রূপপুরের বিদ্যুৎ গ্রিডে দিতে যত ধাপ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
রূপপুরের মাধ্যমে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী বিশ্বের ৩৩তম দেশ হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা ছাড়াও এই উদ্যোেগর চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও নিরবচ্ছিন্নভাবে ৬০ বছরের অধিক বিদ্যুৎ উৎপাদন নিশ্চিত করা। এই জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি কাজের বিভিন্ন ধাপ উপস্থাপন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভােগর অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি যুক্তরােষ্ট্রর এমআইটিতে নিউক্লিয়ার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগেরও সাবেক ভিজিটিং অধ্যাপক
খুব শিগগির হয়তো একদিন খবরে দেখব, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। দিনটি হবে ঐতিহাসিক। তবে এই অর্জনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার ইতিহাস, নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান এবং স্বস্তি ও আনন্দের মুহূর্ত। একটি দেশের সঙ্গে চুক্তি করলেই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ শেষ হয়ে যায় না। এর পেছনে রয়েছে বিশাল কর্মযজ্ঞ। শুরুতেই অর্থায়ন, প্রযুক্তি নির্বাচন ও ভূরাজনৈতিক সমীকরণের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে সরকারকে দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এরপর মানবসম্পদ গড়ে তোলার জন্য পারমাণবিক প্রযুক্তিবিষয়ক শিক্ষা চালু, পারমাণবিক আইন প্রণয়ন, নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ও পরিচালনাকারী কোম্পানি প্রতিষ্ঠা এবং আন্তর্জাতিক পারমাণবিক সুরক্ষা, নিরাপত্তা ও অস্ত্রবিস্তার রোধ-সংক্রান্ত কনভেনশনগুলোতে পক্ষভুক্ত হতে হয়।
রূপপুরে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি চুল্লি স্থাপনের জন্য ২০১১ সালে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের সঙ্গে চুক্তি করা হয়। প্রকল্পটিতে রাশিয়ার ৯০ শতাংশ অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তা বাস্তবায়িত হচ্ছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ ও চালুকরণ প্রক্রিয়াকে চারটি ধাপে ভাগ করা হয়েছে— ধাপ-এ থেকে ধাপ-ডি।
ধাপ-এ হলো চুল্লি চালুর আগের প্রস্তুতিমূলক পর্যায়। এটি সবচেয়ে দীর্ঘ ধাপ, যার জন্য পরিকল্পনায় মোট ৫৫ মাস ধরা হয়েছিল। ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর প্রথম ইউনিটের চুল্লির ভিত্তিপ্রস্তরের কংক্রিট ঢালাইয়ের মাধ্যমে নির্মাণকাজ শুরু হয়। এ পর্যায়ের ৩৯ মাস ধরে চলে সাইট সমীক্ষা, পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ ও তা মোকাবিলার ব্যবস্থা গ্রহণ, চুল্লির নকশা প্রণয়ন, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং অবকাঠামো নির্মাণের কাজ। পাশাপাশি ছিল পারমাণবিক আইন প্রণয়ন, নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ও পরিচালনাকারী কোম্পানি প্রতিষ্ঠা এবং আন্তর্জাতিক পারমাণবিক সুরক্ষা ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত কনভেনশনে অংশগ্রহণসহ নানা প্রস্তুতিমূলক কাজ। এ ছাড়া বিভিন্ন যন্ত্রপাতি স্থাপন, লাইসেন্স গ্রহণের নিয়মকানুন প্রণয়ন এবং চুল্লি পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়।
