তোমাদেরও নিঃস্ব করে ছাড়বে

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
প্রিয়
বানারীপাড়াবাসী
আমি সন্ধ্যা। যুগ যুগ ধরে তোমাদের জনপদের কোলঘেঁষে বয়ে চলা সেই সন্ধ্যা নদী। তোমাদের সুখ ও দুঃখের সাথী। অথচ তোমরা আমার সাথী হতে পারলে না। সুযোগ পেলেই তোমাদের ভেতর থেকে একদল মানুষ দখল নিতে চায় আমার অস্তিত্বের।
বানারীপাড়া ফেরিঘাটসংলগ্ন এলাকায় আমার বুকের ওপর পলি জমে যখন নতুন চর জাগল, তখন আমি ভেবেছিলাম তোমরা হয়তো সেখানে সবুজ শস্যে ভরিয়ে তুলবে। শস্য খেতে আসা পাখির কলকাকলিতে মুখর হবে নতুন ভূমি। কিন্তু কয়েক বছর ধরে বিশেষ করে ২০২৫ সাল থেকে চরের জমি দখল করতে তোমাদের ভেতর লুকিয়ে থাকা অসৎ মানুষেরা যা শুরু করেছে, তা শুধু আমার আবহমান অস্তিত্বে আঘাত করা নয়, তোমাদের মনুষ্যত্বকেও বিসর্জন দেওয়া।
বিএস জরিপ না হওয়ার সুযোগে তারা প্রায় নির্বিঘ্নে দখল করেছে ১৫ একর চরের পুরোটা। বহু বছর আগে যে হিন্দুধর্মাবলম্বী পরিবার আমায় ছেড়ে চলে গিয়েছিল, তাদের নাম ভাঙিয়ে ভুয়া ওয়ারিশ তৈরি করা হয়েছে।
এটা মনে রাখতে হবে যে, প্রকৃতি কখনো অন্যায় ক্ষমা করে না
তোমরা কি জানো, আমার কত কষ্ট হয় যখন দেখি আমার সীমানা ঢেকে বালু ফেলা হচ্ছে? বিচিত্র নামের সব চকচকে দোকান আর বহুতল ভবন গড়ে উঠছে আমারই বুকের পাঁজরে। কিন্তু সবচেয়ে বড় আফসোস কাদের নিয়ে জানো? যারা শুধু কয়েকটা দলিলের জন্য নিজেদের নীতি, বিশ্বাস আর আত্মাকে বেচে দিচ্ছে।
আমার নদীসত্তা প্রকৃতি নির্দিষ্ট করেই দিয়েছে— ভাঙা আর গড়ার খেলা। সেটা ধরে রেখেছি বড় কষ্টে। আসল কথা হলো, আমার তো শুধু চরটাই দখল হয়েছে, কিন্তু তাদের নিজের সত্তাটাই বিক্রি হয়ে গেছে। ফলে আমি তো কোনো ছাড়, সুযোগ পেলে তোমাদেরও নিঃস্ব করে ছাড়ব। যারা প্রকৃতিকে ছাড়ে না, তাদের কাছে মানুষ নিরাপদ— তা কি হয়? মানুষ একবার অন্তঃসারশূন্য হয়ে গেলে নৈতিকতা চিরতরে হারিয়ে যায়।
আমার বহমানতা আটকে ওরা হয়তো সাময়িক টাকাপয়সা পেয়েছে। কিন্তু ওদের এটা মনে রাখতে হবে যে, প্রকৃতি কখনো অন্যায় ক্ষমা করে না।
যেদিন আমার ধৈর্যের সীমা অতিক্রম করবে, সেদিন কোনো ভুয়া দলিল বা জাল খতিয়ান কাউকে বাঁচাতে পারবে না। তাই বলছি, এখনো সময় আছে, আমাকে আমার মতো বইতে দাও, চরকে প্রকৃতির হাতে ছেড়ে দাও। হয়তো এমন কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা পাবে না, কিন্তু প্রকৃতি তোমাদের খালি হাতেও ফেরাবে না।
ইতি
সন্ধ্যা নদী




