আগামীর চোখ
তাহলে বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাই কেন

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
প্রিয়
শিক্ষকবৃন্দ,
আপনাদের জানাই সশ্রদ্ধ সালাম। সকালে পত্রিকা হাতে নিতেই একটি খবরে চোখ আটকে গেল। দেখলাম, শিক্ষার্থীদের মৌলিক সাক্ষরতা ও সংখ্যাজ্ঞান (এফএলএন) কর্মসূচির নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় পাবনার বেড়া উপজেলার ৫০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। খবরটি পড়ার পর যারপরনাই বিব্রত হলাম। আপনারা নাকি নির্ধারিত ১৮০ দিনেও পঞ্চম শ্রেণির বাচ্চাদের ‘ইংরেজি রিডিং’ পড়ার সক্ষমতা নিশ্চিত করতে পারেননি। অবশ্য নামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েশন করা বহু শিক্ষার্থীও ইংরেজিতে রিডিং পড়তে পারে না। তাই এখানে ইংরেজিটা ছেড়েই দিলাম। কিন্তু তৃতীয় শ্রেণির বাচ্চাকে বাংলা রিডিং আর চতুর্থ শ্রেণির বাচ্চাকে যোগ-বিয়োগ-গুণ-ভাগ শেখাতে পারলেন না! এই আধুনিক যুগে যখন অন্যান্য দেশের ছেলেমেয়েরা তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণিতেই রিডিং পড়া ও গণিতের চারটি মৌলিক বিষয় েশষ করে ব্যবহারিক দক্ষতা এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞানে হাত বাড়ায়, সেখানে আমাদের শিক্ষা প্রশাসন আপনাদের ওপর বাচ্চাদের ‘ইংরেজি-বাংলায়’ রিডিং পড়া এবং গণিতের চারটি মৌলিক বিষয় শেখানোটা আসলে পাহাড়সম দায়িত্বই বলতে হবে! এত ‘সামান্য কাজ’ আপনাদের দেওয়া একদমই ঠিক হয়নি। আপনারা এসবের জন্য বিদ্যালয়ে যান নাকি!
আত্মপক্ষ সমর্থনে এক প্রধান শিক্ষক বললেন, ‘গ্রামীণ এলাকার অভিভাবকরা নিরক্ষর ও অসচেতন। তাই বাচ্চারা বাড়িতে পড়ার সুযোগ পায় না। এজন্য পিছিয়ে পড়ে।’ বাচ্চাদের যদি বাড়িতেই পড়াতে হবে, তাহলে আমরা অভিভাবকরা সাতসকালে বাচ্চাকে স্কুলে পাঠাই কোন দুঃখে? এ বয়সের বাচ্চারা তো পড়বে স্কুলে; বাড়িতে এসে খেলাধুলায় মগ্ন থাকবে। সেকেলে সিস্টেম বুঝি এখনো মাথা থেকে যায়নি! নাকি স্কুল শেষে বাচ্চাদের প্রাইভেট পড়তে পাঠাতে হবে আপনাদের কাছে! বাচ্চাদের বদলে আপনাদের জন্য একটা কর্মসূচি চালু করতে চিঠি লিখব নাকি সরকারকে?
শুনলাম, শোকজ খাওয়ার পর আপনারা এখন ‘অতিরিক্ত ক্লাস’ নেওয়ার জন্য কোমর বেঁধে নেমেছেন। নিয়মিত ক্লাসের নির্ধারিত সময়টুকুতেই যদি ঠিকঠাক মন দিতেন, তবে আজ এই অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়ার প্রয়োজন হতো না। মাঝখান থেকে বাচ্চারা মানসিকভাবে চাপে পড়ে যাচ্ছে।
আপনাদের এই ব্যর্থতা আমাদের মেরুদণ্ডহীন শিক্ষাব্যবস্থার একটি দিক আমাদের সামনে তুলে ধরেছে। আশা করি, এবার অন্তত বাচ্চাদের দিকে একটু নজর দেবেন।
ইতি
শঙ্কিত এক অভিভাবক






