আগামীর চোখ
টুর্নামেন্ট রক্ষা সহায়িকা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বরাবর
টুর্নামেন্ট আয়োজক কমিটি, কেশবপুর গ্রাম
আপনাদের পনেরো দিনের হাড়ভাঙা খাটুনির ফাইনাল ম্যাচটি কোনো লাল কার্ড বা পেনাল্টি ছাড়াই যেভাবে পণ্ড হয়ে গেল, সেজন্য প্রথমেই আমার তরফ থেকে গভীর সমবেদনা গ্রহণ করুন। রেফারি বাঁশি বাজানোর আগেই এক উদীয়মান রাজনৈতিক কর্মী হাতে ব্যাটারিচালিত মাইক তুলে নিয়ে পুরো গ্রামে যে কায়দায় ‘১৪৪ ধারা’ জারি করে দিলেন, তাতে দেশের মহামান্য বিচারক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মহোদয়গণও নিজেদের এখতিয়ার নিয়ে নিশ্চিত শঙ্কায় পড়ে গেছেন! আপনারা সরল মনে ভেবেছিলেন ফুটবল খেলা হয় মাঠে বল আর পায়ের সমন্বয়ে। কিন্তু আপনারা বেমালুম ভুলে গিয়েছিলেন যে, আমাদের অঞ্চলে ফুটবল গড়ায় ক্ষমতাসীন দলের নেতার কৃপাদৃষ্টি আর রাজনৈতিক চ্যালার তুষ্টিতে।
ভবিষ্যতে কেশবপুরের মাঠে ফুটবল গড়ালে যাতে স্বঘোষিত ‘ম্যাজিস্ট্রেটদের’ মাইকিং তাণ্ডবে খেলা পণ্ড না হয়, সেজন্য একজন অভিজ্ঞ প্রবীণ হিসেবে কিছু অমূল্য পরামর্শ পেশ করছি:
খেলার মাঠে দুটি দল থাকলেও অতিথির তালিকায় থাকতে হবে অন্তত অর্ধশত নাম। খেলায় গোলরক্ষক না থাকলেও চলবে, তবে স্থানীয় ‘বড় ভাই’, ‘বিশেষ ভাই’ এবং তাদের পোষা সব ‘উপভাইদের’ নাম বিশেষ অতিথির তালিকায় থাকতেই হবে। প্রয়োজনে খেলোয়াড়ের সংখ্যা কমান, কিন্তু প্রধান ও বিশেষ অতিথির লালগালিচা আর চেয়ারের দৈর্ঘ্য বাড়ান।
আমাদের অঞ্চলে ফুটবল গড়ায় ক্ষমতাসীন দলের নেতার কৃপাদৃষ্টি আর রাজনৈতিক চ্যালার তুষ্টিতে
মাঠে টুর্নামেন্টের চেয়ে সাউন্ড সিস্টেমের ক্ষমতা বেশি রাখবেন। ফাইনাল খেলা শুরু হওয়ার আগে প্রতি ১০ মিনিট পরপর মাইককর্মীকে নির্দেশ দেবেন নির্দিষ্ট নেতাকর্মীদের নাম সুমধুর কণ্ঠে জপ করতে। কোনো কারণে যদি কোনো কর্মী বা নেতা ভুলবশত দাওয়াত থেকে বাদ পড়েন, তবে ম্যাচ শুরুর আগেই ফায়ার সার্ভিস ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখুন— যাতে তারা নিজস্ব ‘১৪৪ ধারা’ জারির মাইকিং শুরু করার সুযোগ না পায়।
গ্রামের প্রবীণ কিংবা গুণী ব্যক্তিদের সম্মান জানিয়ে তাদের হাতে ভুল করেও ফাইনালের ট্রফি তুলে দেওয়ার দায়িত্ব দেবেন না। এটা হবে এক ঘোরতর সামাজিক অপরাধ! টুর্নামেন্টের বিজয়ী দলকে পুরস্কার দেওয়ার একমাত্র যোগ্য ব্যক্তি তারাই, যাদের চ্যালাদের দাওয়াত না দিলে পরদিন খেলার মাঠে সরাসরি কারফিউ বা ১৪৪ ধারা জারি হতে পারে।
আশা করি, পরবর্তী মৌসুমে আপনারা নসিহতগুলো অক্ষরে অক্ষরে পালন করবেন। অন্যথায়, পরের বার ফাইনাল ম্যাচের দিন মাঠে হয়তো শুধু ১৪৪ ধারা নয়, গ্রামছাড়া হওয়ার মাইকিং শুনতে হতে পারে!
ইতি
আপনাদের শুভাকাঙ্ক্ষী এক ‘জ্ঞানী’ গ্রামবাসী






