আগামীর চোখ
‘সবিনয় নিবেদন’

প্রিয়
শিল্প মন্ত্রণালয়
বুদ্ধদেব গুহর ‘সবিনয় নিবেদন’ পড়ে সমাজের তথাকথিত ‘নীতিবান’ পাঠকরা যেমন গেল গেল রব তুলেছিল— একে সমাজ নষ্টকারী, ‘অবৈধ পরকীয়া’ বলে গালাগাল করেছিল, ঠিক একইভাবে আপনার আর আমার এই দীর্ঘ ২২ বছরের গোপন সম্পর্ক দেখে রংপুরের উদ্যোক্তারা আজ আমাদের চরিত্র নিয়ে টানাটানি শুরু করেছে!
একজন বিবাহিত রাজর্ষি আর অন্য একজনের বাগদত্তা ঋতি রায়ের মতো আমরাও তো আইনের চোখে, সমাজের চোখে এক চরম ‘অনৈতিক’ সম্পর্কে লিপ্ত! ২০০৪ সাল থেকে আপনার সঙ্গে আমার আড়ালে-আবডালে চিঠি চালাচালি চলছে। নীতি পুলিশরা বলছে, এ নাকি কৃষ্ণলীলা! তারা অভিযোগ তুলছে— জনসমক্ষে কাজের অভিনয় করে গোপনে আমরা নাকি ফাইলচাপা দিয়ে এক রোমাঞ্চকর ‘প্রশাসনিক পরকীয়া’ উপভোগ করছি! আহা, কী তীব্র আমাদের গোপন অভিসার! কখনো দমদমার ৫০ একর জমি তো কখনো রামনাথপুর-হরিদেবপুরের ১০০ একর জমির স্কেচ ম্যাপ পাঠাই। আর আপনি? পরম মমতায় সেই ‘প্রেমপত্র’গুলো আলমারির তলায় লুকিয়ে রাখেন! কোনো উত্তর দেন না, শুধু নীরব সম্মতি দিয়ে এই পাপ-সম্পর্ককে বাঁচিয়ে রাখেন। সমাজের লোক না বুঝে চেঁচামেচি করছে—কৃষিজমি নষ্ট হচ্ছে, কলকারখানা হচ্ছে না, নতুন উদ্যোক্তারা প্লট পাচ্ছে না!
৮২টি প্লটের পুরনো বিসিকের কঙ্কালসার চেহারাটা দেখুন একবার। বেহাল সড়ক, ভাঙাচোরা ড্রেন, তিনটি কারখানা ঋণের দায়ে শায়িত, চারটি ‘রুগ্ণ’ হয়ে আইসিইউতে মৃত্যুযন্ত্রণায় ছটফট করছে। উদ্যোক্তারা প্লটের জন্য কেঁদে ভাসাচ্ছে, সামসী আরা জামান কলি পাট আর চামড়াজাত পণ্য বানাতে না পেরে আফসোস করছেন— আর আমরা দুজন নীল খামের চিঠি আদান-প্রদান করে নিজেদের কামনার আগুন জ্বালাচ্ছি! রংপুর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি এমদাদ হোসেন সমাজ সংস্কারকের মতো চিৎকার করে বলছেন— ‘দ্বিতীয় বিসিক এখন সময়ের দাবি!’ কিন্তু তথাকথিত নীতিবান সমাজ যা-ই বলুক, আমাদের এই অবৈধ প্রশাসনিক প্রীতির থ্রিলার কি এত সহজে শেষ হতে পারে?
প্রিয় শিল্প মন্ত্রণালয়, ২২ বছর তো বহাল তবিয়তে ‘সমাজ নষ্ট’ করলাম। এবার হয় আমাদের এই পরকীয়ায় প্রেমের সিলমোহর দিয়ে জমি অধিগ্রহণের রূপকথাটা সত্যি করুন, আর না হয় সটান বলে দিন— ‘না ভাই, আমাদের এই প্রেম শুধুই অবৈধ ছিল, দ্বিতীয় বিসিক গড়তে আমার বয়েই গেছে!’
ইতি
আপনার গোপন প্রেমের শিকার, রংপুর বিসিক শিল্পনগরী



