আগামীর চোখ
ঘুষের হাট বসালেই ভালো!

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বরাবর
প্রধান বন সংরক্ষক
সালাম নেবেন। আশা করি, ভালো আছেন। আপনাদের ভালো থাকারই কথা। বড়কর্তারা সবসময় ভালোই থাকেন। ভালো না থাকার খাতায় আমাদের নাম লেখা। আমি সুন্দরবন অঞ্চলের এক অতিসাধারণ জেলে। তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে এ মাসের প্রথম দিন থেকে বনে যাওয়ার অনুমতি মিলছে। ভেবেছিলাম, এবার নির্বিঘ্নে বনে যেতে পারব। পকেটের অবস্থাও ভালো নয়। আশা নিয়ে বোট লাইসেন্স সার্টিফিকেট (বিএলসি) নবায়ন করতে গেলাম। পড়লাম বিপত্তিতে। বিএলসি নবায়নে ভ্যাটসহ সরকারি ফি মোটে ৩৪ টাকা ৫০ পয়সা। কিন্তু বন কর্মকর্তাদের আশীর্বাদপুষ্ট দালালরা আমাদের কাছ থেকে আদায় করেছে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা। ভাবুন, সরকারি হিসাবে যেখানে পুরো সাতক্ষীরা রেঞ্জের জেলেদের কাছ থেকে মাত্র ২ লাখ ৩৩ হাজার ৮১০ টাকা রাজস্ব পাওয়ার কথা, সেখানে আমাদের কাছ থেকে তোলা হয়েছে অন্তত সাড়ে ২৩ লাখ টাকা! এ অনিয়ম ঢাকতে নাকি একদল সাংবাদিকের প্রত্যেককে খামে ভরে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে! ঘুষ ঢাকতে ঘুষের প্রয়োগ!
২৩ লাখ টাকা যদি সরকারের কোষাগারে যেত, তাহলে আমাদের আপত্তি ছিল না
দুষ্ট লোকেরা বলছেন, বন কর্মকর্তারা ‘ঘুষের হাট’ বসিয়েছেন। মাছ-কাঁকড়ার হাটের পাশে সাইনবোর্ড তুলে ‘ঘুষের হাট’ বসিয়ে দিলে মন্দ হয় না। আপনাদের তো জায়গার ভাড়া দেওয়ার প্রয়োজন নেই। সবই আপনাদের। ইনভেস্ট বলতে সাইনবোর্ড তোলার খরচটা। ওটাও দিতে হবে বলে মনে হয় না। কারণ, আপনার অধীনদের শুভাকাঙ্ক্ষীর পরিমাণ বেশ ভালোই।
মাছ-কাঁকড়া কিংবা মধু সংগ্রহ করা বেশ খাটনির কাজ, আয়ও কম। তার ওপর বনদস্যু ধরলে তো কথাই নেই। সেদিক থেকে ‘ঘুষের হাটে’ কোনো রিস্ক নেই। বুদ্ধি দিচ্ছি ঠিক, তবে পার্টনার হওয়ার আবদার করব না। গরিব জেলেদের পকেট কাটা ও রাষ্ট্রের টাকা মেরে দেওয়ার কোনো বাসনা আমার নেই।
২৩ লাখ টাকা যদি সরকারের কোষাগারে যেত, তাহলে আমাদের আপত্তি ছিল না। কষ্ট হলেও মেনে নিতাম। কিন্তু টাকা গেল বন কর্মকর্তা ও দালালের পকেটে। প্রজাতন্ত্রে জমিদারির সুযোগ নেই। কিন্তু প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা যদি জমিদারের কাতারে নেমে আসে, তাহলে আমরা কোথায় যাব?
এ বিষয়ে যদি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন, তাহলে রক্ষা পাই। আর যদি না পারেন, সেক্ষেত্রে আপনার অধীনদের বলে দেবেন, তারা যেন তাদের এবং দালালের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নাম্বার আমাদের দেয়। সরাসরি টাকাটা তাদের অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেব। তাতে করে ঝামেলাও কম হবে।
ইতি
সুন্দরবনের এক জেলে





