এনসিপি আছে ড. ইউনূসের পাশে

২০২৪ সালের ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেশে ফেরার পর তার সঙ্গে জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণরা। তাদের উদ্যোগেই গঠিত হয় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ফাইল ছবি
বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে যুক্তরাষ্ট্রে হেনস্তার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তার পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
আজ মঙ্গলবার দলটি এক বিবৃতিতে বলেছে, ড. ইউনূসকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় জড়িত পলাতক আওয়ামী লীগ-যুবলীগ নেতাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। সেই সঙ্গে দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গতকাল সোমবার হেনস্তার শিকার হন বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস। জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সমর্থক একদল প্রবাসী এতে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।
২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন নোবেলজয়ী ড. ইউনূস।
সেই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীরাই তাকে এই পদের জন্য বেছে নিয়েছিলেন। তারাই পরে এনসিপি গঠন করে। দলটি নির্বাচনে অংশ নিয়ে এখন সংসদে বিরোধী দলের আসনে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ড. ইউনূস হেনস্তার শিকার হওয়ার পর এনসিপির ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেওয়া হয়, যেখানে লেখা ছিল- ‘স্ট্যান্ড উইথ ড. ইউনূস’। অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট ড. ইউনূস দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে তার সঙ্গে অভ্যুত্থানের তরুণ নেতাদের ছবিও ছিল সেই পোস্টে।
সেই পোস্টের ক্যাপশনে লেখা হয়, ‘রক্তাক্ত জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে পতিত, পলাতক ও ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দ্বারা হেনস্তার ঘটনা ঘটেছে।’
‘জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি এই ঘটনায় নিন্দা জানানোর পাশাপাশি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সরকারের পক্ষ থেকে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছে। একই সঙ্গে এনসিপি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পাশে আছে।’
এরপর দেওয়া এনসিপির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘একজন সাবেক সরকারপ্রধান এবং বিশ্ববরেণ্য একজন ব্যক্তিকে বিদেশের মাটিতে এভাবে ঘিরে ধরে লাঞ্ছিত ও অপদস্ত করার ঘটনাকে এনসিপি দেশবিরোধী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড মনে করে।’
এই ঘটনায় যারা যারা জড়িত, ভিডিও দেখে তাদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে দলটি।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দেশের রাজনীতিতে ফিরে আসার যে আলোচনা চলছে, এই ঘটনার পর তার আর কোনো সুযোগ নেই বলে মনে করে এনসিপি।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার করা এখন সময়ের দাবি। বিচার ছাড়া আওয়ামী লীগের রিকনসিলিয়েশনের আলাপ ষড়যন্ত্রমূলক এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার তৎপরতা বলে মনে করে এনসিপি।’
জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে এই আদালতে শেখ হাসিনাসহ বেশ কয়েকজনের মৃত্যুদণ্ডের রায়ও হয়েছে। তবে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার দাবি করে আসছে এনসিপি।



