নিজের সুবিধামতো আইন করে কোনো স্বৈরশাসক টিকতে পারেনি: মঞ্জু

সংগৃহীত ছবি
নিজের সুবিধামতো আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করে কোনো স্বৈরশাসক টিকে থাকতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। তিনি বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে গিয়ে এমন আইন তৈরি করে, পরে সেই আইনের অপপ্রয়োগের শিকার হয় দলটি নিজেই।
আজ শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে ‘সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী: বাকস্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেছেন তিনি। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি এ সভার আয়োজন করে।
মজিবুর রহমান মঞ্জু বললেন, সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনীর ২৬(ক) ধারায় ‘অযাচাইকৃত তথ্য’ ছড়ানোকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। তার মতে, ধারাটির অস্পষ্টতার সুযোগ নিয়ে সরকার বিরোধী মতের মানুষের বিরুদ্ধে একতরফাভাবে আইনটি প্রয়োগ করতে পারে।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের একটি বক্তব্যের উদাহরণ টেনে তিনি বলেছেন, প্রশাসক জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেলকে ইঙ্গিত করে তার ৭০০টি অটোরিকশা থাকার দাবি করেছেন। এটি অযাচাইকৃত তথ্য কি না, সেই প্রশ্ন তুলে মঞ্জু বলেছেন, এমন অভিযোগের ভিত্তিতে আইন প্রয়োগ করা হলে ওই প্রশাসকের ১০ বছরের কারাদণ্ড হওয়া উচিত।
বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীদের সন্ত্রাস ও দখলদারিত্বের সমালোচনা করে এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেছেন, তাদের কর্মকাণ্ড দেখে মনে হয়, তারেক রহমান তাদের নামমাত্র নেতা। বাস্তবে তাদের ‘আধ্যাত্মিক ও নির্বাহী নেতা’ শেখ হাসিনা।
সাইবার জগতে অশালীন ভাষা ও মন্তব্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রেও দ্বৈতনীতি রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মঞ্জু। তিনি বললেন, প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কেউ অশালীন মন্তব্য করলেই গ্রেপ্তার বা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কিন্তু বিরোধী পক্ষের বিরুদ্ধে গালিগালাজ বা অশ্লীল মন্তব্যের কোনো বিচার হয় না। সরকারের এ ধরনের দ্বৈতনীতির সমালোচনা করে তিনি আবারও বললেন, নিজের সুবিধামতো আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করে কোনো স্বৈরশাসক টিকে থাকতে পারেনি।
আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন এনসিপির সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও গুম-সংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারির সাবেক সদস্য ড. নাবিলা ইদ্রিস, ডেইলি ওয়াদার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদ, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য সারোয়ার তুষার, লেখক ও বিশ্লেষক এবং নাটশেল টুডের নির্বাহী সম্পাদক অপূর্ব জাহাঙ্গীর এবং এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব ও আইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মুসা। সভা সঞ্চালনা করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক অ্যাডভোকেট আরমান হোসাইন।



