আগামীর চোখ
আছেন, আবার নেই

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বরাবর
জেলা প্রশাসক (ডিসি), মুন্সীগঞ্জ জেলা
শ্রোডিঞ্জারের বিড়ালতত্ত্বে একটি বিড়ালকে জীবিত ও মৃত দুভাবেই কল্পনা করে নিতে হয়। পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্ররা এভাবেই কল্পনা করে আসছেন এতকাল। পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র আমি নই। বেশ আগে একবার শুনেছিলাম বলে আজও তত্ত্বটা আবছা মনে রয়ে গেছে। সম্প্রতি একটা বাস্তব প্রয়োগও দেখলাম। যদিও এর সঙ্গে বিজ্ঞানের কোনো যোগসূত্র নেই।
ঘটনা হলো– সিরাজদিখান উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) অফিস সহায়ক আলী হোসেন দুই বছর ধরে কর্মস্থলে উপস্থিত না থেকেও হাজিরা খাতায় উপস্থিত রয়েছেন। পাশাপাশি লতব্দী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের হাজিরা খাতায়ও তিনি উপস্থিত; সশরীরে অফিসও করছেন সেখানে! আপনার এই কর্মচারী কোন মন্ত্রবলে প্রতিদিন এসিল্যান্ড অফিস থেকে সোজা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে স্বাক্ষর করে ফেলছেন, তার কূলকিনারা করতে পারি না। শ্রোডিঞ্জারের বিড়ালতত্ত্ব ছাড়া এটা কি সম্ভব বলুন? এই ‘দ্বৈত উপস্থিতি’র সুবিধা অনেক। উপজেলা ভূমি অফিসে দায়িত্ব পালন না করেও যেমন বেতন মিলছে, তেমনি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে নামজারি করে মিলছে উপরি আয়। লোভ সামলানো দায় হলেও পদ ছাড়া যাবে না। ‘আম-ছালা’ দুটোই রাখতে হবে এবং আলী হোসেন তা রাখতে পারছেনও। স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নামজারির নির্ধারিত সরকারি ফির পরোয়া না করে আলী হোসেন সাহেব কাজের ধরন বুঝে ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা চেয়ে থাকেন। দীর্ঘ ১০-১১ বছর একই এলাকায় থাকার সুবাদে কর্মপরিবেশও তার নিয়ন্ত্রণে। নিশ্চয়ই দীর্ঘ অভিজ্ঞতারই সুফল!
‘দ্বৈত উপস্থিতি’ প্রয়োগ করে উপরি কামাই করে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু দায়িত্বশীলরা বুঝি কোনো আঁচ পাননি?
আলী হোসেন না হয় ‘দ্বৈত উপস্থিতি’ প্রয়োগ করে উপরি কামাই করে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু দায়িত্বশীলরা বুঝি কোনো আঁচ পাননি? উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ ঘটনা নাকি এতদিন তার জানাই ছিল না! তিনি খোঁজ নেবেন এবং অভিযোগ সত্য হলে ব্যবস্থা নেবেন। যেখানে একটা উপজেলায় সরকারি গাছের ডাল কাটলে তাদের কানে খবর চলে আসে, এমনই যাদের নেটওয়ার্ক সিস্টেম; সেখানে ভূমি অফিসের অফিস সহকারী মাসের পর মাস ‘ডাবল ওয়ার্ক’ চালিয়ে যাচ্ছেন, সেটির কোনো খবরই তারা পাচ্ছেন না! ভাবা যায়?
যাই হোক, আলী হোসেনদের মতো কর্মচারীদের যদি নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তাহলে আগামীতে হয়তো দেখা যাবে– তারা সিরাজদিখানে বসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করছেন আর কর্মদিবস কাটাচ্ছেন ইউরোপ বা আমেরিকার কোনো দ্বীপে!
ইতি
এক সচেতন নাগরিক