এরপর শুরু হয় বিভিন্ন সিস্টেমের পরীক্ষা। বিদ্যুৎ সরবরাহ, শীতলীকরণ, বায়ু চলাচল, নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন সিস্টেম প্রথমে আলাদাভাবে, পরে সমন্বিতভাবে পরীক্ষা করা হয়। পাম্প ঠিকমতো চলছে কি না, ভাল্ভ যথাযথভাবে খুলছে ও বন্ধ হচ্ছে কি না— এসব বিষয় যাচাই করতে আরও প্রায় ৯ মাস সময় লাগে।
এরপর আসে চুল্লির নিজস্ব ব্যবস্থাগুলোর পরীক্ষা। চুল্লির চারপাশে থাকা শক্তিশালী কংক্রিটের আবরণ বা কনটেইনমেন্টের উদ্দেশ্য হলো দুর্ঘটনার মতো পরিস্থিতিতেও তেজস্ক্রিয় পদার্থকে নির্ধারিত সীমানার মধ্যে আটকে রাখা। এ পর্যায়ের জন্য এক মাস সময় ধরা ছিল। এরপর চুল্লির মূল পানি সঞ্চালন ব্যবস্থা প্রথমে ঠান্ডা অবস্থায় এবং পরে গরম অবস্থায় চালিয়ে পরীক্ষা করা হয়। এই কাজে প্রায় তিন মাস সময় লাগে। সবশেষে আরও তিন মাস মূল যন্ত্রপাতি খুলে বিস্তারিত পরীক্ষা করা হয়। এদিকে প্রথম ইউনিটের প্রয়োজনীয় পারমাণবিক জ্বালানি ২০২৩ সালের অক্টোবরেই প্রকল্প এলাকায় পৌঁছে যায়।
ধাপ-বি হলো ফিজিক্যাল স্টার্টআপ বা চুল্লি চালুর প্রাথমিক ধাপ। এ পর্যায়ে চুল্লি চালু করার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাগুলো আবারও ধাপে ধাপে পরীক্ষা করা হয়। পরিকল্পনায় এ কাজের জন্য দুই মাস সময় বরাদ্দ ছিল। ২০২৬ সালের ২৮ এপ্রিল চুল্লিতে জ্বালানি লোডিং শুরু হয়। এ সময় চুল্লিকে এমন অবস্থায় রাখা হয়, যাতে নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা ছাড়া স্বয়ংসম্পূর্ণ চেইন বিক্রিয়া শুরু হতে না পারে। প্রকৌশলীরা তখন যন্ত্রের সাহায্যে নিউট্রন পরিমাপ করা, নিয়ন্ত্রণ দণ্ড ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরীক্ষা করেন।
ধাপ-বির শেষ পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো প্রথম ক্রিটিক্যালিটি বা চুল্লির প্রথম পারমাণবিক বিক্রিয়া পরীক্ষা। এ পর্যায়ে প্রথমবারের মতো নিয়ন্ত্রিত ফিশন চেইন বিক্রিয়া শুরু হয়, তবে চুল্লির পূর্ণ ক্ষমতার ১ শতাংশেরও কম শক্তিতে। তখনো বিদ্যুৎ উৎপাদন মূল লক্ষ্য নয়; বরং চুল্লি নকশা অনুযায়ী কাজ করছে কি না, তা যাচাই করাই প্রধান উদ্দেশ্য।
ধাপ-বি সম্পন্ন করতে পরিকল্পনায় দুই মাস সময় বরাদ্দ থাকলেও এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময় গড়িয়ে যায়। সেপ্টেম্বরে চুল্লির চাপ কমানোর নিরাপত্তা ভাল্ভে ত্রুটি ধরা পড়ায় চুল্লির পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু করতে বিলম্ব হয়। রুশ বিশেষজ্ঞরা ত্রুটি সংশোধন করেন। এরপর ৮ অক্টোবর নিয়ন্ত্রক সংস্থা অনুমোদন দেওয়ায় ১১ অক্টোবর চুল্লিকে প্রথমবারের মতো ক্রিটিক্যাল অবস্থায় নেওয়া হয়।
ধাপ-সি হলো পাওয়ার স্টার্টআপ বা বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর পর্যায়। পরিকল্পনায় এ ধাপ সম্পন্ন করতে এক মাস সময় ধরেছে। এ পর্যায়ে চুল্লির তাপে বাষ্প তৈরি হবে, যা টারবাইন জেনারেটরকে ঘোরাবে। এর মাধ্যমে জেনারেটরের যান্ত্রিক শক্তি বিদ্যুৎশক্তিতে রূপান্তর হবে। তবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য চুল্লির তাপীয় ক্ষমতা ধাপে ধাপে বাড়াতে হবে এবং প্রতিটি পর্যায়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও মূল্যায়ন সম্পন্ন করতে হবে। প্রথমে ৫, পরে ১০ ও ১৫ শতাংশ এবং এরপর প্রায় ৩৫ শতাংশ তাপীয় ক্ষমতায় পৌঁছানোর পর উৎপন্ন বাষ্পের সাহায্যে টারবাইন জেনারেটর ঘুরিয়ে প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহ করার কথা রয়েছে। এটি অর্জিত