আগামীর চোখ
অপারেশন সানসেট

প্রিয়
ডিআইজি মহোদয়, চট্টগ্রাম রেঞ্জ
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কিশোর গ্যাং দমনে গতকাল আপনার ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী বাণীটি শোনার পর থেকে আমার রাতের ঘুম উবে গেছে। আপনি বলেছেন, সন্ধ্যার পর স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের বাইরে পাওয়া গেলে গ্রেপ্তার করা হবে। আহা! অপরাধ দমনের কত সহজ উপায়! অপরাধী খোঁজার দরকার নেই, জাস্ট সন্ধ্যার পর রাস্তায় যার বয়স কম আর পকেটে কলম আছে, তাকেই ধরে ভেতরে পুরে দাও।
এতদিন আমরা বোকার মতো ভাবতাম— কিশোর গ্যাং রুখতে হলে কর্মসংস্থান বাড়ানো, মাঠের ব্যবস্থা করা, পাড়ায় পাড়ায় মাদক ও অস্ত্রের চোরাচালান বন্ধ করা আর অপরাধের গডফাদারদের ধরা দরকার। কিন্তু আপনি চোখ খুলে দিলেন স্যার। এখন বুঝতে পারছি, এ দেশে যত অপরাধ, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি কিংবা সিন্ডিকেটবাজি হয়— তার মূলহোতা আসলে আমরাই! কাঁধে ১০ কেজির বইয়ের ব্যাগ ঝুলিয়ে কোচিং শেষ করে সন্ধ্যার পর ক্লান্ত পায়ে হেঁটে বাড়ি ফেরা দশম শ্রেণির ঝন্টু, কিংবা সন্ধ্যার পর ফুচকার দোকানে দাঁড়িয়ে থাকা ইন্টারমিডিয়েটের মন্টু— এরাই আসলে এই রেঞ্জের আসল ত্রাস। আপনি তাদের সরাসরি প্রিজন ভ্যানে তোলার যে দূরদর্শী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।
আপনার এই মহতী সিদ্ধান্তের পর এখন এলাকাভিত্তিক কিছু টেকনিক্যাল সমস্যা দেখা দিয়েছে। যেমন ধরুন, সন্ধ্যার পর পুলিশ যখন আমাদের আটকাবে, তখন আমরা যদি প্রমাণ করতে পারি যে, আমরা পড়াশোনা মোটেও করি না, আমরা আসলে পুরোদস্তুর বেকার কিংবা ছিঁচকে চোর— তাহলে কি আমাদের সসম্মানে ছেড়ে দেওয়া হবে? কারণ আপনার আইন তো শুধু ‘শিক্ষার্থীদের’ জন্য।
আপনার এই মহতী সিদ্ধান্তের পর এখন এলাকাভিত্তিক কিছু টেকনিক্যাল সমস্যা দেখা দিয়েছে
কিংবা জ্যামের কারণে কোনো কলেজপড়ুয়া যদি বাসে আটকে থেকে সন্ধ্যা পার করে ফেলে, তখন কী হবে? বাসের ড্রাইভার, হেলপার এবং জ্যাম সৃষ্টিকারী রাস্তাকেও কি গ্রেপ্তার করা হবে? নাকি ঢাকা বা চট্টগ্রামের জ্যামের ওপরও একটা হুলিয়া জারি করে দেবেন!
আপনি বলেছেন ‘কারণ ছাড়া’ ঘুরলে গ্রেপ্তার। এখন কারেন্ট চলে গেলে গরমে অতিষ্ঠ হয়ে রাস্তার মোড়ে একটু বাতাস খেতে বের হওয়াটা ‘অকারণ’ না ‘কারণ’? এটা আমাদের এলাকার কনস্টেবল সাহেব কীভাবে পরিমাপ করবেন? তাদের সঙ্গে কি কোনো ‘কারণ পরিমাপক যন্ত্র’ থাকবে?
যাহোক, শিক্ষার্থীদের অপরাধী বানানোর এই যে চমৎকার ও সহজ প্রজেক্ট হাতে নিয়েছেন, সেজন্য আপনাকে অভিনন্দন। আলো আর বাতাসের চেয়ে লকডাউন আর হাজতবাসই যে তরুণ প্রজন্মের মেধা বিকাশের আসল চাবিকাঠি— তা আপনারা প্রমাণ করে ছাড়বেন আশা করি।
ইতি
আপনার এক অতি সতর্ক ও গৃহবন্দি শিক্ষার্থী



