আগামীর চোখ
উদ্ধারকারীর উদ্ধারকারীকে উদ্ধার

প্রিয়
মহাপরিচালক, ডুবন্ত নৌযান উদ্ধার অধিদপ্তর
গতকাল দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি পত্রিকায় প্রকাশিত ‘উদ্ধারকারী নৌযান উদ্ধার করবে কে?’ শীর্ষক যুগান্তকারী খবরটি পড়ার পর থেকে আমি এক অদ্ভুত মায়ায় পড়ে গেছি। যে নৌযানের দায়িত্ব ছিল মাঝদরিয়ায় বিপদে পড়া লঞ্চ, স্টিমার বা ট্রলারকে টেনে তোলা, আজ সে নিজেই পানির তলায় অলস ভঙ্গিতে শুয়ে আছে। ভাবখানা এমন, ‘এতদিন তোদের উদ্ধার করেছি, এবার তোরা কেউ এসে আমাকে একটু উদ্ধার কর!’
আমরা আমজনতা আসলেই অবুঝ। আমরা যখন দেখি, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে কেনা বা মেরামত করা উদ্ধারকারী জাহাজ নিজেই বিকল হয়ে পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে বা অন্য কোনো নৌযানের ধাক্কায় কাত হয়ে পড়ছে, তখন আমরা ক্ষোভ প্রকাশ করি। এটি আমাদের সংকীর্ণ মানসিকতার পরিচয়। আমরা বুঝতে পারি না, এটি আসলে আপনার মন্ত্রণালয়ের একটি সুদূরপ্রসারী ‘নৌ-মহড়া’। উদ্ধারকারী জাহাজকে উদ্ধার করার মাধ্যমে আমাদের উদ্ধারকারী দল যে এক অভাবনীয় ও ডাবল অ্যাকশন ট্রেনিং পাচ্ছে, তা বিশ্বের আর কোনো দেশের নৌবাহিনী বা ফায়ার সার্ভিস কল্পনাও করতে পারবে না! একেই বলে এক িঢলে দুই পাখি মারা— নৌযানও কেনা হলো, আবার তাকে উদ্ধার করার রোমাঞ্চকর খেলাও খেলা হলো।
ভাবখানা এমন, ‘এতদিন তোদের উদ্ধার করেছি, এবার তোরা কেউ এসে আমাকে একটু উদ্ধার কর!’
মজার ব্যাপার হলো, এই উদ্ধারকারী নৌযানকে উদ্ধার করার জন্য এখন আমাদের আরেকটি ‘মহা-উদ্ধারকারী’ নৌযানের সন্ধান করতে হবে। কিন্তু যদি সেই নতুন উদ্ধারকারী নৌযানটি একে উদ্ধার করতে গিয়ে মাঝপথে নিজেই ইঞ্জিন বিকল করে বসে থাকে? তখন তো আমাদের ‘উদ্ধারকারীর উদ্ধারকারীকে উদ্ধার করার জন্য’ তৃতীয় আরেক উদ্ধারকারী খুঁজতে হবে! এই মহাকাব্যিক উদ্ধারচক্র তো চলতেই থাকবে। গ্রিক পুরাণের সিসিফাসের সেই পাথরের গল্পের মতো— আমরা শুধু উদ্ধারকারী কিনেই যাব আর তারা একে একে পানির নিচে গিয়ে বিশ্রামের নামে ‘ডুব’ দেবে। তাদের এই ডুবে থাকা আমাদের অলসতা ও অব্যবস্থাপনার প্রতীক নয়; বরং এটি আমাদের ‘ধৈর্য ও সহনশীলতার’ ও এক জীবন্ত ভাস্কর্য হিসেবেই মূল্যায়ন করতে হবে। আপনার এই অনন্য ও যুগান্তকারী ‘সেলফ-ডুবন্ত’ নীতি নৌ-যোগাযোগ ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
অতএব, মহোদয় সমীপে আকুল প্রার্থনা, অবিলম্বে আমাদের প্রিয়, আদরের এবং অত্যন্ত স্পর্শকাতর উদ্ধারকারী নৌযানগুলো উদ্ধার করার জন্য একটি ‘উদ্ধারকারী নৌযান উদ্ধারকারী মহাপরিকল্পনা’ গ্রহণ করে বাধিত করবেন।
ইতি
উদ্ধারকারী জাহাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত নদীতীরবর্তী নাগরিক



