আগামীর চোখ
খুঁটি থাক, রাস্তাই সরিয়ে নিন!

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বরাবর
ব্যবস্থাপনা পরিচালক
ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি)
আমি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। দেশের অর্থনীতি ও যোগাযোগের অন্যতম প্রধান লাইফলাইন। প্রতিদিন কয়েক হাজার বাস, ট্রাক, লরি আমার বুকের ওপর ছুটে চলে। একটা বিষয়ে গভীর অপরাধ বোধ নিয়ে আমি আপনার দরবারে পত্র লিখছি।
বিষয়টি খুলে বলা যাক। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড় এলাকায় আমার শরীরের ওপর ১০-১২টি বিশালাকার বিদ্যুতের খুঁটি নিশ্চিন্তে দাঁড়িয়ে আছে। চার বছর আগে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ আপনাদের চিঠি দিয়েছিল খুঁটিগুলো সরিয়ে নেওয়ার জন্য; কিন্তু চার বছর পেরিয়ে গেলেও আপনারা খুঁটিগুলোকে স্পর্শ পর্যন্ত করেননি। আপনাদের এই অবিচল অবস্থান দেখে আমার ভুল ভেঙেছে। আমি অনুধাবন করতে পেরেছি— ভুলটা ডিপিডিসি বা বিদ্যুতের খুঁটিগুলোর নয়, মূল ভুলটা আসলে আমার!
ডিপিডিসির হাজার ভোল্টের লাইন বয়ে নেওয়া খুঁটিগুলোর কি খেয়েদেয়ে কাজ নেই যে তারা একটি সাধারণ মহাসড়কের জন্য স্থান পরিবর্তন করবে? নিশ্চয়ই আমার সৃষ্টির বহু আগে থেকেই খুঁটিগুলো এই স্থানেই বসবাস করে আসছে। সম্ভবত প্রস্তর যুগ থেকে। তারপর জনবসতি হলো, নানারকম প্রযুক্তির আবিষ্কার হলো, এরপরই না আমার সৃষ্টি! আমিই অন্যায়ভাবে, গায়ের জোরে এসে ডিপিডিসির খুঁটিগুলোর সীমানায় অনুপ্রবেশ করেছি। সামান্য সড়ক হয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের খুঁটির নিচে ঢুকে পড়া আমার চরম বেয়াদবি হয়েছে। আমি সত্যি লজ্জিত, ক্ষমাপ্রার্থী। বাস-ট্রাকগুলো যখন আপনার খুঁটিতে সজোরে ধাক্কা দেয়, তখন আমার খারাপ লাগে। আমি যদি খুঁটির নিচে না ঢুকতাম, তাহলে কোনো দুর্ঘটনাই ঘটত না।
সামান্য সড়ক হয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের খুঁটির নিচে ঢুকে পড়া আমার চরম বেয়াদবি হয়েছে
সওজের
নির্বাহী
প্রকৌশলী
আবদুর
রহিম
সাহেব
বলছেন,
আদমজী
রোডে
মাটির
নিচ
দিয়ে
লাইন
নেওয়ার
কাজ
শেষ
হলেই
নাকি
খুঁটি
সরানো
হবে।
কিন্তু
আমার
প্রশ্ন—
মাটির
নিচের
কাজ
শেষ
হতে
হতে
যদি দুর্ঘটনায় কোনো সাধারণ মানুষ মারা যান, তাহলে এর দায় কে নেবে?
তখনো নিশ্চয়ই দায়সারা কোনো যুক্তি দেবেন। আর আইনের মারপ্যাঁচেরও অভাব হবে না। থাক, আপনাদের অত কষ্ট করতে হবে না; সওজকে চিঠি লিখে বলুন তারা যেন আমাকেই সরিয়ে নেয়। এত গ্যাঞ্জাম আর ভালো লাগে না। আপনার খুঁটিগুলো শান্তিতে থাকুক। গাড়িগুলো
না
হয় একটু ঘুরতি পথে চলাচল
করবে, একটু বেশিই তেল পুড়বে, খরচ হবে। ওটা ব্যাপার না।
ইতি
অনুশোচনাগ্রস্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক



