তেলের দাম বাড়িয়ে জনগণকে কষ্টে ফেলা যাবে না: চরমোনাই পীর

সলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ রেজাউল করীম। ছবি: সংগৃহীত
জ্বালানি তেলের দাম একলাফে ২০ টাকা বাড়িয়ে সরকার জনগণকে কষ্টের মধ্যে ফেলে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। তিনি বলেন, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাব জনজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পড়বে। পরিবহন খরচ বাড়ার পাশাপাশি দ্রব্যমূল্যও বাড়বে। এতে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
আজ সোমবার নারায়ণগঞ্জে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের উদ্যোগে গাউছিয়া রয়েল মুন রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সুধী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, অভাব-অনটনের মধ্যে থাকা জনগণকে এভাবে আরও কষ্টের মধ্যে ফেলা যাবে না। বর্তমানে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট মহামারি আকার ধারণ করেছে। একই সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ নাজেহাল। চলমান দুর্নীতি ও দুঃশাসনই এই অস্থিরতার অন্যতম কারণ। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ইসলামী অনুশাসন প্রতিষ্ঠা করা না গেলে এসব সংকট থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়।
আইএবি নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুর রশীদের সভাপতিত্বে সম্মেলনে সঞ্চালনা করেন জেলার সেক্রেটারি মুফতী শিব্বির আহমাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আরিফুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ মহানগর সভাপতি মাওলানা দ্বীন ইসলাম, জেলার সহসভাপতি আলহাজ্ব ফারুক আহমাদ মুন্সী, মাওলানা হাবিবুর রহমান জিহাদী, নজরুল ইসলাম মাস্টার, জয়েন্ট সেক্রেটারি মো. মনির হোসাইন, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি সামছুল আলম খন্দকার, সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ আলী, মাসুদ রানা, প্রচার সম্পাদক মাওলানা মো. হোসাইন গাজী, দপ্তর সম্পাদক মাওলানা শহিদুল ইসলাম, অর্থ ও প্রকাশনা সম্পাদক মাকসুদুল হাসান, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা আবু রায়হান সাইফি প্রমুখ।
এদিকে, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটির নেতারা বলেছেন, সাত মাসের ব্যবধানে দুই দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে সরকার সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। এ সিদ্ধান্ত সরকারের সংকট মোকাবিলায় ব্যর্থতার প্রতিফলন এবং জনবিচ্ছিন্নতার প্রমাণ।
আজ সোমবার ডিজেল, পেট্রল ও অকটেনের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলের আগে অনুষ্ঠিত সমাবেশে এসব কথা বলেন নেতারা। পরে সমাবেশ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।
সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি শেখ ফজলুল করীম মারুফ বলেন, সরকার সাত মাসের ব্যবধানে দুই দফায় জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করেছে। এর ফলে পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং জীবনযাপনের প্রতিটি স্তরে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তেলের দাম বাড়ার সুযোগ নিয়ে সংশ্লিষ্ট অসাধু চক্রও জনগণের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
তিনি বলেন, অস্বাভাবিক হারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করা সংকট মোকাবিলায় সরকারের ব্যর্থতার প্রতিফলন। বিভিন্ন দেশে যুদ্ধ চলমান থাকলেও গত এক সপ্তাহের আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গতকাল ও আজ তেলের দাম সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। এরপরও কাদের সুবিধা দেওয়ার জন্য এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা বোধগম্য নয়।
শেখ ফজলুল করীম মারুফ বলেন, জনগণের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক না থাকলেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব। ঠুনকো অজুহাতে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি সরকারের জনবিচ্ছিন্নতার জ্বলন্ত প্রমাণ। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান না করলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।
তিনি বলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ডের পর অপ্রতীমের হত্যাকাণ্ড সরকারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অসহায়ত্বের চিত্র তুলে ধরেছে। শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন না হলে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতেই থাকবে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি কে এম শরীয়াতুল্লাহ বলেন, সরকার ইউক্রেন ও ইরান যুদ্ধসহ বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির দায় এড়াতে চাইছে বলে মনে হচ্ছে। কোথাও কোথাও পূর্ববর্তী সরকারের ওপর দায় চাপিয়ে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে। অথচ তাদের সময়ে জ্বালানি তেলের দাম ও সংকট এতটা প্রকট ছিল না।
তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা সাংবাদিকদের সামনে এসে বিভিন্ন বক্তব্য দিয়ে সংকট আরও জটিল করে তুলছেন। জনগণকে ধোঁকা দেওয়ার পরিণতি কী হতে পারে, তা অতীতের ঘটনা থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত। স্ফুলিঙ্গ থেকে দাবানল হতে বেশি সময় লাগে না।
নগর দপ্তর সম্পাদক মাওলানা নাজিমুদ্দিনের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব আহমদ আবদুল কাইয়ূম, দপ্তর সম্পাদক মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের জয়েন্ট সেক্রেটারি ফয়জুল ইসলাম, নগর সহসভাপতি আলহাজ্ব এম এইচ মোস্তফা, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা নজরুল ইসলাম খোকন, মাওলানা নিজামুদ্দিন প্রমুখ।





