আগামীর চোখ
হাতে কাঁচি আর মনে একটু সাহস...

প্রিয়
সিজারিয়ান স্যার
এতকাল জানতাম আপনি শুধু গরু-ছাগল আর পাড়ার হুলো বিড়ালের ক্ষতবিক্ষত লেজের চিকিৎসা করেন। হালের পশুপ্রেমী ধনী ঘরের আদরের ললনাদের বিলাসী পার্সিয়ান বিড়ালের সিজার করে আপনি এলাকায় নামও কামিয়েছিলেন। কিন্তু হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ডাক্তার না থাকায়, আপনি যেভাবে আস্ত মানবশিশুর ডেলিভারি করিয়ে দিলেন, তা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। এই যুগান্তকারী ঘটনাকে স্রেফ একটি দুর্ঘটনা বা জরুরি পরিস্থিতি বলে এড়িয়ে যাওয়া চরম অন্যায় হবে। আমার মতে, এটি দেশের চিকিৎসা খাতে এক নতুন ও বৈপ্লবিক দিগন্তের সূচনা! আপনি প্রমাণ করে দিয়েছেন যে, ডিগ্রি বড় কথা নয়, হাতে একটা কাঁচি আর মনে একটু সাহস থাকলেই যেকোনো ডেলিভারি সম্ভব।
এ ঘটনার পর থেকে আমি চিকিৎসাব্যবস্থার এক বিশাল অর্থনৈতিক ও সাশ্রয়ী মডেল দেখতে পাচ্ছি। ভেবে দেখুন, আমাদের দেশে এমবিবিএস ডাক্তারদের কত ভাব! ফি হাজার টাকা, সিরিয়াল পেতে তিন মাস, তার ওপর আলট্রাসনোগ্রাফি, ইসিজি, ব্লাড টেস্টের লম্বা তালিকা। অন্যদিকে ভেটেরিনারি ডাক্তার বাবুরা মাত্র ১০০-২০০ টাকা ভিজিটেই হাসিমুখে চলে আসেন। প্রসূতিকে পাঁচ তারকা হাসপাতালের এসি কেবিনে ভর্তি হতে বলেন না। গোয়ালঘরের এক কোণে খড় বিছিয়ে যদি একটি সুস্থ বাছুরের জন্ম দেওয়া সম্ভব হয়, তবে মানুষের বাচ্চার জন্য কেন লাখ টাকার অপারেশন থিয়েটার লাগবে?
হাতে একটা কাঁচি আর মনে একটু সাহস থাকলেই যেকোনো ডেলিভারি সম্ভব
জনাব, আপনার গভীর সাম্যবাদী চিন্তাভাবনাকেও স্যালুট জানাই। আমরা এতদিন অনর্থক মানুষ আর পশুর মধ্যে ভেদাভেদ করে এসেছি। কিন্তু আপনার কর্মকাণ্ড আমাদের চোখ খুলে দিল— প্রাণী হিসেবে আমরা সবাই এক, শুধু আমাদের ডাক আলাদা। একজন মানুষের বাচ্চার ওজন আড়াই কেজি হলে আমরা আনন্দিত হই, আর একটি গরুর বাছুর আড়াই মণ হলে খামারি খুশি হন— পার্থক্য তো শুধু ওজনেই, প্রক্রিয়া তো একই! বরং যে শিশুর জন্ম হলো একজন দক্ষ পশুচিকিৎসকের হাত ধরে, তার রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা নিশ্চয়ই ষাঁড়ের মতো শক্তিশালী হবে।
আমি সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কাছে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি— আপনারা অনতিবিলম্বে এই দুই বিভাগকে একীভূত করে মানবপশু সমন্বিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গঠন করুন। দেশের সব মেডিকেল কলেজ আর ভেটেরিনারি কলেজকে এক করে দেওয়া হোক। এমবিবিএস ও ডিভিএম ডিগ্রির বদলে চালু করা হোক বিভিএমএস (ব্যাচেলর অব ভেটেরিনারি অ্যান্ড হিউম্যান সার্জারি)। আর কোনো ভেদাভেদ নয়। আসুন, আমরা সবাই মিলে এই নতুন চিকিৎসানীতিকে স্বাগত জানাই।
ইতি
একজন আতঙ্কিত কিন্তু পরম কৃতজ্ঞ নাগরিক



