ঠিকাদারের দিব্যদৃষ্টি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বরাবর
সচিব, রেলপথ মন্ত্রণালয়
বিশ্বখ্যাত বহু জাদুকর এসেছেন পৃথিবীতে। তার মধ্যে পিসি সরকার বিশেষভাবে ঠাঁই পেয়েছেন বাঙালির মনে। অবিশ্বাস্য সব জাদু প্রদর্শনের জন্য বিখ্যাত হয়ে আছেন তিনি। তবে সরকারি গোপন নথি বের করার জাদু তিনি দেখাননি। এ জাদু দেখালেন চট্টগ্রামের ঠিকাদার আফসার আলী বিশ্বাস। আপনার অধীন পাহাড়তলী রেলওয়ে সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে দরপত্র-সংক্রান্ত গোপন নথি বের করে ফেলেছেন তিনি!
ঘটনা হলো— লোকোমোটিভ বা ইঞ্জিনের ৩৪টি ট্রাকশন মোটর মেরামতের জন্য রেলওয়ে গোপন প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারণ করেছিল ৫ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। সরকারি গোপনীয়তা আইন ১৯২৩ ও পিপিআর ২০০৮ অনুযায়ী এই দর সম্পূর্ণ গোপন থাকার কথা। কিন্তু ঠিকাদার আফসার সাহেব জাদুবলে জেনে গেলেন টাকার অঙ্ক। শুধু তা-ই নয়, চিঠি লিখে রেলওয়েকে শুধালেন, ‘দরপত্রে প্রাক্কলিত মূল্যের ৮০ শতাংশ অর্থাৎ ৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকার অভিজ্ঞতা চাওয়া হলো না কেন?’ আশ্চর্যের বিষয় হলো, ঠিকাদারের বলা ওই অঙ্কটি ছিল গোপন প্রাক্কলনের ঠিক ৮০ শতাংশ! দিব্যদৃষ্টি তো একেই বলে!
আশ্চর্যের বিষয় হলো, ঠিকাদারের বলা ওই অঙ্কটি ছিল গোপন প্রাক্কলনের ঠিক ৮০ শতাংশ
শুধু তাই নয়; ঠিকাদার সাহেব আবদার করলেন, ‘টেন্ডার অনেক বড় হয়ে গেছে, দুই ভাগ করে দিন!’ তার আবদার রেখে রেলের কর্মকর্তারা ১৩০টি মোটরের টেন্ডার ভেঙে ৩৪টি ও ৯৬টির দুটি আলাদা লটে ভাগ করলেন। ফলে কাজ পেতে ঠিকাদার আফসারের প্রয়োজনীয় যোগ্যতা বা আর্থিক সামর্থ্যের শর্তও অনেক শিথিল হয়ে যায়।
আমার প্রশ্ন হলো— জাদু কি শুধু আফসার সাহেব দেখাচ্ছেন, নাকি মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের কোনো বড় ‘রাঘব বোয়াল’ তার কো-আর্টিস্টের ভূমিকা পালন করছেন? অদৃশ্য ব্যাকআপ ছাড়া কি আস্ত একটা সরকারি দপ্তরকে এভাবে পুতুলনাচ নাচানো সম্ভব? তবে প্রাক্কলিত ব্যয় ফাঁস হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন দরপত্র আহ্বানকারী কর্মকর্তা ও রেলওয়ের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক বেলাল হোসেন সরকার। তিনি বলছেন, ‘ফাইল অনেক জায়গায় স্বাক্ষর হয়, সেখান থেকে হয়তো ফাঁস হয়েছে।’ তার এই মন্তব্যে অনেকটা নিশ্চিত যে, রেলওয়ের ভেতরেই আফসার সাহেবের কো-আর্টিস্ট লুকিয়ে আছেন।
ট্রেনের টিকিট না পেলে কিংবা দেরিতে যাত্রা করলে আমাদের কষ্ট হয়। মেনে নিই। কিন্তু রেলের কোটি কোটি টাকা এভাবে জাদুমন্ত্রে উবে যাবে, এটা তো মেনে নেওয়া যায় না। তাই দ্রুতই এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিন। নইলে এমন ঠিকাদারের জাদু চলতেই থাকবে।
ইতি
এক সচেতন রেলযাত্রী