হলে তা হবে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তবে গ্রিডের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের আগে জেনারেটর ও গ্রিডের মধ্যে প্রয়োজনীয় সামঞ্জস্য ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে। এত বড় একটি ইউনিটকে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করা গ্রিড ব্যবস্থাপনার জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। কারণ, কোনো কারণে ইউনিটটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে গ্রিডকে সেই আকস্মিক বিদ্যুৎ ঘাটতি মোকাবিলার সক্ষমতা রাখতে হবে। বর্তমানে এই ধাপের কার্যক্রম চলছে।
গ্রিডে যুক্ত হওয়ার পর শুরু হবে শেষ ধাপ, অর্থাৎ ধাপ-ডি (পাইলট বাণিজ্যিক পরিচালনা)। এ পর্যায়ের জন্য ১০ মাস সময় বরাদ্দ রয়েছে। এ সময় চুল্লির উৎপাদনক্ষমতা ধাপে ধাপে বাড়িয়ে পূর্ণ ক্ষমতা, অর্থাৎ ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের কাছাকাছি নেওয়া হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কমিয়েও পরীক্ষা করা হবে। এর মাধ্যমে যাচাই করা হবে, বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিভিন্ন মাত্রায় চুল্লি ও জাতীয় গ্রিড সমন্বিতভাবে কতটা স্থিতিশীলভাবে কাজ করে। ধাপ-ডি শেষে হবে সাময়িক হস্তান্তর। এরপর শুরু হবে ১২ মাসের গ্যারান্টি মেয়াদ এবং সবশেষে সম্পন্ন হবে চূড়ান্ত হস্তান্তর। এর পর দীর্ঘমেয়াদি, অর্থাৎ ৫ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় লাইসেন্স গ্রহণ করতে হবে।
চারটি ধাপ সম্পন্ন করতে সব মিলিয়ে পরিকল্পিত সময় ধরা হয়েছিল ৬৮ মাস, অর্থাৎ প্রায় ছয় বছর। বাস্তবে অবশ্য এর চেয়ে বেশি সময় লাগছে। নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল ২০১৭ সালের শেষ দিকে। চলতি বছরের শেষে প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হলে নির্মাণ শুরুর পর প্রায় ৯ বছর পেরিয়ে যাবে। দ্বিতীয় ইউনিটের কমিশনিং আগামী বছর শুরু হওয়ার কথা। এ ইউনিটের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৮ সালের ১৪ জুলাই ভিত্তিপ্রস্তরের কংক্রিট ঢালাইয়ের মাধ্যমে।
চারটি ধাপ সম্পন্ন করতে সব মিলিয়ে পরিকল্পিত সময় ধরা হয়েছিল ৬৮ মাস, অর্থাৎ প্রায় ছয় বছর। চলতি বছরের শেষে যদি প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়, তাহলে বাস্তবে অবশ্য নির্মাণ শুরুর পর প্রায় ৯ বছর পেরিয়ে যাবে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাস্তবায়নে নির্ধারিত সময়ের তুলনায় অতিরিক্ত বিলম্বের পেছনে বেশ কয়েকটি বৈশ্বিক ও জাতীয় কারণ রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কভিড-১৯ মহামারী, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব, আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় জটিলতা এবং জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামো প্রস্তুতে বিলম্ব। কভিড-১৯ মহামারীর কারণে প্রকল্পের নির্মাণকাজ, যন্ত্রপাতি সরবরাহ এবং বিদেশি বিশেষজ্ঞদের যাতায়াত ব্যাহত হয়। পরে ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হলে রাশিয়ার ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে আর্থিক লেনদেন, বিশেষ করে সুইফটভিত্তিক অর্থ পরিশোধ এবং যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সরঞ্জাম আমদানিতে জটিলতা দেখা দেয়।
