আগামীর চোখ
দুই রেলের রেষারেষি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বরাবর
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী
ঢাকার ট্রাফিক জ্যামে কখনো পড়েছেন কি না, জানি না। আশা করি, পড়েছেন। ঢাকার জ্যাম কাউকে নিরাশ করে না। সবার ভাগ্যেই সে জোটে। ধনী, গরিব, প্রভাবশালী– সবাই তার কাছে সমান। তবে মন্ত্রী হলে ভিন্ন কথা; ছাড় পাওয়া যায়।
এই যানজটের শহরে মেট্রোরেল সাধারণ নাগরিকদের কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে। যদিও তা এখন পর্যন্ত একটি রুটে সীমাবদ্ধ। তবে বেশ আগে দুটি পাতাল মেট্রোসহ বেশ কয়েকটি রুটের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। ওই রুটগুলোর কাজ অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রায় থেমে যায়। আর আপনারাও এখন সম্পূর্ণ মনোযোগ দিচ্ছেন মনোরেলে। মনোরেলও গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সেটি এখনো আলোচনার টেবিলেই রয়েছে। এদিক থেকে নতুন মেট্রোরেলের কাজ কিছুটা হলেও এগিয়ে। একজন নাগরিক হিসেবে আমার ভাবনা যদি জানতে চান তবে বলব, মেট্রোর কাজ শেষ করে তবেই মনোরেলে যেতে পারেন। কিন্তু এ দেশে তো নাগরিক ভাবনার কোনো স্থান নেই।
বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তন মানে শুধু ক্ষমতার হাতবদল নয়, পলিসিরও আমূল ভোলবদল। একেকটি নতুন সরকার আসে আর পূর্ববর্তী সরকারের মেগা প্রকল্পগুলো হয় বন্ধ করে দেয়, নইলে বাস্তবায়নের গতি কমিয়ে দেয়। যেন রেষারেষি। মাঝখান থেকে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের ঘাম ঝরানো করের টাকা চোরাবালিতে হারিয়ে যায়। রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি তো আছেই। সে ভোগান্তির কথা আর মনেও করাতে চাই না।
মেট্রোরেল ও মনোরেল সম্পর্কে পরিবহন ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় বড় প্রকল্পগুলো মাঝপথে গতি হারালে আদতে জনগণের অর্থের ক্ষতি। বড় পরিকল্পনার ক্ষেত্রে সব সরকারের নীতি এক থাকলে দিন শেষে প্রকৃত সুফল পায় জনগণ। মেট্রোকে থামিয়ে মনোরেলে গেলে মৌলিক সুফল মিলবে না বলেও তারা মনে করছেন।
অর্থনীতির যা অবস্থা, তাতে দুটি প্রকল্প একসঙ্গে টেনে নেওয়ার কথা ভাবলেও ভুল করবেন। দেশে এমন অসংখ্য সেতু ও কালভার্ট রয়েছে, যেগুলো অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। কোনোটি অর্ধেক কাজ শেষে ঝুলে আছে, কোনোটি আবার সংযোগ সড়ক ছাড়া একাকী নদীর মাঝখানে দাঁড়িয়ে রয়েছে। মেট্রো ও মনোরেলের ভাগ্য আবার এমন না হয় যেন!
তাই বলছি, ধারাবাহিকতা বজায় রেখে মেট্রোরেলের থমকে যাওয়া কাজগুলো দ্রুত সচল করুন। তারপর না হয় মনোরেল ধরবেন। আর জনগণের ট্যাঁকের দিকেও একটু খেয়াল রাখবেন আর কি।
ইতি
এক নাগরিক




