হাসনাত আব্দুল্লাহ
৭ নভেম্বরকে বিপ্লব বললেও ৫ আগস্ট স্বীকারে বিএনপির দ্বিচারিতা

শনিবার এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন হাসনাত আব্দুল্লাহ
৭ নভেম্বরকে বিএনপি বিপ্লব হিসেবে উদ্যাপন করলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানকে স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে দলটির মধ্যে দ্বিচারিতা দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ।
তিনি বলেছেন, ‘রাজনৈতিক সুবিধা বিবেচনা করে বিএনপি ঐতিহাসিক ঘটনাগুলোকে নিজেদের মতো করে ব্যাখ্যা করছে।’
আজ শনিবার রাজধানীর বাংলামোটরে রূপায়ন ট্রেড সেন্টারে এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ে ‘সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান : বর্তমানের প্রেক্ষাপটে ফিরে দেখা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
সভায় হাসনাত আবদুল্লাহ বলছিলেন, ‘৭ নভেম্বরের ঘটনাকে বিএনপি বিপ্লব হিসেবে বর্ণনা করে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই দিন সৈনিকদের অংশগ্রহণ এবং সাধারণ মানুষের সমর্থনে জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দিত্ব থেকে মুক্ত করা হয়েছিল। এতে আপত্তির জায়গা নেই। কিন্তু ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশাপাশি সৈনিকদেরও অংশগ্রহণ ছিল। এত বিস্তৃত জনসম্পৃক্ততা ও অর্জন থাকার পরও বিএনপি কখনো একে গণঅভ্যুত্থান, এমনকি বিপ্লব হিসেবেও স্বীকৃতি দিতে চায় না।’
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশ ‘বাকশাল টু’ থেকে মুক্তি পেয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি বললেন, ‘গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনীতি করার সুযোগ এবং বাক্স্বাধীনতার পরিসর উন্মুক্ত হয়েছে। এটি গণঅভ্যুত্থানের বড় অর্জন। কিন্তু বিএনপি সেই অর্জনকে যথাযথভাবে স্বীকার করতে চায় না।’
বিএনপির অবস্থানের সমালোচনা করে হাসনাত বলেন, ‘৭ নভেম্বরের ঘটনায় জিয়াউর রহমানকে কেন্দ্র করে দলটি একক মালিকানা দাবি করতে পারে। কিন্তু ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের একক মালিকানা দাবি করার সুযোগ নেই। এ কারণে ৭ নভেম্বরকে বিপ্লব বলা হলেও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে স্বীকৃতি দিতে অনীহা দেখা যাচ্ছে কি না, সেই প্রশ্ন উঠেছে। এটি ইতিহাসের সুবিধাজনক ব্যাখ্যা এবং রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার প্রবণতা।’
এনসিপির এই নেতা বলেছেন, ‘রাষ্ট্রপতি কিছুদিন আগে বলেছেন, তারা বিপ্লবে বিশ্বাস করেন না; তারা একটি বিশুদ্ধ গণতান্ত্রিক দল। অথচ রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত ৭ নভেম্বর বিপ্লব দিবস হিসেবে উদ্যাপন করা হচ্ছে। বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের মধ্যে এই বৈপরীত্যও প্রশ্ন তৈরি করে।’
১৯৭৫-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে হাসনাত বলেন, ‘১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের শাসনামলে গণতন্ত্র হত্যা থেকে শুরু করে বিভিন্ন অপকর্মের কারণে রাষ্ট্র বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল। কিন্তু সেসব ঘটনার বিচার নিশ্চিত না করেই জিয়াউর রহমান আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করেছিলেন।’
কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের আলোচনা করার আগে দলটির বিরুদ্ধে ওঠা অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। বিচার শেষে কারা অপরাধী, কারা অপরাধী নন, তা নির্ধারণ করবেন আদালত ও বিচারব্যবস্থা। এরপর আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে সিদ্ধান্ত আসবে।’



