সিলিন্ডার গ্যাস ও নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ

সংগৃহীত ছবি
সিলিন্ডার গ্যাস, জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
আজ রবিবার বিকালে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের উদ্যোগে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেট থেকে মিছিলটি বের হয়। পরে পল্টন মোড় হয়ে কাকরাইল মোড়ে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হয়।
মিছিলপূর্ব সমাবেশে জামায়াত নেতারা সরকারের বিরুদ্ধে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে মূল্যবৃদ্ধি, সার সংকট এবং বিভিন্ন খাতে দুর্নীতি ও দলীয়করণের অভিযোগ তোলেন। তারা বলেন, জনগণের দুর্ভোগ লাঘবের পরিবর্তে সরকার একের পর এক মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
সমাবেশে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেছেন, বিএনপি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নির্বাচনকে সব সমস্যার সমাধান হিসেবে তুলে ধরেছিল। কিন্তু নির্বাচনের পর সংকট কমার পরিবর্তে বেড়েছে। সরকারের সময়ে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে, অথচ জীবনের মূল্য কমেছে। বাজারের সিন্ডিকেট প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের ভেতরের একটি সিন্ডিকেটই দেশ পরিচালনায় প্রভাব বিস্তার করছে।
ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি নেতারা নির্বাচন হলেই সব সমস্যার সমাধান হবে বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের আট মাস পরও রাষ্ট্রে শৃঙ্খলা ফেরেনি। এ সময়ে কয়েক দফা জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। কৃষকরা সার পাচ্ছেন না, অথচ সংকট সমাধানে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
সমাবেশে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন বলেছেন, একদিকে সরকার দফায় দফায় তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে এসব খাতেই সংকট রয়েছে। কৃষক সার পাচ্ছেন না, সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না। সব মিলিয়ে দেশে এক ধরনের নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, দুর্নীতি, অনিয়ম ও দলীয়করণের কারণে সরকারের ব্যর্থতা ক্রমেই বাড়ছে। এসব বন্ধ করে জনগণের দুর্ভোগ কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন বলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার আগে বিএনপি সিন্ডিকেট ভেঙে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতা গ্রহণের আট মাসেও সিন্ডিকেট ভাঙার পরিবর্তে তা আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এ ছাড়া কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য হাফেজ রাশেদুল ইসলাম বলেন, সরকারের ব্যর্থতার কারণে জনগণের দুর্ভোগ বাড়ছে। দুর্নীতিবাজ ও লুটেরাদের সুবিধা দিতে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে নিত্যপণ্যের বাজারে।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের আমির ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, তেল-গ্যাসের মূল্য সমন্বয়ের নামে সরকার বারবার দাম বাড়িয়ে জনগণের পকেট কাটছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও দেশে দাম না বাড়ানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, সারা দেশে কৃষকরা চাহিদা অনুযায়ী সার পাচ্ছেন না। অথচ সরকার সারের সংকট নেই বলে দাবি করছে। দলীয়করণের মাধ্যমে ডিলার নিয়োগ এবং অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির কারণে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সারের সংকটের ফলে কৃষি উৎপাদনও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতে নৈরাজ্য চলছে উল্লেখ করে জামায়াতের এ নেতা বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় জামায়াত সংসদ ও সংসদের বাইরে ভূমিকা রাখছে। সরকার সংসদে জনগণের দাবি মেনে না নিলে রাজপথে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে। ১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত আট দফা দাবি আদায়ে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশটি পরিচালনা করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি দেলাওয়ার হোসেন।
সমাবেশ শেষে বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন জামায়াতের নেতাকর্মীরা। মিছিলে সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও মহানগরী পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।



