছরমেয়াদি স্বেচ্ছাসেবক দলের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর।
এরই মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংগঠনের সভাপতি এস এম জিলানী গোপালগঞ্জ-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আর সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান বরিশাল-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য হওয়ার পাশাপাশি সরকারের মন্ত্রিসভায়ও স্থান পেয়েছেন। তিনি নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।
একদিকে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি, অন্যদিকে দুই শীর্ষ নেতা সরকার ও নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নকাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে কার্যত স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
এ অবস্থায় সাংগঠনিক কার্যক্রমে গতি আনা এবং সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও সক্রিয় করার লক্ষ্যে স্বেচ্ছাসেবক দলের বর্তমান কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপির হাইকমান্ড। এ লক্ষ্যে গত ৪ জুলাই সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমান। গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান, সিনিয়র সহসভাপতি ইয়াছিন আলী এবং সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতি এস এম জিলানী ওই সময় দেশের বাইরে থাকায় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না। আর সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ বর্তমানে বহিষ্কৃত অবস্থায় রয়েছেন। বিগত নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ঝিনাইদহ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়। জানা গেছে, ওই বৈঠকে স্বেচ্ছাসেবক দলের শীর্ষ নেতাদের আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানান তারেক রহমান। একই সঙ্গে শিগগিরই নতুন কমিটি দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
নতুন কমিটির আলোচনায় যারা
জানা গেছে, নতুন কমিটিতে সভাপতি হিসেবে সংগঠনের বর্তমান সিনিয়র সহসভাপতি ইয়াছিন আলী, সহসভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসানের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে।
এ ছাড়া সংগঠনের বিগত কেন্দ্রীয় কমিটির প্রথম সহসভাপতি আনু মোহাম্মদ শামীমও নতুন কমিটিতে সভাপতি পদপ্রত্যাশী।
সাধারণ সম্পাদক পদে সংগঠনের বর্তমান যুগ্ম সম্পাদক কাজী মোকতার হোসাইন, আব্দুর রহিম হাওলাদার সেতু, রফিকুল ইসলাম রফিক, ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শেখ ফরিদ হোসেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি জহির উদ্দিন তুহিন, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল জোরালো প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন।
এ ছাড়া স্বেচ্ছাসেবক দলের বর্তমান কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক নুরুল হুদা বাবু, মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক হারুন অর রশিদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, সংগঠনের সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির (বাবু-জুয়েল), সাংস্কৃতিকবিষয়ক সম্পাদক মির্জা ইয়াছিন আলী এবং একই কমিটির প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবিরও সাধারণ সম্পাদক হতে আগ্রহী।
এদিকে শ্রাবণ ছাড়াও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসানের নাম যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল—এই দুই সংগঠনেরই শীর্ষ পদের জন্য আলোচনায় রয়েছে।
স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটিতে সভাপতি পদপ্রত্যাশী ইয়াছিন আলী বলেছেন, ‘বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে ভূমিকা ছিল, এমন ত্যাগী, সংগঠনের প্রতি মায়া আছে—এমন নেতাদের দিয়েই নিশ্চয় নতুন কমিটি গঠিত হবে। তাহলে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে যে মানবিক ও পরিবর্তনশীল বাংলাদেশ গড়ার প্রক্রিয়া চলছে, তা বাস্তবায়নে স্বেচ্ছাসেবক দল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।
‘নতুন কমিটি গঠনে স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমান যে সিদ্ধান্ত নেবেন, তার প্রতি আমাদের পূর্ণ আস্থা ও সমর্থন থাকবে।’
নতুন কমিটির আরেক সভাপতি পদপ্রত্যাশী নাজমুল হাসান বললেন, ‘কমিটি হওয়া প্রয়োজন। আশা করছি, আমাদের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমান সাংগঠনিক প্রয়োজনীয়তার কথা বিবেচনা করে বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে শিগগিরই নতুন কমিটি ঘোষণা করবেন। তার যেকোনো সিদ্ধান্তের প্রতি আমাদের অবিচল আস্থা থাকবে।’
সাংগঠনিক পুনর্গঠন প্রসঙ্গে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বললেন, ‘দল ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের কমিটি গঠন ও পুনর্গঠন একটি চলমান প্রক্রিয়া। এ জন্য চেয়ারম্যান তারেক রহমান দায়িত্বশীল নেতাদের নিয়ে কাজ করছেন। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যেই স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অঙ্গসংগঠনগুলোর পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু হবে।’






