জাতিসংঘে জাইমার নিয়োগে সরকারের দূরতম সংশ্লিষ্টতাও নেই : মাহদী আমিন

জাইমা রহমান। ফাইল ছবি
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দপ্তরে প্রধানমন্ত্রীর কন্যা জাইমা রহমানের লিগ্যাল অফিসে নিয়োগের বিষয়ে সরকারের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতার খবর নাকচ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশ সরকার কিংবা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে কোনো চাকরি দেওয়া হয়নি, এমনকি জাতিসংঘে বাংলাদেশ সরকারের স্থায়ী মিশনেও তার কোনো পদায়ন হয়নি। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার সাথে বাংলাদেশ সরকারের দূরতম কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’
আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন মাহদী আমিন।
প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণসহ সফরের সার্বিক বিষয় তুলে ধরতে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের উদ্যোগে এই সংবাদ সম্মেলন হয়।
প্রধানমন্ত্রীর সফরের মধ্যেই সাধারণ পরিষদের সভাপতি খলিলুর রহমানের কার্যালয়ে জাইমা রহমানসহ ছয়জন বাংলাদেশির নিয়োগ পাওয়ার খবর আসে। খলিলুর রহমান দেশে তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন।
জাইমার এই নিয়োগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গুজব ও অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে বলে দাবি করেন মাহদী আমিন।
তিনি বলেন, জাইমা রহমান চাকরি পেয়েছেন সরাসরি জাতিসংঘের সদর দপ্তরে,
সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে। জাতিসংঘের নিজস্ব নিয়ম ও সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার
অধীনে এই আন্তর্জাতিক নিয়োগটি হয়েছে।
‘তার নিয়োগের যাবতীয় প্রক্রিয়া ও আর্থিক সুবিধাদি জাতিসংঘ সরাসরি বহন করে, যেখানে সরকারের কোনো প্রকার সংশ্লিষ্টতা থাকার সুযোগ নেই। যে কেউ চাইলে জাতিসংঘের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট দেখলেই এই পদের যাবতীয় তথ্য ও নিয়োগের স্বচ্ছতা যাচাই করতে পারবেন।’
মাহদী আমিন এ প্রসঙ্গে আরও বলেন, ‘জাতিসংঘের প্রফেশনাল কাঠামোতে পি-১ হলো নতুন স্নাতকদের জন্য, পি-২-এর জন্য ন্যূনতম দুই বছরের অভিজ্ঞতা লাগে এবং পি-৩ পদের জন্য প্রয়োজন হয় অন্তত পাঁচ বছরের মধ্যবর্তী পেশাগত অভিজ্ঞতা। ব্যারিস্টার জাইমা রহমান তার ব্যক্তিগত মেধা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে এই পি-৩ পজিশনে নিযুক্ত হয়েছেন। তার যে পেশাগত প্রোফাইল রয়েছে, তার সাথে এই পদটিই সামঞ্জস্যপূর্ণ।’
অতীতে রাজনৈতিক ও পারিবারিক প্রভাব খাটিয়ে আন্তর্জাতিক মিশনে পদায়নের নজির থাকলেও জাইমা রহমানের নিয়োগটিকে সেভাবে দেখার সুযোগ নেই বলে দাবি করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।
‘তিনি সম্পূর্ণ নিজস্ব পেশাগত সক্ষমতা ও যোগ্যতায় বিশ্বদরবারে জাতিসংঘের মতো সংস্থায় নিজের জায়গা করে নিয়েছেন। নিজের মেধার জোরে আন্তর্জাতিক পরিসরে এমন একটি অবস্থানে পৌঁছানোকে আমাদের বরং সাধুবাদ জানানো উচিত। এই ধরনের সফলতাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো কোনোভাবেই কাম্য নয়।’