অন্যদিকে, রূপপুর থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালনের জন্য প্রয়োজনীয় ৪০০ কেভি ও ২৩০ কেভি সঞ্চালন লাইন এবং পদ্মা ও যমুনা নদীর ওপর রিভার-ক্রসিং অবকাঠামো নির্মাণেও বিলম্ব হয়েছে। এ ছাড়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রি-কমিশনিং ও মূল কমিশনিং কার্যক্রম এবং পারমাণবিক সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, যন্ত্রপাতির ত্রুটি শনাক্ত ও সংশোধন এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রক পর্যালোচনা ও অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতেও অতিরিক্ত সময় নিয়েছে। বিশেষ করে চুল্লি চালুর প্রাথমিক পর্যায় শেষ করতে পরিকল্পিত দুই মাসের পরিবর্তে শুধু প্রেসার রিলিফ সেফটি ভাল্ভের ত্রুটি সংশোধনেই অতিরিক্ত ছয় মাস সময় প্রয়োজন হয়েছে। সব মিলিয়ে নবাগত দেশ হিসেবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের পর্যায়ে পৌঁছাতে মূল পরিকল্পনার তুলনায় প্রায় তিন বছর পিছিয়ে পড়াকে খুব বেশি বিলম্ব বলা যায় না। কারণ, নবাগত দেশ হিসেবে প্রথম ইউনিট থেকে প্রথমবারের মতো জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের পর্যায়ে পৌঁছাতে বেলারুশের সাত বছর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের আট বছর লেগেছিল।
তবে এই ৯ বছরে মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার উল্লেখযোগ্য অবমূল্যায়ন হয়েছে। প্রকল্পের মূল প্রস্তাবে প্রতি ডলারের বিনিময় হার প্রায় ৮০ টাকা ধরা হলেও পরে তা বেড়ে ১২২ টাকার বেশি হয়েছে। এর ফলে ডলারে নির্ধারিত ঋণ ও প্রকল্পের বৈদেশিক ব্যয়ের বিপরীতে টাকায় পরিশোধযোগ্য অর্থের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অন্যান্য ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে বিনিময় হারজনিত প্রভাব মিলিয়ে প্রকল্পের মোট ব্যয়ও বেড়েছে প্রায় ২৫-২৬ হাজার কোটি টাকা। এই অতিরিক্ত আর্থিক চাপ মোকাবিলা করা এবং ভবিষ্যতে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের দায় সামাল দেওয়া বাংলাদেশের জন্য একটি বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে প্রচলিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো দ্রুত বিদ্যুৎ পাওয়ার প্রত্যাশা করা যায় না। শুরুর দিকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ কম থাকবে আর পরীক্ষার প্রয়োজনে মাঝেমধ্যে উৎপাদন কমানো বা বন্ধ রাখাও স্বাভাবিক। রূপপুরের সাফল্য নির্ভর করছে প্রতিটি ধাপ যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়েছে কি না এবং নির্ধারিত সুরক্ষা ও নিরাপত্তার মানদণ্ড পূরণ করা হয়েছে কি না,
সেটির ওপর।
রূপপুরের মাধ্যমে বাংলাদেশ পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী বিশ্বের ৩৩তম দেশ হতে যাচ্ছে। প্রথমবারের মতো জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারলে নিঃসন্দেহে এটি হবে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তবে সেটিই চূড়ান্ত গন্তব্য নয়। প্রকৃত লক্ষ্য হলো নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও নিরবচ্ছিন্নভাবে ৬০ বছর অধিক বিদ্যুৎ উৎপাদন নিশ্চিত করা। এই দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য অর্জনের সক্ষমতা অবশ্য নির্ভর করবে পাইলট বাণিজ্যিক পরিচালনার ১০ মাস এবং পরবর্তী এক বছরের গ্যারান্টি মেয়াদে সফলভাবে পরিচালনার ওপর।
লেখক: অধ্যাপক, নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়





