ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে জবি ছাত্র শক্তির বিক্ষোভ, ৫ দফা দাবি

ছবি: আগামীর সময়
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে জাতীয় ছাত্র শক্তির জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
আজ বুধবার দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কথা তুলে ধরে বিভিন্ন স্লোগান দেন ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা । এই সময় তারা ‘শিক্ষা, সন্ত্রাস—একসঙ্গে চলে না’, ‘ছাত্রদলের চেহারায় ছাত্রলীগকে দেখা যায়’, ‘আমার ভাই আহত কেন? প্রশাসন জবাব চাই’ স্লোগান দেন।
এ সময় তারা পাঁচ দফা দাবি ঘোষণা করেন। দাবিগুলো হলো- হামলায় জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে ; আগামী ছয় মাসের মধ্যে ৭ একর এলাকায় অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করে ১ হাজার ৬০০ শিক্ষার্থীর থাকার ব্যবস্থা করতে হবে ; দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত সেনাবাহিনীর মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে হবে ; ক্যাম্পাসে অছাত্রদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে ; ক্যাম্পাসে সব শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আগামীকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দিতে হবে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি শাহিন মিয়া বলেছেন, ‘গতকাল ছাত্রদল আমাদের ওপর সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা চালিয়েছে। এতে অনেকেই গুরুতর আহত হয়েছেন। পরে আমরা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালে পাশের কবি নজরুল সরকারি কলেজের ছাত্রদলের নেতাকর্মী এবং সদরঘাট এলাকার যুবদলের কিছু কর্মী হাসপাতালে ঢুকে জরুরি বিভাগে হামলা চালায়। হাসপাতালে ঢুকে হামলার এমন ঘটনা আমরা আগে ইসরায়েলি বাহিনীর ক্ষেত্রে দেখেছি, এরপর ছাত্রলীগ এবং এখন ছাত্রদলের ক্ষেত্রে দেখলাম। ছাত্রদল যদি এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে চায়, তাহলে ছাত্রলীগের পরিণতির কথা তাদের মনে রাখা উচিত।’
তিনি আরও বললেন, ‘‘হামলার সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা স্লোগান দিচ্ছিল, ‘এই ক্যাম্পাস ছাত্রদলের।’ আমরা তাদের সতর্ক করে বলতে চাই, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়; এটি সবার।’’
জবি ছাত্র শক্তির সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস শেখ বলেছেন, ‘গতকাল আপনারা দেখেছেন, ছাত্রদল আমাদের ওপর নৃশংস হামলা চালিয়েছে। এরপর প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে তারা ক্যাম্পাস বন্ধ রাখার পরিস্থিতি তৈরি করেছে। গত বছরের ৫ আগস্ট যেমন ক্যাম্পাসের ফটক বন্ধ ছিল, তেমনি আজও ৫ আগস্ট ক্যাম্পাসে তালা ঝুলছে। আমরা গতকালের হামলার প্রেক্ষাপটে পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছি। দ্রুত এসব দাবি বাস্তবায়ন দেখতে চাই।’
মানববন্ধনে অংশ নিয়ে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য ইসমাইল হোসেন তাসিন বললেন, ‘আমরা ছয়জন প্রতিনিধি দাবি জানাতে অডিটোরিয়ামে যেতে চেয়েছিলাম। তখন প্রক্টরিয়াল বডির উপস্থিতিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আমাদের বাধা দেয়। গতকাল ছাত্রদলের অছাত্র কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে ছাত্রশিবিরের সভাপতি, জকুসুর ভিপি, ছাত্র ফ্রন্টের নেতা ইভানসহ কয়েকজনের ওপর হামলা চালায়।’
বুধবার সকাল থেকেই প্রশাসনের নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।




