আগামীর চোখ
উন্নয়ন আছে, চলাচলের জায়গা নেই

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বরাবর
রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ)
আমি রাজশাহীর এক সড়ক। নাম ধরে ডাকতে পারেন, তবে তাতে কী আসে যায়! এই শহরে আমার পরিচয় এখন আর সড়ক নয়— বাসের বিশ্রামাগার, কাউন্টার, পার্কিং আর যাত্রী ওঠানামার এক বহুমুখী প্রতিষ্ঠান। সকাল থেকে গভীর রাত, কখনো রাত পেরিয়ে ভোর— দূরপাল্লার বাসের ভার বইতে বইতে আমার শরীরের বিটুমিন উঠে গেছে, মেরুদণ্ডে ফাটল ধরেছে। অথচ আমার ওপর দিয়ে নগরবাসীর নির্বিঘ্নে চলাচল করার কথা ছিল। সেই নাগরিক অধিকার এখন বাসের চাকার
শুনেছি, ২০০৪ সালে আপনারা ৭ কোটি ১৬ লাখ টাকা খরচ করে নওদাপাড়ায় ৭ দশমিক ৪১ একর জমির ওপর একটি আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল বানিয়েছিলেন। উদ্দেশ্য মহৎ— শহরের ভেতর থেকে দূরপাল্লার বাস সরিয়ে নেওয়া, যানজট কমানো, দুর্ঘটনা ঠেকানো। বাহ! পরিকল্পনার কী সুন্দর স্বপ্ন! সেই স্বপ্নকে বাস্তবে পৌঁছে দিতে চার কিলোমিটার সংযোগ সড়কও বানালেন। পরে সেটি সংস্কার ও প্রশস্ত করতে আরও ৭০ কোটি ৭৮ লাখ টাকা ঢাললেন। এত টাকা খরচ করে
আপনারা টার্মিনাল বানিয়ে উন্নয়নের ছবি তুলেছেন, এখন একটু বাস সরিয়ে উন্নয়নের অর্থটাও উদ্ধার করুন
আমার ওপর প্রতিদিন শত শত বাস এসে দাঁড়ায়। কেউ যাত্রী তোলে, কেউ নামায়, কেউ ইঞ্জিন বন্ধ করে বিশ্রাম নেয়, কেউ আবার ঘণ্টার পর ঘণ্টা এমনভাবে শুয়ে থাকে, যেন এই শহরের মালিকানার দলিল তার নামে লেখা। শিরোইল, ভদ্রা, রেলগেট, তালাইমারী— সবখানে একই দশা। ৭৫০টি বাসের নগরীতে ৩০০টির বেশি বাস যদি সড়কের ওপরই পড়ে থাকে, তাহলে নগরবাসী হাঁটবে কোথায়? চলার জায়গাটুকুও এখন তাদের জন্য বিলাসিতা।
আপনারা নিশ্চয়ই বলবেন, নওদাপাড়া টার্মিনাল তো আছে! আছে বৈকি। সেখানে কাদাপানি, গর্ত, ভাঙা সীমানাপ্রাচীর, অপর্যাপ্ত আলো, নিরাপত্তাহীনতা— সবই আছে। শুধু বাস আর যাত্রী নেই। যাত্রীদের জন্যও এমন ব্যবস্থা রেখেছেন যে, সেখানে যেতে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হয়, নিরাপত্তার চিন্তা করতে হয়। ফলে বাসেরাও আপনাদের টার্মিনালকে দূর থেকে সালাম জানিয়ে আমার বুকেই আশ্রয় নেয়।
জনাব, আমি আর কত ভার বইব? আমার ওপর দিয়ে অ্যাম্বুলেন্স যায়, স্কুলের শিশু যায়, কর্মজীবী মানুষ যায়। রাজশাহীতে রাস্তা আছে, টার্মিনাল আছে, উন্নয়ন আছে— শুধু চলাচলের জায়গা নেই।
আপনারা টার্মিনাল বানিয়ে উন্নয়নের ছবি তুলেছেন, এখন একটু বাস সরিয়ে উন্নয়নের অর্থটাও উদ্ধার করুন।
ইতি
এক ক্লান্ত সড়ক



