আগামীর চোখ
টাকার গাছ!

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
প্রিয়
চীনা ঠিকাদার,
আশা করি, বেইজিংয়ে বসে সুস্বাদু স্যুপ খাচ্ছেন! আচ্ছা, আপনার কি মনে আছে? কথা ছিল, কর্ণফুলী টানেল এলাকায় আমাকে আর আমার ভাইবোনদের রোপণ করবেন। অধ্যাপক ড. কামাল হোসেন সাহেব ২৩ প্রজাতির গাছের সুন্দর নকশাও এঁকে দিয়েছিলেন। কিন্তু আপনি আর আপনার দেশীয় সঙ্গীরা মিলে আমাদের ভাগ্যে এক ফোঁটা মাটিও জুটতে দিলেন না!
আমরা ছোটবেলা থেকে একটা বাংলা প্রবাদ শুনে বড় হয়েছি— ‘টাকা কি গাছে ধরে?’ এতদিন ভাবতাম, এটা শুধুই একটা প্রবাদ। মানুষ কষ্ট করে টাকা কামায়, গাছে তো আর টাকা ফলে না! কিন্তু আপনি আর আমাদের দেশের কিছু মহৎ কর্মকর্তা মিলে সেই প্রবাদকেই সত্যি প্রমাণ করে দিলেন!
আপনি মাটির নিচ থেকে এক অদৃশ্য ‘টাকার গাছ’ গজিয়ে তুললেন। যে গাছের জন্য বাজেট ছিল মাত্র সাড়ে ১৯ লাখ টাকা, সেখান থেকে আপনারা তুলে নিলেন ৪৯ কোটি ৩৬ লাখ টাকা! প্রাথমিক বাজেটের ২৫১ গুণ! বাহ্, কী জাদুকরী হাত আপনাদের!
আপনি গাছের ডাল ঝাঁকিয়েছেন আর উনারা ‘টাকার গাছের’ তলা থেকে ঝরাপাতা (টাকার বান্ডিল) কুড়িয়ে পকেট ভারী করেছেন
আচ্ছা, এই অদ্ভুত ‘টাকার গাছের’ পেটেন্ট আসলে কার হবে, বলুন তো? নাকি এতেও ‘মেড ইন চায়না’ ট্যাগ মারবেন? নাকি আমাদের দেশীয় আমলাদের সঙ্গে যৌথ মালিকানা ঘোষণা করবেন?
আপনাকে একা কৃতিত্ব দিলে কিন্তু অন্যায় হবে। আমাদের দেশের অসাধু কর্মকর্তা আর প্রকৌশলীরাও তো কম যান না! আপনি না হয় চীন থেকে এসে সোজা ‘টাকার গাছ’ রোপণ করে চলে গেলেন। কিন্তু আমাদের এখানকার কর্তাবাবুরা তো সেই গাছের তলায় ঝুড়ি নিয়ে বসেছিলেন! আপনি গাছের ডাল ঝাঁকিয়েছেন আর উনারা ‘টাকার গাছের’ তলা থেকে ঝরাপাতা (টাকার বান্ডিল) কুড়িয়ে পকেট ভারী করেছেন।
পরে অডিটের ভয়ে তাড়াহুড়ো করে পতেঙ্গায় কিছু রঙ্গন পুঁতে দিয়ে দায় সারলেন। সেতু কর্তৃপক্ষের হিসাবে একেকটার দাম পড়েছে ৫৬ হাজার টাকা! অথচ স্থানীয় নার্সারিতে ওগুলো শ-দেড়েক টাকায় মেলে। এমন সোনার চারাগাছে ফল ধরলে হয়তো দেশের সব ঋণ শোধ হয়ে যেত!
যাই হোক, আপনারা টাকা মেরে দিয়েছেন আর আমরা বাতাসের ভূত হয়ে রয়ে গেলাম। তবে মনে রাখবেন, এই ‘টাকার গাছ’ বেশি দিন টিকবে না। পচা পাতায় সুবাস থাকে না, কেবল দুর্গন্ধই ছড়ায়!
ইতি
আপনার হাপিস হয়ে যাওয়া চারাগাছগুলো



