প্রতিরোধে চাই সমন্বিত উদ্যোগ

প্রতীকী ছবি
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার বর্তমানে এক গভীর সামাজিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রায় প্রতিদিনই কিশোরদের মারামারি, ছিনতাই, মাদক সেবন, চাঁদাবাজি, ভাঙচুর ও নানাবিধ সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ার খবর আসছে। এসব ঘটনা শুধু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিই নির্দেশ করে না; বরং দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিয়েও শঙ্কা জাগায়। যে বয়সটি হওয়ার কথা ছিল স্বপ্ন দেখা, পড়াশোনা করা, খেলাধুলা ও মেধা বিকাশের— সে বয়সেই অনেকে অপরাধচক্রে জড়িয়ে পড়ছে। একটি সুস্থ ও স্বাভাবিক সমাজের জন্য এটি কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।
কিশোর গ্যাং গড়ে ওঠার
পেছনে রয়েছে বহুমুখী পারিবারিক ও সামাজিক কারণ। পরিবারের অসচেতনতা ও অবহেলা, মা-বাবার
অতিরিক্ত ব্যস্ততা, পারিবারিক কলহ, অসৎ সঙ্গ, নৈতিক শিক্ষার অভাব এর প্রধান কারণ। ব্যস্ততার
কারণে অনেক অভিভাবকই সন্তানের গতিবিধি, মেলামেশা কিংবা মানসিক অবস্থা সম্পর্কে জানার
সুযোগ পান না। ফলে কিশোররা অনায়াসেই অসৎ চক্রের প্রভাবে অপরাধের পথে পা বাড়ায়। এ ছাড়া
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার, ইন্টারনেটে সহিংসতাকে বীরত্ব হিসেবে উপস্থাপন এবং
দ্রুত খ্যাতি পাওয়ার প্রবণতা এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে। মাঠের অভাব এবং সাংস্কৃতিক
কর্মকাণ্ড ও সৃজনশীল চর্চার সুযোগ কমে যাওয়াও কিশোরদের সুস্থ পরিবেশ
থেকে দূরে ঠেলে দিচ্ছে।
এই সংকট নিরসনে সর্বপ্রথম পরিবারকেই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সন্তানকে শুধু আর্থিক সুবিধা দিলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; তার মানসিক বিকাশ, মেলামেশা, আচরণ ও প্রতিদিনের কর্মকাণ্ডের প্রতিও সচেতন নজর রাখা আবশ্যক। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নৈতিক শিক্ষা, কাউন্সেলিং, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের চর্চা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
সামাজিকভাবে এই সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ধর্মীয় প্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। কিশোরদের ইতিবাচক কাজে যুক্ত রাখতে বিনোদন, দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজের সুযোগ সৃষ্টি করা দরকার।
অপরাধে জড়িয়ে পড়া কিশোরদের শুধু ‘অপরাধী’ হিসেবে না দেখে তাদের পুনর্বাসন, মানসিক বিকাশ ও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ নিশ্চিত করা সমান জরুরি।
লেখক: গণমাধ্যমকর্মী, ঢাকা




