আগামীর চোখ
বিলের বিদ্যুৎগতি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
প্রিয়
‘শর্টসার্কিট’ বিদ্যুৎ বিভাগ
আপনাদের চরণে শতকোটি ভোল্টের সালাম! আপনারা যে শুধু ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছান না, মাঝেমধ্যে মানুষের বাকস্বাধীনতার ফিউজও একেবারে উড়িয়ে দিতে পারেন, সেটি দেখে চমৎকৃত হলাম। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল দেখে গাজীপুরের শ্রীপুরে এক এনসিপি নেতা একটু বেশি মাত্রায় ‘উত্তেজিত’ হয়ে গালাগালি করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন। তা দিতেই পারেন। মাত্রই কিছুদিন আগে অসমাপ্ত বিপ্লবের উত্তেজনার রেশ এখনো তার চেতনাকে আচ্ছন্ন করে আছে হয়তো। কিন্তু আপনারা এতই সংবেদনশীল যে নেতার সেই গরম পোস্টের ‘হিট’ সহ্য করতে পারলেন না। সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎগতিতে তাকে শ্রীঘরে পাঠিয়ে দিলেন!
অতিরিক্ত বিল এলে মানুষের মাথা চক্কর দেয়, কেউ কেউ স্ট্রোক করে হাসপাতালেও যায়। কিন্তু আপনাদের অশেষ কৃপায় এবার জানা গেল, বিলের ধাক্কায় সোজা কারাগারেও যাওয়া যায়। সাধারণ মানুষের ঘরে বিদ্যুৎ থাকুক আর না থাকুক, আপনাদের বিলের মিটারে যে ‘সুপারসনিক’ গতি আছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। ফ্যান না ঘুরলেও মিটার যেভাবে অলিম্পিকের অ্যাথলেটের মতো দৌড়ায়, তা দেখে আমাদের বুক গর্বে ভরে ওঠে। আর সেই মহান পারফরম্যান্সের দিকেই কি না আঙুল তোলার সাহস দেখালেন এনসিপি নেতা।
আমাদের মতো সাধারণ গ্রাহকদের একটাই অনুরোধ— পরের মাসে বিলটা একটু দেখেশুনে পাঠাবেন
অথচ কি আশ্চর্য, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় সহকর্মীর ওপর হামলার প্রতিবাদে খোদ থানার বুকে দাঁড়িয়ে আরেক এনসিপি নেতা হুমকি দিয়ে বলেছেন, প্রয়োজনে তিনি নাকি থানার ইট খুলে নেবেন! কিন্তু কয়েক হাত দূরে বসে থাকা ওসি সাহেব সে কথা শুনেও না শোনার ভান করেছেন বলে মনে হচ্ছে। বলেছেন, তিনি নাকি হুমকি সম্পর্কে কিছুই জানেন না। খবরটি পড়ার পর থেকেই আমার মতো সাধারণ নাগরিকদের কিন্তু রাতের ঘুম উবে গেছে। নিজেদের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা যতটা না চিন্তিত, তার চেয়ে কোটি গুণ বেশি দুশ্চিন্তায় পড়েছি আপনাদের থানার ওই সরকারি ইটগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে। নেতা অবশ্য পরে বলেছেন, কর্মীদের শান্ত করতেই তিনি নাকি ওরকমটা বলেছেন। আসলে তার ইটের খুব দরকার নেই।
শ্রীপুরের এনসিপির নেতার জন্য আফসোস হচ্ছে। কারাগারের চার দেয়ালের মধ্যে নিশ্চয়ই এখন বুঝতে পারছেন, সরকারের বিদ্যুতের চেয়ে আপনাদের বিলের ‘পাওয়ার’ অনেক বেশি। সেখানে হয়তো ফ্যান চলছে না; কিন্তু মনের ভেতর আপনাদের পাঠানো বিলের অঙ্কটা নিশ্চয়ই বারবার ‘শর্টসার্কিট’ তৈরি করছে। আশা করি, জেলের অন্ধকার কুঠুরিতে বসে তিনি এখন মনভরে বিনামূল্যে ‘লোডশেডিং’ উপভোগ করছেন এবং নিজের ভুল বুঝতে পারছেন।
পরিশেষে বলি, আমাদের মতো সাধারণ গ্রাহকদের একটাই অনুরোধ— পরের মাসে বিলটা একটু দেখেশুনে পাঠাবেন। আমরা গালি দেব না, আমাদের হার্ট দুর্বল। আমরা জানি, আপনাদের বিলের প্রতিবাদ করলে আলো আসুক আর না আসুক, পুলিশের গাড়ি ঠিক চলে আসে।
ইতি
আপনার এক ‘অন্ধকারাচ্ছন্ন’ ও বাধ্যগত গ্রাহক



