আইএমএফের কথা শুনলে দেউলিয়া হতে হবে, সতর্কবার্তা সরকারকে

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে আজ সোমবার ঢাকায় গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের সমাবেশে জোটের নেতারা। ছবি: আগামীর সময়
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পরামর্শেই সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে বলে মনে করছে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট। এভাবে চললে বিএনপি জনসমর্থন হারিয়ে দেউলিয়াত্বের পথে এগোবে বলেও সতর্ক করেছে তারা।
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে আজ সোমবার ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ করে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট। সমাবেশ থেকে অবিলম্বে বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।
সরকার দেশের বাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম গতকাল লিটারে ২০ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। ডিজেল ১১৫ টাকা থেকে হয়েছে ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা থেকে ১৬৫ টাকা, পেট্রল ১৪০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা থেকে ১৫৫ টাকা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি এবং ভর্তুকি কমাতে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে বলে সরকারের ভাষ্য। আইএমএফ বরাবরই ভর্তুকি কমাতে সরকারকে আহ্বান জানিয়ে থাকে।
সমাবেশে যুক্তপ্রন্টের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রভাব শুধু পাম্পে তেলের দামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব পড়ে গণপরিবহন, পণ্য পরিবহন, কৃষি, শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর। এর ফলে মূল্যবৃদ্ধির বোঝা শেষ পর্যন্ত শ্রমজীবী, নিম্নআয়ের ও মধ্যবিত্ত মানুষের ওপরই চাপবে।
সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, আইএমএফ নির্দেশিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে দেশের অর্থনীতি সংকটে পড়েছে। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা না নিলে আইএমএফের সংস্কার সরকারকে জনসমর্থনহীন-দেউলিয়া অবস্থায় নিয়ে যাবে।
সমাবেশ থেকে জ্বালানির মূল্য নির্ধারণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা, জ্বালানি খাতের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপচয় বন্ধ করা এবং জনগণের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাসদের (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী, বাসদের (মাহবুব) কেন্দ্রীয় নেতা মহিনউদ্দিন চৌধুরী লিটন, জাতীয় গণফ্রন্টের সমন্বয়ক রজত হুদা, সোনার বাংলা পার্টির সভাপতি সৈয়দ হারুন অর রশীদ বক্তব্য রাখেন।



