‘সরকারি চাকরিতে ভাইভার নম্বর বৃদ্ধি দলীয়করণের অশুভ ইঙ্গিত’

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার। ছবি: জামায়াতের ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া
সরকারি চাকরিতে ভাইভার নম্বর বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে দলীয়করণের ‘অশুভ ইঙ্গিত’ দেখছে জামায়াতে ইসলামী। দলটি জানিয়েছে এ উদ্যোগের নিন্দা ও প্রতিবাদ। পাশাপাশি এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বানও জানিয়েছে দলটি।
আজ বৃহস্পতিবার দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বিবৃতিতে বলেছেন, সরকারি চাকরির নিয়োগে ভাইভার নম্বর অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বিএনপি সরকারের নির্লজ্জ দলীয়করণের অশুভ ইঙ্গিত।
সরকারি চাকরিতে তৃতীয় ও চতুর্থ (বেতন স্কেলের ১১-২০ গ্রেড) শ্রেণির নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয় গত রবিবার ‘প্রশাসনিক উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটি’র বৈঠকে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দাবি, নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি (ভুয়া) পরীক্ষার্থী ঠেকাতেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গোলাম পরওয়ারের অভিযোগ, বর্তমান সরকার রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন জায়গায় দলীয়করণ শুরু করেছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন ও সচিবালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে দলীয় বিবেচনায়।
নিয়োগে নতুন এ সিদ্ধান্ত দুর্নীতির পথ খুলে দিতে পারে বলে মনে করছেন জামায়াতের এ নেতা। তার মতে, বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক ও মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান আকাঙ্ক্ষা। অথচ সরকারি চাকরির নিয়োগব্যবস্থায় এমন বিধিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যা নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক প্রভাব ও দুর্নীতির সুযোগ তৈরি করতে পারে।
মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বৃদ্ধিতে উদ্বেগ জানিয়ে জামায়াতের এ নেতা বললেন, ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিতে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় সমান ৫০ নম্বর রাখা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। লিখিত পরীক্ষা প্রার্থীর জ্ঞান, মেধা ও বিশ্লেষণী সক্ষমতা তুলনামূলকভাবে বস্তুনিষ্ঠভাবে যাচাইয়ের সুযোগ দেয়। অন্যদিকে মৌখিক পরীক্ষার মূল্যায়ন অনেকাংশে বোর্ডের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ ও বিবেচনার ওপর নির্ভরশীল।
গোলাম পরওয়ারের মতে, ভাইভার নম্বরের ওজন বাড়ানো হলে লিখিত পরীক্ষায় অর্জিত মেধা ও যোগ্যতার ফলাফল পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হবে এবং যোগ্য প্রার্থীরা ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
প্রক্সি, জালিয়াতি ও পরীক্ষায় অনিয়ম প্রতিরোধের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে জামায়াতের এ নেতা বললেন, এসব বন্ধের অজুহাতে ভাইভার নম্বর বাড়ানো গ্রহণযোগ্য সমাধান নয়। প্রযুক্তিনির্ভর পরীক্ষাব্যবস্থা, বায়োমেট্রিক যাচাই, কঠোর নজরদারি, প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা, ডিজিটাল মনিটরিং ও কঠোর শাস্তির মাধ্যমে অনিয়ম প্রতিরোধ করা সম্ভব।
গোলাম পরওয়ার সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের নিয়োগে ভাইভার নম্বর বৃদ্ধির বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি, অর্থের লেনদেন ও সুপারিশের সংস্কৃতি বন্ধ করে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে স্বচ্ছ নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।






